শ্যামল বণিক অঞ্জনের কবিতা

শুদ্ধ চিত্তে নৈবেদ্য      শুদ্ধ চিত্তে সোনার থালায়  সাজিয়েছি নৈবেদ্য- পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত স্নিগ্ধ ভোরে স্নান সেরেছি বিরহ সাগরে, উপবাস ব্রত পালনের মাঝে সমাপন করবো বলে-  মনস্থির করেছি আরাধ্য দেবীর পূজা অর্চনা। থরে থরে সাজিয়েছি রঙবেরঙের বাহারী ফুল ফল প্রসাদের অসীম উপকরণ। কপালে শ্বেত চন্দনের টিপে- ধান দুর্বা বিল্লপত্রে দেবীর চরণে দিব অঞ্জলী আত্মসমর্পণে। হৃদয়ের সবটুকু ভক্তি ভরে জ্বেলেছি প্রেমের প্রদীপ,  ধূপকাঠির ধোঁয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছি সুবাস আকাশে বাতাসে, স্বর্গের দ্বারে পৌঁছে দেবার প্রয়াসে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বার্তা। এ আয়োজন শুধু মহাযজ্ঞের... নত শিরে মিনতি জানাই হে দেবী, কৃপা করো এই অধম ভক্তকে, দাও দর্শন, বাড়াও দয়ার হাত সর্বহারা মানুষটির তরে, ছড়িয়ে দাও ভুবনজুড়ে শান্তির সু-বাতাস, আলো দাও, ছায়া দাও, দাও তৃষ্ণার জল, বেঁচে থাকার পর্যাপ্ত রসদে হয়না যেন ছল। সীমার মাঝে অসীম তুমি হে প্রাণেশ্বরী! রামচন্দ্রের মতো আমিও অকাল বোধনে আনবো তোমায় ধরায়, পূজিবো যতন করে পরম মমতায়। কথা দিলাম- খুঁজে আনবো একশত আটটা নীলপদ্ম ত্রিভুবন ঘুরে তোমার কৃপায় উড়াবো শান্তির পতাকা এ বিশ্ব জুড়ে।

শ্যামল বণিক অঞ্জনের কবিতা

শুদ্ধ চিত্তে নৈবেদ্য 

 

 

শুদ্ধ চিত্তে সোনার থালায়  সাজিয়েছি নৈবেদ্য-

পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত স্নিগ্ধ ভোরে স্নান সেরেছি বিরহ সাগরে,

উপবাস ব্রত পালনের মাঝে সমাপন করবো বলে- 

মনস্থির করেছি আরাধ্য দেবীর পূজা অর্চনা।

থরে থরে সাজিয়েছি রঙবেরঙের বাহারী ফুল ফল প্রসাদের অসীম উপকরণ।


কপালে শ্বেত চন্দনের টিপে-

ধান দুর্বা বিল্লপত্রে দেবীর চরণে দিব অঞ্জলী আত্মসমর্পণে।

হৃদয়ের সবটুকু ভক্তি ভরে জ্বেলেছি প্রেমের প্রদীপ, 

ধূপকাঠির ধোঁয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছি সুবাস আকাশে বাতাসে,

স্বর্গের দ্বারে পৌঁছে দেবার প্রয়াসে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বার্তা।

এ আয়োজন শুধু মহাযজ্ঞের...

নত শিরে মিনতি জানাই হে দেবী,

কৃপা করো এই অধম ভক্তকে,

দাও দর্শন, বাড়াও দয়ার হাত সর্বহারা মানুষটির তরে,

ছড়িয়ে দাও ভুবনজুড়ে শান্তির সু-বাতাস,

আলো দাও, ছায়া দাও, দাও তৃষ্ণার জল,


বেঁচে থাকার পর্যাপ্ত রসদে হয়না যেন ছল।
সীমার মাঝে অসীম তুমি হে প্রাণেশ্বরী!

রামচন্দ্রের মতো আমিও অকাল বোধনে আনবো তোমায় ধরায়,

পূজিবো যতন করে পরম মমতায়।


কথা দিলাম-

খুঁজে আনবো একশত আটটা নীলপদ্ম ত্রিভুবন ঘুরে

তোমার কৃপায় উড়াবো শান্তির পতাকা এ বিশ্ব জুড়ে।


 

মাটি ও মানুষ


মাটি ও মানুষের সম্পর্ক অনন্ত কালের-

মানুষ মাটির তৈরি,

গ্রন্থ বলে এমন কথা;

একদিন আবার মাটিতেই বিলিন হয় মাটির দেহখানি।

কেউ মাটির টানে মাটি করে জীবনের মূল্যবান অধ্যায়,

পড়ে থাকে মাটি কামড়ে মাটির মায়ায় আবদ্ধ হয়ে।

কারো সুখ, স্বপ্ন, আশা মাটি হয় এই মাটির বুকে;

আবার কেউ রচনা করে দুর্দান্ত বহুমাত্রিক ইতিহাস,

সাফল্যের সোপানে ভেসে বেড়ায় আমৃত্যু।

মাটি আর মানুষ, মা আর সন্তান তুল্য-

জন্ম - জন্মান্তর বন্ধনে আবদ্ধ।

মাটিও নিঃস্বার্থভাবে দিয়ে যায় দুহাত ভরে সর্বস্ব,

মানুষও বুকের রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ-

মাটির মর্যাদা রক্ষায়।

 

 


নেপথ্যের সংলাপ

 


অসীম কষ্ট, নষ্ট আবেগ, পথ ভ্রষ্ট স্বপ্নগুলো।
ভুল পথে-
 
ভ্রান্ত রথে সীমাহীন পদচারণ। 

ফুলের কাঁটা-

রক্ত ঝরায় নিশি দিন,

স্বার্থের ভালোবাসা অর্থহীন। 

ব্যর্থতায় আগামীর মহাপরিকল্পনা- 

প্রিয়তমার বুকে আবিষ্কার বিষের সাগর,

শ্রীমুখে দৃশ্যমান হায়েনার কুৎসিত প্রতিচ্ছবি,

হরিণীর চোখে জ্বলন্ত অগ্নিগিরির মুখচ্ছবি!

 

 


নেপথ্যের সংলাপ

 

নির্বাক স্তব্ধ হৃদযন্ত্র, ক্ষণে ক্ষণে আত্মবিলাপ 

স্বপ্নভঙ্গ! নির্বাসিত সকল গচ্ছিত সংলাপ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow