শেষ আজানে শেষ হলো মুয়াজ্জিন আইয়ুব আলীর ২৫ বছরের পথচলা

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পটুয়াখালীর মুসলিম পাড়া জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন আইয়ুব আলী মৃর্ধা। অবশেষে বিদায়ের পালা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদে খেদমত করেছেন আইয়ুব আলী। ২০০১ সালে তিনি যোগদানের সময় মসজিদের অবকাঠামো ছিল বেশ জরাজীর্ণ। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদটির ব্যাপক উন্নয়ন হয়। বর্তমানে এটি পটুয়াখালীর একটি পরিচিত মসজিদে পরিণত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে নিয়মিত আজান দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মুসল্লিদের জন্য নামাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ওজুখানা দেখভালসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন আইয়ুব আলী। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে শেষবারের মতো আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি ঘটে। এসময় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জায়নামাজ, তাসবিহ, টুপি, পায়জামাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী বক্ত

শেষ আজানে শেষ হলো মুয়াজ্জিন আইয়ুব আলীর ২৫ বছরের পথচলা

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পটুয়াখালীর মুসলিম পাড়া জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন আইয়ুব আলী মৃর্ধা। অবশেষে বিদায়ের পালা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদে খেদমত করেছেন আইয়ুব আলী। ২০০১ সালে তিনি যোগদানের সময় মসজিদের অবকাঠামো ছিল বেশ জরাজীর্ণ। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদটির ব্যাপক উন্নয়ন হয়। বর্তমানে এটি পটুয়াখালীর একটি পরিচিত মসজিদে পরিণত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে নিয়মিত আজান দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মুসল্লিদের জন্য নামাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ওজুখানা দেখভালসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন আইয়ুব আলী।

সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে শেষবারের মতো আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি ঘটে।

শেষ আজানে শেষ হলো মুয়াজ্জিন আইয়ুব আলীর ২৫ বছরের পথচলা

এসময় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জায়নামাজ, তাসবিহ, টুপি, পায়জামাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

বিদায়ী বক্তব্যে আইয়ুব আলী মৃর্ধা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন এ মসজিদের খেদমতে ছিলাম। আমার কথাবার্তা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন। এ মসজিদ ছেড়ে যেতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তবে অসুস্থতার কারণে বিদায় নিতে হচ্ছে। কমিটি যে অর্থ সহায়তা দিয়েছে, তা দিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আমার হজে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।’

মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ আব্দুল কাদের বলেন, ‘তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ মসজিদের উন্নয়নের সঙ্গে তার অবদান জড়িয়ে আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হলেও তিনি সবসময়ই আমাদের মসজিদের অংশ হয়ে থাকবেন।’

মসজিদ কমিটির সদস্য গোলাম আহাদ দুলু বলেন, ‘এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মুয়াজ্জিনকে বিদায় জানানোর নজির খুব বেশি নেই। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সম্মান জানাতে পেরে আনন্দিত। সমাজে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বিদায়ের সংস্কৃতি গড়ে ওঠা উচিত।’

মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow