শ্রীলঙ্কায় সংসদ সদস্যদের পেনশন সুবিধা বাতিল
শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যরা নিজেদের পেনশন সুবিধা বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে-র নেতৃত্বাধীন বামপন্থি সরকার ৪৯ বছরের পুরোনো পার্লামেন্টারি পেনশন অ্যাক্ট বাতিলের এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়। এতে ১৫৪ জন পক্ষে এবং দুজন বিপক্ষে ভোট দেন বলে পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কোনো সংসদ সদস্য এক মেয়াদ অর্থাৎ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করলে পেনশন পেতেন। নতুন আইনের ফলে বর্তমান ও সাবেক উভয় ধরনের আইনপ্রণেতাদের পেনশন সুবিধা বাতিল হলো।
পেনশন বাতিলের এই প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আইনমন্ত্রী হর্ষনা নানায়াক্কারা পার্লামেন্টে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যদের বিতর্কের মান এবং তাদের কর্মকাণ্ড দেখে সাধারণ মানুষ মনে করে না যে তারা পেনশন পাওয়ার যোগ্য।
২২০ সদস্যের এই আইনসভায় সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়; যেখানে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য এর পক্ষে এবং মাত্র ২ জন
শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যরা নিজেদের পেনশন সুবিধা বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে-র নেতৃত্বাধীন বামপন্থি সরকার ৪৯ বছরের পুরোনো পার্লামেন্টারি পেনশন অ্যাক্ট বাতিলের এ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়। এতে ১৫৪ জন পক্ষে এবং দুজন বিপক্ষে ভোট দেন বলে পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কোনো সংসদ সদস্য এক মেয়াদ অর্থাৎ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করলে পেনশন পেতেন। নতুন আইনের ফলে বর্তমান ও সাবেক উভয় ধরনের আইনপ্রণেতাদের পেনশন সুবিধা বাতিল হলো।
পেনশন বাতিলের এই প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আইনমন্ত্রী হর্ষনা নানায়াক্কারা পার্লামেন্টে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যদের বিতর্কের মান এবং তাদের কর্মকাণ্ড দেখে সাধারণ মানুষ মনে করে না যে তারা পেনশন পাওয়ার যোগ্য।
২২০ সদস্যের এই আইনসভায় সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়; যেখানে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য এর পক্ষে এবং মাত্র ২ জন বিপক্ষে ভোট দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যরা অবসরের পর আর কোনো রাষ্ট্রীয় ভাতা পাবেন না।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, সংসদ সদস্যদের অবসরের পর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তিনি যুক্তি দেন, পেনশন না থাকলে অবসরকালীন জীবনের সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে অনেক সংসদ সদস্য দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রলুব্ধ হতে পারেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার সাবেক প্রেসিডেন্টদের জন্য বরাদ্দ বাসভবন, যানবাহন ও হাজারো নিরাপত্তাকর্মী প্রত্যাহার করে নেয়।
সাবেক নেতাদের বিলাসিতা বন্ধে শ্রীলঙ্কা সরকার গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে সরকারি বাংলো ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর পর সাবেক নেতাদের জ্বালানি খরচ, সচিবালয় কর্মী এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া গোটাবায়া রাজাপাকসেও পদত্যাগের পর সরকারি বাংলো ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনীতিবিদদের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই বর্তমান সরকার এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে।