ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন আলোচনায় সংসদের সংরক্ষিত নারী এমপি নির্বাচনের বিষয়টি। ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে আনুপাতিক হারে বিএনপি জোট পেতে যাচ্ছে ৩৫টি আসন। এই দৌড়ে সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজপথের সক্রিয়তার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জোরালো আলোচনায় উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আভাস অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পবিত্র রমজান মাসেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের রাজনৈতিক প্রোফাইল ও বিগত দিনের আন্দোলনের ফিরিস্তি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জমা দিতে শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় নাটোর জেলা থেকে সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।
তুলি ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিবও। সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ছাত্রদলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য।
তুলির বাবা ছিলেন নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তুলির বাবা সারাজীবন বিএনপির জন্য এবং সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের জন্য কাজ করে গেছেন। বাবা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তুলি ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। কলেজে ভর্তির পর থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হন। রাজপথের রাজনীতি করেছেন, করেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রাম। আন্দোলন-সংগ্রামে বহুবার হামলা-মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন রাজপথে থাকার কারণে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন। ২০২১ সালের ১ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের হামলায় রক্তাক্ত হন তুলি। ২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ছাত্রলীগের লোহার রডের আঘাতে সানজিদা তুলি রক্তাক্ত হন। এভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময়ই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনের মহাসমাবেশে পুলিশের হামলার পর বিএনপি ঘোষিত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকেছেন সামনে থেকে। বিগত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন তুলি। ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভোর থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাব ও মৎস্যভবনের সামনের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে লড়াই করেন।
ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেত্রী বলেন, তুলি একজন ক্যান্সারের রোগী হয়েও আন্দোলন-সংগ্রামে কখনো পিছনে ছিলেন না। এমন একজন সংগ্রামী নেত্রীকে বাংলাদেশে মানুষ সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়। তাছাড়া তুলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রায় শতভাগ উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালন করেন। এ কারণে মানুষের মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে অনেক বেশি।
সানজিদা ইয়াসমিন তুলি কালবেলাকে বলেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে ছিল, তাদেরকে যেহেতু দল এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মূল্যায়ন করবে; সেদিক থেকে বিবেচনা করলে অবশ্যই আমি প্রাপ্য। আমার নামে পল্টন থানা এবং রমনা থানায় দুইটা মামলাও রয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ দেন, তবে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো এবং নিজেকে দেশের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ্।
তুলি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় ছিল না। তাই ক্ষমতায় আসার জন্য বিভিন্ন হিসাব-নিকাশের কারণে তখন অনেক ত্যাগীদের হয়তো নমিনেশন দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা দলের নেতাকর্মীরা মেনে নিয়ে নির্বাচন করেছে। তবে দল এখন ক্ষমতায় এসেছে। তাই যারা দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, ত্যাগী, নির্যাতিত, মামলা-হামলার শিকার- তাদের মূল্যায়নের সুযোগ এসেছে; আশা করি, দল তাদের মূল্যায়ন করবে।