সংসদে ‘ব্লাসফেমি’ আইনের জন্য জোর দাবি জানাব
ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ আপনি কীভাবে দেখছেন? সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা: আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে খুব চমৎকার দেখছি। হয়তো একটু সময়ের প্রয়োজন। এ দেশের মাটিতে ইসলামী রাজনীতি নিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ। আপনার পূর্বপুরুষ তো ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ওই আন্দোলন এখনো অব্যাহত আছে কি না? আহমাদ হানজালা: ফরায়েজি আন্দোলন এখন পর্যন্ত কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হয়নি। তবে রাজনীতিক দলের বাইরে সেটা নিয়ে কাজ চলছে। শেষদিকে এসে আপনাকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থিতা দিয়েছে। দলের সঙ্গে আপনি সমন্বয় করেছেন কীভাবে? আহমাদ হানজালা: আমি রাজনীতি সক্রিয়ভাবে প্রথমে আসতে চাইনি। আমার এরকম কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাপে আমাকে রাজনীতির মাঠে আসতে হয়। যখন আসব তখন চিন্তা করলাম কোনো দলীয়ভাবে করব কি না, তখন ‘হ্যাঁ’-‘না’ দুটোরই পরামর্শ পেয়েছিলাম। তখন খুব একটা চাপের মধ্যে পড়ে যাই। এ সময় মোটামুটি প্রত্যেকটি দলই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তাদের নমিনেশন নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় কারও নমি
ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ আপনি কীভাবে দেখছেন?
সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা: আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে খুব চমৎকার দেখছি। হয়তো একটু সময়ের প্রয়োজন। এ দেশের মাটিতে ইসলামী রাজনীতি নিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।
আপনার পূর্বপুরুষ তো ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ওই আন্দোলন এখনো অব্যাহত আছে কি না?
আহমাদ হানজালা: ফরায়েজি আন্দোলন এখন পর্যন্ত কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হয়নি। তবে রাজনীতিক দলের বাইরে সেটা নিয়ে কাজ চলছে।
শেষদিকে এসে আপনাকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থিতা দিয়েছে। দলের সঙ্গে আপনি সমন্বয় করেছেন কীভাবে?
আহমাদ হানজালা: আমি রাজনীতি সক্রিয়ভাবে প্রথমে আসতে চাইনি। আমার এরকম কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাপে আমাকে রাজনীতির মাঠে আসতে হয়। যখন আসব তখন চিন্তা করলাম কোনো দলীয়ভাবে করব কি না, তখন ‘হ্যাঁ’-‘না’ দুটোরই পরামর্শ পেয়েছিলাম। তখন খুব একটা চাপের মধ্যে পড়ে যাই। এ সময় মোটামুটি প্রত্যেকটি দলই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তাদের নমিনেশন নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় কারও নমিনেশন গ্রহণ করতে পারিনি। তবে শেষ মুহূর্তে এসে মনে হলো, যদি নির্বাচন করতেই হয় তাহলে ১১-দলীয় যে জোট হয়েছে, সেই জোটের মাধ্যমেই করব— জোট থেকেও এরকম একটা সিদ্ধান্ত হয়।
কওমি মাদ্রাসায় তো নারীদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কেউ কেউ বলে থাকেন, মানের দিক থেকে সেটি দুর্বল। এর মানোন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
আহমাদ হানজালা: যারা নিউ জেনারেশন আছে বা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, তাদের অভিযোগ থাকবে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি যে, আমাদের কওমি মাদ্রাসার যে নারীরা আছে, তাদের এ শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়ন করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে যেই কাজগুলো একদম করা দরকার, আমরা মুরুব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সেগুলো করার চেষ্টা করব। যদি কোনো কিছু পরিবর্তন করতে হয়, আলোচনার ভিত্তিতে সেটা করব ইনশাআল্লাহ।
আপনি কি মনে করেন বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে ইসলামের মূলনীতিগুলোর কোনো সরাসরি সংঘর্ষ আছে? থাকলে তা নিরসনে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
আহমাদ হানজালা: যে বিষয়গুলো সাংঘর্ষিক থাকবে, আমরা সে বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করব। আলোচনার মাধ্যমে সেই জায়গাগুলো সংশোধন করার চেষ্টা করব।
আপনার এলাকায় তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য কী ধরনের ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগ নেবেন?
