শেরপুরে বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতি বছরই বন্যা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় নদীটি এখন স্থানীয়দের কাছে আশীর্বাদ নয়, বরং মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নদী খননের অভাবে হারিয়েছে নাব্যতা। আবার নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে এক সময়ের খরস্রোতা নদীটি এখন অনেকটা খালে রূপ নিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা মহারশি নদী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়া এবং নদীর বুকে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় নদীটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পেরে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় কয়েকটি গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, দিঘীরপাড় গ্রাম এবং দিঘীরপাড় ফাজিল মাদরাসাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারও, প্রথম দফায় গত ১৩ মে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৩ জুনের পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। দ্বিতীয় দফার ঢলে রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, খৈলকুড়া ও দিঘীরপাড়সহ অন্তত
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় নদীটি এখন স্থানীয়দের কাছে আশীর্বাদ নয়, বরং মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নদী খননের অভাবে হারিয়েছে নাব্যতা। আবার নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে এক সময়ের খরস্রোতা নদীটি এখন অনেকটা খালে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা মহারশি নদী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়া এবং নদীর বুকে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় নদীটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পেরে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় কয়েকটি গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, দিঘীরপাড় গ্রাম এবং দিঘীরপাড় ফাজিল মাদরাসাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা।
প্রতি বছরের মতো এবারও, প্রথম দফায় গত ১৩ মে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৩ জুনের পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। দ্বিতীয় দফার ঢলে রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, খৈলকুড়া ও দিঘীরপাড়সহ অন্তত চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়। দিঘীরপাড় এলাকায় তিনটি বসতঘর ভেঙে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে আরও কয়েকটি বাড়িঘর নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় খামারি বিন ইয়ামিন বলেন, ‘কয়েকবছর আগে হঠাৎ করে মধ্য রাতে ঢল এসে নদীর অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে আমার মুরগির খামার মাটিসহ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল চোখের সামনে ভেসে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিতে প্রায় দুই যুগ কেটে গেছে। এখন আর আশ্বাস নয়, আমরা নদী খনন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের বাস্তবায়ন চাই।’
ঝিনাইগাতী বণিক সমিতির সভাপতি মোকসেদুর রহমান মক্কু বলেন, ‘প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে নদীর পাড় ভেঙে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।‘
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘উপজেলাবাসীকে রক্ষায় মহারশি নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।‘
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, `মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি। প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াগত কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন হলেই প্রকল্পটি টেন্ডারে যাবে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরেই বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।‘
মো. নাঈম ইসলাম/এফএ/এমএস
What's Your Reaction?