‘সংখ্যালঘুরা এখন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালে দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা কার্যত স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক-এ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, অতীতে অন্তত দাবি করার সুযোগ ছিল, সব নাগরিকের সমান অধিকার আছে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেটা বলার জায়গাটুকুও হারিয়ে গেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মনে আজ এই প্রশ্ন প্রবল, তারা এই রাষ্ট্রে আদৌ সম্মানের সঙ্গে টিকতে পারবেন কি না। অথচ বাংলাদেশ সবার; সব জাতি, বর্ণ, ধর্মের। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোবায়েত ফেরদৌস এসব কথা বলেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আক্রান্ত এলাকা সরেজমিন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমনির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’ এর উদ্যো
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালে দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা কার্যত স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক-এ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
তিনি বলেন, অতীতে অন্তত দাবি করার সুযোগ ছিল, সব নাগরিকের সমান অধিকার আছে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেটা বলার জায়গাটুকুও হারিয়ে গেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মনে আজ এই প্রশ্ন প্রবল, তারা এই রাষ্ট্রে আদৌ সম্মানের সঙ্গে টিকতে পারবেন কি না। অথচ বাংলাদেশ সবার; সব জাতি, বর্ণ, ধর্মের।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোবায়েত ফেরদৌস এসব কথা বলেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আক্রান্ত এলাকা সরেজমিন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমনির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’ এর উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, রাষ্ট্র, আইন ও প্রশাসন যখন প্রান্তিক মানুষের থেকে দূরে সরে যায়, তখন অসহায় মানুষের কাছে ঈশ্বরকে বিচার দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সময়ে সংবিধান অনুযায়ী অন্য ধর্মের মানুষ নিরাপদে-নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে না, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্য কেবল জানমালের ক্ষতি করা নয়, বরং তাদের মধ্যে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করা- যেন তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামের রাউজানে গত ১ নভেম্বর থেকে কমপক্ষে ১২টি সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাহির থেকে তালা লাগিয়ে আগ্নিসংযোগের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, এ পরিবারগুলোর সকলকে পুড়িয়ে মারাই ছিল অগ্নিসংযোগকারীদের উদ্দেশ্য। এছাড়াও মিরসরাইয়ে ৭টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব এলাকার সনাতন ধর্মের মানুষ এখন রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে ঘুমাচ্ছেন এবং নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এমন সহিংসতা ঘটনোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন স্থানে আতংক ছড়িয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অপরাপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’ এর পক্ষ থেকে ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়।
যার মধ্যে রয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সেল গঠন করা; রাউজান ও মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘুদের উপর সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতার তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক আঘাত দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মানবাধিকার কমিশন যাতে এ বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখেন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
জাকির হোসেন তার বক্তব্যে নির্বাচনমুখী সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনপরবর্তী নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, সংখ্যালঘুদের সমস্যাকে আমরা শুধু তাদের সমস্যা হিসেবে দেখি না, এটা সবার সমস্যা। গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। গণঅভ্যুত্থানের পর এখন আর কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খিসা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তাওহীদ আহমেদ রানা, ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশনের পরিচালক মাহবুবা আক্তার।
What's Your Reaction?