আহমাদ হানজালা: আমার দেশের ছেলেরা কর্মসংস্থান না পেয়ে খুব কষ্ট করে বিদেশে যায়। তারা জীবনবাজি রেখে লিবিয়া হয়ে ইতালি যায়। এতে কত তরুণের প্রাণ সাগরপথেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। আমি চাই যে, এমন সুন্দর কিছু কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, যাতে তরুণরা দেশে বসেই কাজ করে নিজেদের জীবন চালাতে পারে। পরিবারের হাল ধরতে পারে।
আপনি কি সংসদে গিয়ে ‘ব্লাসফেমি আইন’ বা মহানবী (সা.)-এর অবমাননার বিরুদ্ধে কোনো কড়া আইন প্রণয়নের দাবি জানাবেন?
আহমাদ হানজালা: ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, এ দেশে কয়েক দিন পরপরই বিশ্বমানবের আইডল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইজ্জত-সম্মানে আঘাত করা হয়। একজন মুসলিম হিসেবে জাতীয় সংসদ থেকে আমার প্রথম বক্তব্যের মধ্যে ব্লাসফেমি আইনের জন্য জোরদার দাবি জানাব।
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার সংকোচন নিয়ে আলেমদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংসদে গিয়ে আপনি কি কারিকুলাম পরিবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবেন?
আহমাদ হানজালা: যেহেতু আমাদের সবকিছুর আলাদা আলাদা সেক্টর আছে, তাই যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রয়োজনের খাতিরে আলোচনার মাধ্যমে আমি প্রস্তাব দেব।
রাজনীতিতে আলেমদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনেক নেতিবাচক প্রচারণা আছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আপনি কীভাবে প্রমাণ করবেন যে, আলেমরাই সেরা শাসক হতে পারেন?
আহমাদ হানজালা: কারণ, আলেমরা কখনো দুর্নীতি করবে না। কারও ওপর অন্যায় বা জুলুম করবে না। চাঁদাবাজি করবে না। আজকে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এই সংসদ সদস্য হওয়ার পথে গিয়ে দেখেন কত জায়গায় এটাকে ব্যবহার করে কত অন্যায় করা হয়েছে, কত জুলুম করা হয়েছে। কিন্তু আমার মতো হানজালারা যখন জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছে, তখন আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা নিতে পারবে না। অবিচার করতে পারবে না। জুলুম করতে পারবে না। এজন্য আলেমরাই দেখিয়ে দিতে পারবে যে, তাদের হাতে দেশ ও জাতি কত নিরাপদ।
মাদারীপুরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় যে ডাক্তার সংকট এবং দালাল চক্রের কথা শোনা যায়, তা দমনে আপনার নজরদারি কেমন হবে?
আহমাদ হানজালা: আমার উল্লেখযোগ্য প্ল্যানগুলোর মধ্যে এ স্বাস্থ্যব্যবস্থা অন্যতম একটা প্ল্যান। কারণ, আমার এলাকার মানুষের কিছু হলেই তাদের ঢাকামুখী হতে হয়। এটা চরম দুর্ভোগের। সে ক্ষেত্রে আমার টার্গেট আছে, আমার শিবচরে আইসিউ বেড একটা-দুইটা হলেও চালু করব এবং আমার এলাকার কাউকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে না হয়, পরিপূর্ণ একটা ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমি শিগগিরই চালু করব ইনশাআল্লাহ। আর দালাল চক্রের বিষয়ে যে কথা বলছেন, আমি বিশ্বাস করি এখন থেকে কেউ সেখানে দালালি করতে পারবে না। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আগামী পাঁচ বছরে আপনি আপনার সংসদীয় এলাকাকে কি একটি ‘মডেল ইসলামী টাউন’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, নাকি সাধারণ আধুনিক নগরী?
আহমাদ হানজালা: আমি চাই একটা মডেল ইসলামী টাউন হোক। কারণ, ওই মাটি হাজি শরীয়তুল্লাহর পবিত্র মাটি। আর ইসলামী মডেল টাউন মানেই তো আধুনিক নগরী।
What's Your Reaction?