শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীসহ ৭৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় বিএনপির এমপি প্রার্থী রুবেলসহ ৭৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ২৩১ জনের নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলায় নামে-বেনামে মোট ৭৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়াম এলাকায় নির্বাচনী ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যার পর আবার সংঘর্ষ শুরু হলে মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহতের জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীসহ ৭৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় বিএনপির এমপি প্রার্থী রুবেলসহ ৭৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ২৩১ জনের নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলায় নামে-বেনামে মোট ৭৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়াম এলাকায় নির্বাচনী ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যার পর আবার সংঘর্ষ শুরু হলে মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহতের জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেরপুর জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জামায়াতের সূরা সদস্য মাওলানা মো. আব্দুল বাতেন বলেন, “আমাদের একজন দায়িত্বশীল নেতা নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর- ৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই আসনের ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র। জামায়াত নেতারা চাইলে সংঘর্ষ এড়িয়ে যেতে পারতেন। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বারবার বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাঁধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করেছেন। তারই পরিণতিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।”

এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “গত ২৮ জানুয়ারি জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় গত রাতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে ২৩১ জনকে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে আরও ৫০০ জন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow