সন্তানকে ছুঁয়ে দেখা হলো না অহনার, ভুল রক্তে মৃত্যু

নতুন প্রাণের আগমনে যে ঘরটি আনন্দে ভরে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। বগুড়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ ও চিকিৎসকের অবহেলায় আফরিন জাহান অহনা (১৯) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর পৃথিবীর আলো দেখেছে তার নবজাতক সন্তান। তবে ফুটফুটে সেই সন্তানের মুখটি আর দেখে যেতে পারলেন না অহনা। শনিবার (৩০ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তার নবজাতক সন্তানটি সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (৩১ মে) পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্তান প্রসবের জন্য অহনাকে শহরের খান্দার এলাকার ‌‘সুস্বাস্থ্য’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। অহনার স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার শুরুতেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা নিয়ে চরম গাফিলতি করে। বারবার জানতে চাওয়া হলে ক্লিনিক থেকে জানানো হয়, অহনার রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’। সেই ত

সন্তানকে ছুঁয়ে দেখা হলো না অহনার, ভুল রক্তে মৃত্যু

নতুন প্রাণের আগমনে যে ঘরটি আনন্দে ভরে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। বগুড়ার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ ও চিকিৎসকের অবহেলায় আফরিন জাহান অহনা (১৯) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

অস্ত্রোপচারের পর পৃথিবীর আলো দেখেছে তার নবজাতক সন্তান। তবে ফুটফুটে সেই সন্তানের মুখটি আর দেখে যেতে পারলেন না অহনা। শনিবার (৩০ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তার নবজাতক সন্তানটি সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (৩১ মে) পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্তান প্রসবের জন্য অহনাকে শহরের খান্দার এলাকার ‌‘সুস্বাস্থ্য’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

অহনার স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার শুরুতেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা নিয়ে চরম গাফিলতি করে। বারবার জানতে চাওয়া হলে ক্লিনিক থেকে জানানো হয়, অহনার রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই স্বজনরা রক্ত সংগ্রহ করেন এবং তা অহনার শরীরে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু রক্ত দেওয়ার পর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে স্বজনদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অহনাকে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকেরা জানান, অহনার প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’। ভুল গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশ করায় ততক্ষণে অহনার শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মেয়েকে হারিয়ে বাবা আব্দুস সালাম ও মা বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন। তারা বলেন, ‘ভুল রক্ত দিয়ে আর ডাক্তারদের অবহেলায় ওরা আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।’

স্ত্রীকে হারিয়ে স্তব্ধ স্বামী মৃদুল ইসলাম। নিথর হয়ে যাওয়া স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্থ মা আর সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসার নামে এই অবহেলা আমার স্ত্রীকে কেড়ে নিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পর থেকেই ‘সুস্বাস্থ্য’ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ক্লিনিকে গেলে তা তালাবন্ধ পাওয়া যায়।

যোগাযোগ করা হলে বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে আছে। থানায় এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলবি/এসআর

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow