সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং সেই অভিপ্রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছে। “পাঁচ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটে গৃহীত সংস্কারকে অস্বীকার করা জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।” তিনি বলেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণভোটই সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি বহন করে। যখন ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তখন তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৮৪ দফা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করেছে। সরকারের বি

সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন : গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং সেই অভিপ্রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছে। “পাঁচ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটে গৃহীত সংস্কারকে অস্বীকার করা জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।” তিনি বলেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণভোটই সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি বহন করে। যখন ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তখন তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৮৪ দফা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করেছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দলীয়করণের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনার পরিপন্থি। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ভোটের ফল প্রকাশ বিলম্বিত করে কারচুপির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।’ বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ‘সহিংসতার পথ পরিহার করে আমরা সংসদ ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ সংসদে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সারাদেশে গণসংযোগ, বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করা হবে। সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে যারা নতুনভাবে দাড়ি পাল্লার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে, তাদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠন সম্প্রসারণ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতের আমির মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্ব সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন। টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রফেসর আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, মুহাম্মদ হোসেন আলী, ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সদর মেট্রো থানা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী এমপি, মহানগর সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow