সংরক্ষিত আসনে একই পরিবারের দুই বোনের লড়াই

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বইছে নতুন আলোচনার হাওয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই চাচাতো বোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন তৃণমূলের প্রধান আলোচনার বিষয়। সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী এবং দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াকু নেত্রী সাদিয়া হক— উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় লড়াইটি এখন ‘রাজনৈতিক ঐতিহ্য বনাম যোগ্যতার’ লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন তার মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী। বাবার আদর্শ ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। গত নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তৃণমূলের একটি অংশের মতে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেটি হবে একজন কিংবদন্তি নেতার অবদানের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় সাদিয়া

সংরক্ষিত আসনে একই পরিবারের দুই বোনের লড়াই
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বইছে নতুন আলোচনার হাওয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই চাচাতো বোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন তৃণমূলের প্রধান আলোচনার বিষয়। সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী এবং দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াকু নেত্রী সাদিয়া হক— উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় লড়াইটি এখন ‘রাজনৈতিক ঐতিহ্য বনাম যোগ্যতার’ লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন তার মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী। বাবার আদর্শ ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। গত নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তৃণমূলের একটি অংশের মতে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেটি হবে একজন কিংবদন্তি নেতার অবদানের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় সাদিয়া হক। আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি তিনবার জেল খেটেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা সাদিয়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক। তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই তার প্রধান শক্তি। জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে এক শক্তিশালী প্রার্থীরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুই প্রার্থীর শক্তির জায়গা ভিন্ন ভিন্ন। আরুণীর ক্ষেত্রে যেখানে পারিবারিক উত্তরাধিকার ও নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে, সেখানে সাদিয়া হকের ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার হলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা। এই দুইয়ের প্রতিযোগিতায় সরিষাবাড়ী বিএনপির তৃণমূল বিভক্ত হয়ে পড়েছে নানা মত ও বিশ্লেষণে। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘মনোনয়ন যিনিই পান না কেন, সিদ্ধান্তটি যেন যোগ্যতা, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দই বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। আমরা এমন একজন প্রার্থী চাই যিনি দলকে সুসংগঠিত করবেন এবং তৃণমূলে ইতিবাচক বার্তা দেবেন।’ সচেতন মহলের মতে, দুই বোনের এই প্রতিযোগিতা কেবল একটি আসনের মনোনয়ন লড়াই নয়; এটি দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড ও ত্যাগের মূল্যায়নের একটি বড় পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ‘ঐতিহ্য’ নাকি ‘অভিজ্ঞতা’— কাকে বেছে নেয়, তা দেখতেই এখন মুখিয়ে আছে জামালপুরবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow