সক্ষমতার ৫০ শতাংশ উৎপাদন হয় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো অতি নগণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যে সক্ষমতা আছে দিনে গড়ে তার ৫০ শতাংশ উৎপাদন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুতের সম্প্রসারণ হয়েছে। সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট (অন-গ্রিড)। সেই হিসেবে দেশে এখন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মোট সক্ষমতার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেশে অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। তবে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে এর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিগত কিছু সমস্যা আছে। কোনো একটা কম্পোনেন্টে ঘাটতি আছে। এজন্য আমরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি উৎপাদন করতে পারছি। এটি আরও বেশি হওয়া উচিত।-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ই
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো অতি নগণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যে সক্ষমতা আছে দিনে গড়ে তার ৫০ শতাংশ উৎপাদন হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুতের সম্প্রসারণ হয়েছে। সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট (অন-গ্রিড)। সেই হিসেবে দেশে এখন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মোট সক্ষমতার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
সব মিলিয়ে দেশে অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। তবে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে এর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিগত কিছু সমস্যা আছে। কোনো একটা কম্পোনেন্টে ঘাটতি আছে। এজন্য আমরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি উৎপাদন করতে পারছি। এটি আরও বেশি হওয়া উচিত।-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম
বাতাসের বেগ কম থাকায় যেমন বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়, তেমনিভাবে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে পানির প্রবাহ কম থাকলেও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়। তাছাড়া সূর্যের আলো সব সময় না পাওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও কমবেশি হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কার অংশ কত
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান সৌরবিদ্যুতের। সৌর খাতে অফ-গ্রিডে ৩৭৭ দশমিক ৪৩ মেগাওয়াট এবং অন-গ্রিডে ১ হাজার ৭৪ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটসহ মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫২ দশমিক ১৬ মেগাওয়াট।
বায়ুবিদ্যুৎ থেকে ৬২ মেগাওয়াট এবং জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, যা পুরোপুরি অন-গ্রিড ব্যবস্থার আওতায়। বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা শূন্য দশমিক ৬৯ মেগাওয়াট এবং বায়োমাস থেকে শূন্য দশমিক ৪ মেগাওয়াট, যা সম্পূর্ণ অফ-গ্রিডভিত্তিক।
সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে জেনারেশন কমবে। আবার হাউড্রোর ক্ষেত্রে পানির উচ্চতা কম থাকলে সেখানেও জেনারেশন কমবে। এগুলো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি।-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম
সব মিলিয়ে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে অফ-গ্রিডে ৩৭৮ দশমিক ৫২ মেগাওয়াট এবং অন-গ্রিডে ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।
স্রেডার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সৌরবিদ্যুতের আধিপত্য বেশি। অন-গ্রিড ব্যবস্থাই উৎপাদনের প্রধান অংশ বহন করছে।
সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য বলছে, গত ১২ মে সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৭৬৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি জলবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৮২ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন
সৌর বিদ্যুৎ: সম্ভাবনার আলো এবং জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথরেখা
৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার
১০ হাজার ৬১২ কোটি টাকা খরচে তিন জেলায় হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
জ্বালানি সংকটে পথ দেখাচ্ছে চীন, তিব্বতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপ্লব
১২ মে ডে পিকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৮১৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জলবিদ্যুৎ ৭৭ মেগাওয়াট, সৌরবিদ্যুৎ ৫৬২ মেগাওয়াট ও বায়ুবিদ্যুৎ ৩ মেগাওয়াট।
১১ মে সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৬১১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জলবিদ্যুৎ ৮২ মেগাওয়াট, বায়ুবিদ্যুৎ ৭ মেগাওয়াট।
১১ মে ডে পিক আওয়ারে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জলবিদ্যুৎ ৮০ মেগাওয়াট, সৌরবিদ্যুৎ ৬৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বেশিরভাগই আসে সৌরবিদ্যুৎ থেকে। রাতে সূর্যালোক না পাওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকে। ১১ ও ১২ মে’র ডে পিকের উৎপাদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১২ মে ডে পিকে মোট উৎপাদিত ১৩ হাজার ৮১৪ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৪২ মেগাওয়াট ছিল নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, যা মোট উৎপাদনের ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যেহেতু ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে সক্ষমতার ৪৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ উৎপদান হয়।
১১ মে ডে পিকে মোট উৎপাদিত ১৩ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াটের মধ্যে ৭৭০ মেগাওয়াট ছিল নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, যা মোট উৎপাদনের ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যেহেতু ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট সেই হিসেবে সক্ষমতার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ উৎপাদন হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিগত কিছু সমস্যা আছে। কোনো একটা কম্পোনেন্টে ঘাটতি আছে। এজন্য আমরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি উৎপাদন করতে পারছি। এটি আরও বেশি হওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এরকম হওয়ার কথা নয়। বিশ্বের কয়েকটা দেশ আছে যাদের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। তারা মাঝে মধ্যে বন্ধ করে রাখে। তবে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কাজেই এটি হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি অনুসন্ধান করা উচিত।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে জেনারেশন কমবে। আবার হাউড্রোর ক্ষেত্রে পানির উচ্চতা কম থাকলে সেখানেও জেনারেশন কমবে। এগুলো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি।’
এনএস/এএসএ/এমএফএ
What's Your Reaction?