শুরুতে অনীহা, পরে সাংবাদিকদের চাপে নাম প্রকাশ প্রার্থীদের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার শেষ দিনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিসিবিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান শুরুতে শুধু মনোনয়নপত্রের সংখ্যা জানালেও পরে সাংবাদিকদের চাপের মুখে নাম প্রকাশ করতে বাধ্য হন। যদিও ক্লাব থেকে কারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সেটা জানাননি তিনি। প্রথমে নাম প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাহেরুল বলেন, ‘আমাকে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় যেতে পারবেন।’ এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, অন্যান্য নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানকারীদের নাম তাৎক্ষণিক প্রকাশ করা হলেও এখানে কেন তা করা হচ্ছে না। জবাবে তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিষয়েই একটা প্রাইভেসি থাকে। এখন বিভিন্ন কারণে সেটি লঙ্ঘিত হতে পারে বা অকার্যকরও হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা আছে, যেগুলোর কারণে কোনো ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। যেমন ধরুন তার সুনামহানি (ইনফামি), দায়

শুরুতে অনীহা, পরে সাংবাদিকদের চাপে নাম প্রকাশ প্রার্থীদের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার শেষ দিনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার বিসিবিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান শুরুতে শুধু মনোনয়নপত্রের সংখ্যা জানালেও পরে সাংবাদিকদের চাপের মুখে নাম প্রকাশ করতে বাধ্য হন। যদিও ক্লাব থেকে কারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সেটা জানাননি তিনি।

প্রথমে নাম প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাহেরুল বলেন, ‘আমাকে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় যেতে পারবেন।’

এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, অন্যান্য নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানকারীদের নাম তাৎক্ষণিক প্রকাশ করা হলেও এখানে কেন তা করা হচ্ছে না।

জবাবে তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিষয়েই একটা প্রাইভেসি থাকে। এখন বিভিন্ন কারণে সেটি লঙ্ঘিত হতে পারে বা অকার্যকরও হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা আছে, যেগুলোর কারণে কোনো ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। যেমন ধরুন তার সুনামহানি (ইনফামি), দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার অভাব বা সামর্থ্য না থাকা। এছাড়া যদি ফৌজদারি কোনো মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, কিংবা অন্য কোনো ফেডারেশন বা বোর্ডে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে—এ ধরনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় আসে।’

তবে সাংবাদিকরা যুক্তি দেন, মনোনয়ন জমা দেওয়া মানেই একজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, ফলে সেখানে ‘প্রাইভেসি’র প্রশ্ন আসে না।

এ সময় এক সাংবাদিক বলেন, ‘আপনারা যখন বলবেন যে আমরা জানাচ্ছি না, এখন তো এখানেও একটা অস্বচ্ছ জিনিস থেকে যায়।’ জবাবে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘আপনারা যেটাকে সমস্যা ভাবতেছেন, আমি এটাকে কোনো সমস্যাই ভাবছি না।’

আরেক দফা প্রশ্নোত্তরের পর তিনি বলেন, ‘আপনারা যেহেতু আমাকে চাপ দিচ্ছেন…কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছিল যে এই নির্দেশনা আমার এখানে দেওয়া নাই।’

শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের দাবির মুখে বিভাগভিত্তিক মনোনয়ন জমাদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রেস রিলিজ আকারে সরবরাহ করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

পরে বিভাগভিত্তিক মনোনয়ন জমাদানকারীদের নাম প্রকাশ করা হয়। ঢাকা অঞ্চল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাইদ বিন জামান, এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ও জসিমউদ্দিন খান খসরু। চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ফর্ম জমা দিয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মইন উদ্দীন চৌধুরী ও ফেনীর শরীফুল ইসলাম। রাজশাহী অঞ্চল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বগুড়ার মীর শাকরুল আলম। রংপুর অঞ্চল থেকে রয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন।

খুলনা অঞ্চল থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শফিকুল আলম, সান্তনু ইসলাম ও আব্দুস সালাম। বরিশাল অঞ্চল থেকে ফর্ম জমা দিয়েছেন ভোলার মোন্তাসির এবং বরিশাল বিভাগের মিজানুর রহমান। সিলেট অঞ্চল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম। আর ক্যাটাগরি-৩ এ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তবে ক্লাব থেকে কারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সেটা জানানো হয়নি।

এসকেডি/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow