শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে রাখেন ছেলে
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ওই বাগানে ফেলে যান ছেলে মো. জনি। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মামলাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হওয়ায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং প্রতিদিন তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ত
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ওই বাগানে ফেলে যান ছেলে মো. জনি। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মামলাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হওয়ায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং প্রতিদিন তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একপর্যায়ে মো. জনি নামে এক ব্যক্তির ওপর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি পুলিশকে জানান, ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কলাবাগানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তাকে। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন। গ্রেফতারকৃত জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য।
মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব জানান, এ মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তদন্ত টিম দিন-রাত পরিশ্রম করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার করা গেছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শরীফুল ইসলাম/কেএইচকে
What's Your Reaction?