শেষ সময়ে দম ফেলার ফুরসত নেই কামারপাড়ায়
আর মাত্র ৩ দিন পরেই ঈদুল আজহা। ফলে শেষ সময়ে টাঙ্গাইলের কামারপাড়ার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোরবানির কাজে ব্যবহৃত লোহার সরঞ্জাম বানানো ও শান দেওয়ার কাজে তারা ব্যস্ত। এতে কামারপাড়ায় দোকানগুলোতে লোহার টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার ১২টি উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম। এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কামারের দোকানগুলোতে। কামাররা নতুন তৈরির সঙ্গে পুরনো দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। আবার মোটরচালিত মেশিনে শান দেওয়ার কাজও চলছে। বছরের অন্য সময়ে ব্যস্ততা কম থাকলেও এখন দম ফেলার সময় নেই তাদের। দিন-রাত সমানতালে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের প্রভাব পড়লেও এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। তবে গত বছরের চেয়ে এবার লোহা, কয়লা ও মজুরির দাম বেশি। বর্তমানে পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা, দেশি কাঠের দা ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, বঁটি ১ কেজি ৫শ’ টাকা দেড় কেজি ৮শ’ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি (বড়) ১৭শ’ থেকে ২শ’ টাকা, চাপাতি ৬শ’ থেক
আর মাত্র ৩ দিন পরেই ঈদুল আজহা। ফলে শেষ সময়ে টাঙ্গাইলের কামারপাড়ার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোরবানির কাজে ব্যবহৃত লোহার সরঞ্জাম বানানো ও শান দেওয়ার কাজে তারা ব্যস্ত। এতে কামারপাড়ায় দোকানগুলোতে লোহার টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার ১২টি উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম। এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কামারের দোকানগুলোতে। কামাররা নতুন তৈরির সঙ্গে পুরনো দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। আবার মোটরচালিত মেশিনে শান দেওয়ার কাজও চলছে। বছরের অন্য সময়ে ব্যস্ততা কম থাকলেও এখন দম ফেলার সময় নেই তাদের। দিন-রাত সমানতালে তাদের কাজ করতে হচ্ছে।
বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের প্রভাব পড়লেও এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। তবে গত বছরের চেয়ে এবার লোহা, কয়লা ও মজুরির দাম বেশি।
বর্তমানে পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা, দেশি কাঠের দা ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, বঁটি ১ কেজি ৫শ’ টাকা দেড় কেজি ৮শ’ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি (বড়) ১৭শ’ থেকে ২শ’ টাকা, চাপাতি ৬শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়, চাইনিজ কুড়াল ৮শ’ থেকে ১ হাজায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে দেখা যায়, দোকানের ভেতর জ্বলছে কয়লার আগুন। ভাটির আগুনে লোহা লাল হয়ে উঠতেই শুরু হচ্ছে হাতুড়ির আঘাত। একের পর এক আঘাতে নিখুঁত আকার নিচ্ছে কোরবানির সরঞ্জাম। পুরো এলাকায় যেন অন্যরকম এক কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। ক্রেতারাও দোকানগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে।
কামারপল্লির কামররা জাগো নিউজকে জানান, কয়লা ও লোহার দাম অনেক বেশি। তাই তৈরিকৃত সরঞ্জাম বিক্রি বেশি হলেও লাভ কম হয়। তবে গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। তবে ঈদের আগে তিনদিন বিক্রির ধুম পড়বে। কাজের চাপে তাদের এখন দম ফেলার সময় নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
পার্ক বাজারে ৩০ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত প্রবাস চন্দ্র দাস।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে অনেক। এখন চাপাতি, ছুরি, বঁটি এগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। দিন-রাত আমাদের ঘুম নেই। একতালেই কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কয়লার সংকট। যার কারণে দামও কিছুটা বেড়েছে। এবার আশা করছি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করতে পারবো। দোকানে ৫ লাখ টাকার মালামাল তুলেছি। এই এক মাসের কাজ দিয়ে ৬ মাস ভালোভাবে চলা যায়।
আরেক কামার হানিফ মিয়া বলেন, এবার বেচাকেনা খুবই ভালো। দুই-তিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। নতুন সরঞ্জামারে বিক্রির পাশাপাশি, পুরাতন কাজও করছি। লোহার দামও বেশি। গতবছর সীমিত লাভ হয়েছিল। আশা করছি এবার ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারবো।
কামার আনন্দ কর্মকার বলেন, এ পেশার সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর ধরে জড়িত। এবার সব কিছুর খরচ বেশি। একদিকে কারিগরের মজুরি বেশি, অন্যদিকে কয়লা ও লোহার দামও বেশি। গত বছর ছুরি সেখানে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেগুলো ১৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ।
শ্রমিকরা জানান, এখন আমাদের কাজের চাপ অনেক বেশি। ভোর থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। ঘুমের সময়ই পাচ্ছি না। প্রতিদিন ১১শ’ টাকা করে মজুরি পাচ্ছি। এই টাকা দিয়েই আমাদের সংসারের খরচ চালাতে হয়।
ক্রেতারা জানান, কয়দিন পরেই কোরবানির ঈদ। তাই কোরবানির পশু কাটার জিনিস কিনতে এসেছি। আগের চেয়ে দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
বড় বাসালিয়া থেকে আগত ক্রেতা হারেচ আলী বলেন, কোরবানির ঈদের জন্য চাপাতি কিনতে এসেছি। দাম চাওয়া হচ্ছে ৮শ’ থেকে ৯শ’। তবে এবার গত বছরের তুলনায় দাম বেশি।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?