শেয়ারবাজারে গতি ফেরার আশা
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার হচ্ছে। আস্থাহীন ও অনিশ্চয়তার কারণে গতিহীন হয়ে পড়া শেয়ারবাজারে গতি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় আগামী কয়েকদিন শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিয়ে যদি বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থায়ী হতে পারে। নতুন সরকারের ওপর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনেক। বর্তমানে শেয়ারবাজারের সিংহভাগ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে রয়েছে। অনেকের লোকসানের পরিমাণ ৭০-৮০ শতাংশ। এই লোকসান বিনিয়োগকারীরা সহসা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না।-বিনিয়োগকারী মিজানুর রহমান তারা আরও বলছেন, বাজারে এখন আস্থার সংকট হবে না। তবে বাজারের গতি ফেরাতে এবং ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন সরকারের জন্য শেয়ারবাজারের মূল চ্যালেঞ্জ হবে নতুন ভালো ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার হচ্ছে। আস্থাহীন ও অনিশ্চয়তার কারণে গতিহীন হয়ে পড়া শেয়ারবাজারে গতি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় আগামী কয়েকদিন শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিয়ে যদি বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থায়ী হতে পারে।
নতুন সরকারের ওপর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনেক। বর্তমানে শেয়ারবাজারের সিংহভাগ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে রয়েছে। অনেকের লোকসানের পরিমাণ ৭০-৮০ শতাংশ। এই লোকসান বিনিয়োগকারীরা সহসা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না।-বিনিয়োগকারী মিজানুর রহমান
তারা আরও বলছেন, বাজারে এখন আস্থার সংকট হবে না। তবে বাজারের গতি ফেরাতে এবং ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন সরকারের জন্য শেয়ারবাজারের মূল চ্যালেঞ্জ হবে নতুন ভালো ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনা।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ মন্দার কারণে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম এখন অবমূল্যায়িত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাজারে টাকার অভাব হবে না। শেয়ারবাজারে মন্দার মূল কারণ ছিল আস্থার সংকট। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার কারণে এই আস্থা সংকট এখন এমনিতেই কেটে যাবে। বিনিয়োগের জন্য সাইড লাইনে বসে থাকা অনেক বিনিয়োগকারী এখন সক্রিয় হবেন।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, বাজার মূলত আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়ায়। এখন প্রয়োজন নীতিগত ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের স্পষ্ট বার্তা। নির্বাচন ঘিরে অনেকেই নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত ছিলাম। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়বে।
ডিএসইর আরেক সদস্য বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এখন শেয়ারবাজারে গতি ফিরবে, এটা স্বাভাবিক। তবে শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যথেষ্ট নয়, বাজারে টেকসই গতি ফেরাতে প্রয়োজন শক্তিশালী করপোরেট আয়, ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই শেয়ারবাজার নিয়ে কমিটমেন্ট করেছে। এই কমিটমেন্ট যদি ধরে রাখে তাহলে অবশ্যই আমরা একটি ভালো শেয়ারবাজার পাবো। আমাদের একটাই প্রত্যাশা যে কমিটমেন্ট দিয়ে সরকার আসছে, ওনারা সেই কমিটমেন্ট রাখবেন।-ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম
তিনি বলেন, ‘যদি নতুন সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে।’
সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর দেশের শেয়ারবাজারে যে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে, তা এখন নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বাস্তব অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে টেকসই ধারায় রূপ নিতে পারে কি না সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী।
আরও পড়ুন
ভোটের আগে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান
শেয়ারবাজারে ‘পচা’ শেয়ারের দাপট
গতিহীন শেয়ারবাজার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। আমাদের ধারণা আগামী কয়েকদিন বাজার ভালো থাকবে। তবে বাজারের এই ভালো পরিস্থিতি স্থায়ী করতে হলে দ্রুত কিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার আনতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগবান্ধব পলিসি নিতে হবে।’
শেয়ারবাজারের জন্য সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ভালো কোম্পানির কিছু আইপিও আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ব্যাংকে যেন লুটপাট না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা আশা করছি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই শেয়ারবাজার নিয়ে কমিটমেন্ট করেছে। এই কমিটমেন্ট যদি ধরে রাখে তাহলে অবশ্যই আমরা একটি ভালো শেয়ারবাজার পাবো। আমাদের একটাই প্রত্যাশা যে কমিটমেন্ট দিয়ে সরকার আসছে, ওনারা সেই কমিটমেন্ট রাখবেন।’
সামনে শেয়ারবাজারের জন্য চ্যালেঞ্জ কী দেখছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে আইপিও খরা চলছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ভালো কোম্পানির আইপিও আনা। আর বাজার ভালো রিটার্ন দিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটোমেটিক বেড়ে যাবে। তাছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।’
বিনিয়োগকারী মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন সরকারের ওপর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনেক। বর্তমানে শেয়ারবাজারের সিংহভাগ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে রয়েছে। অনেকের লোকসানের পরিমাণ ৭০-৮০ শতাংশ। এই লোকসান বিনিয়োগকারীরা সহসা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তবে আমরা চাই সরকার এমন পদক্ষেপ নেবে, যাতে বাজারের ওপর আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা কমে আসে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যে কারণে বাজারে তারল্য কমে গেছে। তবে নির্বাচনের আগের দুই কার্যদিবসে বাজার যেমন ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তেমনি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। সুতরাং, আশা করা যায়, সামনে বাজারে বিনিয়োগ বাড়বে এবং লেনদেনের গতিও বাড়বে। একই সঙ্গে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকবে।’
আইপিওহীন বাজার
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওকে শেয়ারবাজারের ‘নতুন রক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের শেয়ারবাজারে সবশেষ আইপিও এসেছে টেকনো ড্রাগস। ২০২৪ সালের জুনে এই কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে। এরপর আর কোনো কোম্পানির আইপিও আসেনি। অর্থাৎ, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শেয়ারবাজারে আইপিও আসা বন্ধ রয়েছে। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসার ঘটনা আর ঘটেনি।
সবশেষ ২০২৫ সালে কোনো আইপিও না এলেও ২০২৪ সালে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করে চারটি কোম্পানি। তার আগে ২০২৩ সালে ৪টি, ২০২২ সালে ৬টি, ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২০ সালে ৮টি, ২০১৯ সালে ৯টি, ২০১৮ সালে ১৪টি, ২০১৭ সালে ৮টি, ২০১৬ সালে ১১টি, ২০১৫ সালে ১২টি, ২০১৪ সালে ২০টি, ২০১৩ সালে ১২টি, ২০১২ সালে ১৭টি, ২০১১ সালে ১৩টি, ২০১০ সালে ১৮টি এবং ২০০৯ সালে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের আইপিও আসে।
এমএএস/এএসএ
What's Your Reaction?