শীতে বেড়েছে চর্মরোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ
শীতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ঠান্ডাজনিত নানা রোগের পাশাপাশি চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসালয়ে প্রতিদিনই খোসপাঁচড়া, দাদ, টিনিয়া ও অ্যালার্জিজনিত চর্ম সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ভিড় বাড়ছে। সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে দেখা গেছে, সারিবদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর পাশাপাশি চর্মরোগজনিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বেশিরভাগ রোগীই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থতা না পেয়ে হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসা নিতে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শীত শুরুর পর থেকেই বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এ ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগী তীব্র চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি, ত্বকের শুষ্কতাসহ অ্যালার্জিজনিত চর্মরোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায় বলে মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। এর সঙ্গে
শীতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ঠান্ডাজনিত নানা রোগের পাশাপাশি চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসালয়ে প্রতিদিনই খোসপাঁচড়া, দাদ, টিনিয়া ও অ্যালার্জিজনিত চর্ম সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ভিড় বাড়ছে।
সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে দেখা গেছে, সারিবদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর পাশাপাশি চর্মরোগজনিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বেশিরভাগ রোগীই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থতা না পেয়ে হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসা নিতে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শীত শুরুর পর থেকেই বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এ ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগী তীব্র চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি, ত্বকের শুষ্কতাসহ অ্যালার্জিজনিত চর্মরোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায় বলে মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, শীতের কাপড় নিয়মিত না ধোয়া এবং দীর্ঘদিন একই কাপড় ব্যবহার করার কারণে অ্যালার্জিজনিত নানা রোগ, খোসপাঁচড়া ও ছত্রাকজনিত রোগ ছড়াচ্ছে। অসচেতন ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে এসব সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলেন, শীতের সময় ত্বকের যত্ন না নিলে দাদ, টিনিয়া ও অ্যালার্জির মতো রোগ দ্রুত ছড়ায়। শীতের এই সময়টায় ত্বকের বাড়তি যত্ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও পরিষ্কার কাপড় পরিধান করা জরুরি। আক্রান্ত রোগী প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চর্মরোগে আক্রান্ত কয়েকজন রোগী ও রোগীর স্বজন জানান, শীতের শুরু থেকেই চর্মরোগ বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। শুরুতে গুরুত্ব না দেওয়ায় সমস্যা বেড়ে গেছে। যে কারণে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি রোগীকে সচেতনতা অবলম্বন ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সামিয়া নামে এক রোগী বলেন, আমার শরীরের কয়েক জায়গায় দাউদ (দাদ) হয়েছে। ফার্মেসি থেকে কয়েকবার করে ওষুধ ও মলম নিয়ে ব্যবহার করেছি। প্রথমদিকে ভালো হয়ে গেলেও পরে আবারও দেখা দেয়। এজন্য হাসপাতালে এসেছি।
দেড় বছর বয়সী শিশু মুনতাহাকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন তার মা বিলকিস আক্তার। বিলকিস আক্তার বলেন, গরমের সময়টায় মুনতাহার অ্যালার্জির সমস্যা ছিল না। শীত পড়ার কিছুদিন পর থেকেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাড়ির পাশের ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিয়ে কোনো উপকার না পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অরূপ সিংহ কালবেলাকে বলেন, শীত মৌসুমে চর্মরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে এসব রোগ থেকে রক্ষা পেতে ত্বক শুষ্ক হওয়া রোধে নিরাপদ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ও পরিষ্কার কাপড় পরা জরুরি। চর্মরোগজনিত যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসক অরূপ সিংহ বলেন, শীতকালে চর্মরোগ বৃদ্ধি পায়। চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের আমরা চিকিৎসা ও বিনামূল্যের ওষুধ এবং পরামর্শ দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীরা ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা না নিয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। ভুল চিকিৎসায় চর্মরোগ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য রোগী ও রোগীর স্বজনদের সচেতন হওয়া জরুরি।
What's Your Reaction?