শ্যামল বণিক অঞ্জনের কবিতা 

তুমি আর সময়      স্রোতধারার মতো প্রবহমান সময়  আপন গতিতে বয়ে চলে নির্দ্বিধায় ; স্বেচ্ছায় পরিস্থিতিতে রঙ বদলায়  এটা কারও কাছে প্রশ্ন কিংবা উত্তর।    তুমিও ঠিক চলছো একই ধারায়  একটুখানি দাঁড়াবার ফুরসত নেই ;  যেন রহস্যময় কালের সাক্ষী মানবী যে ক্ষণে ক্ষণে রুপ বদলায় ভঙ্গিমায়।      এখন কবিতা লেখার সময়   এখন কবিতা লেখার সময় নয়, কবির জীবন আজ সঙ্কটাপন্ন। কবি মাঝে মধ্যেই উপোস করে- যোগাড় হয় না এক মুঠো চালের পয়সা নূন আনতে পান্তা ফুরায় রোজ। একটা কলমের জন্য স্বভাব কবির কবিতাগুলো অভাবের অতলে হারায় প্রায়ই।    বাস্তবতার যাতাকলে পিষ্ট- কবির সমস্ত আবেগ আর অনুভূতি। ধূলোপড়া ডায়েরির ভাঁজে ভাঁজে-  উঁইপোকা গড়েছে নিরাপদ বসতি। তিরস্কার করে প্রতিনিয়ত অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি, জীবন সংগ্রামে লিপ্ত নির্বিকার কবিপত্নী  ছেঁড়া শাড়ির আঁচলে লুকোয় স্তনযুগল, সংসার নামক মহাসাগরে সাঁতার কাটে প্রতি মুহূর্ত।      এখন আর কবিতা লেখার সময় নয়- কবি ও কবিতা আজ নিকষ অন্ধকারে পতিত।     নারী   খরস্রোতা নদীর মতো দু'কুল ভেঙেছ নারী! সদ্য ভাসানো সোনার তরীটি ডুবে গেছে তোমার প্রবল পরাক্রমী ঘূর্ণিপাকে। পলাশ ফোটা সবুজ ফাগুনেও রুপ

শ্যামল বণিক অঞ্জনের কবিতা 
তুমি আর সময়      স্রোতধারার মতো প্রবহমান সময়  আপন গতিতে বয়ে চলে নির্দ্বিধায় ; স্বেচ্ছায় পরিস্থিতিতে রঙ বদলায়  এটা কারও কাছে প্রশ্ন কিংবা উত্তর।    তুমিও ঠিক চলছো একই ধারায়  একটুখানি দাঁড়াবার ফুরসত নেই ;  যেন রহস্যময় কালের সাক্ষী মানবী যে ক্ষণে ক্ষণে রুপ বদলায় ভঙ্গিমায়।      এখন কবিতা লেখার সময়   এখন কবিতা লেখার সময় নয়, কবির জীবন আজ সঙ্কটাপন্ন। কবি মাঝে মধ্যেই উপোস করে- যোগাড় হয় না এক মুঠো চালের পয়সা নূন আনতে পান্তা ফুরায় রোজ। একটা কলমের জন্য স্বভাব কবির কবিতাগুলো অভাবের অতলে হারায় প্রায়ই।    বাস্তবতার যাতাকলে পিষ্ট- কবির সমস্ত আবেগ আর অনুভূতি। ধূলোপড়া ডায়েরির ভাঁজে ভাঁজে-  উঁইপোকা গড়েছে নিরাপদ বসতি। তিরস্কার করে প্রতিনিয়ত অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি, জীবন সংগ্রামে লিপ্ত নির্বিকার কবিপত্নী  ছেঁড়া শাড়ির আঁচলে লুকোয় স্তনযুগল, সংসার নামক মহাসাগরে সাঁতার কাটে প্রতি মুহূর্ত।      এখন আর কবিতা লেখার সময় নয়- কবি ও কবিতা আজ নিকষ অন্ধকারে পতিত।     নারী   খরস্রোতা নদীর মতো দু'কুল ভেঙেছ নারী! সদ্য ভাসানো সোনার তরীটি ডুবে গেছে তোমার প্রবল পরাক্রমী ঘূর্ণিপাকে। পলাশ ফোটা সবুজ ফাগুনেও রুপ নিয়েছো-   কালবৈশাখী, সাইক্লোন কিংবা ততধিক শক্তিশালী ঝড়ে। ভেঙে চুড়মার করেছ বিস্তৃর্ণ জনপদ, স্বপ্নের আবাস ভুমিটাকে পরিনত করেছ বিরানভূমিতে, উপহার দিয়েছ গগনবিদারী আর্তনাদ আর হাহাকার! অথচ, পরম মমতায় বহুকালের কঠোর সাধনায় নিমগ্ন থেকে- একদিন সবকিছু তোমারই জন্য নিপূণভাবে সাজিয়েছিলাম  রঙ তুলির আঁচড়ে।   নারী তুমি বুঝোনি চোখের ভাষা? নাকি বুঝতে চাওনি কখনো?  হৃদ স্পন্দনে ধ্বনীত হওয়া প্রেমের পদাবলি শুনতে পাওনি? নাকি নিদারুণ হেয়লীতে চরিতার্থ করেছ খেয়ালী মনের বাসনা? পিশাচিনীর মতো চুষে নিয়েছ আমার সমস্ত অস্তিত্বটাকে!   নারী তুমি মানবিক হও, মনের ভাষা বুঝে নাও প্রশান্তির ডানা মেলে সকল যন্ত্রণার মুক্তি দাও।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow