সন্ত্রাসী বুইশ্যার সহযোগী ইদ্রিস গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বুইশ্যা বাহিনী’র প্রধান শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইদ্রিস প্রকাশ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) নগর পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ইমরান কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ইদ্রিস (২৭) কুখ্যাত সন্ত্রাসী বুইশ্যার ঘনিষ্ট সহযোগী ও রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে। এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় চান্দগাঁও থানাধীন ফরিদার পাড়া এলাকা থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র সহ ধরা পড়ে বুইশ্যা বাহিনী’র প্রধান শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যা। চুরি ও ছিনতাই দিয়ে অপরাধজগতে প্রবেশ করা বুইস্যা পরে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। পুলিশের একাধিক জরিপ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম নগরের সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলোর পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহদ্দারহাট ফিনলে স্কয়ার শপিং মলের পাশের খালপাড় ও আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বুইশ্যার প্রভাববলয়ে

সন্ত্রাসী বুইশ্যার সহযোগী ইদ্রিস গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বুইশ্যা বাহিনী’র প্রধান শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইদ্রিস প্রকাশ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) নগর পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ইমরান কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ইদ্রিস (২৭) কুখ্যাত সন্ত্রাসী বুইশ্যার ঘনিষ্ট সহযোগী ও রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে। এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় চান্দগাঁও থানাধীন ফরিদার পাড়া এলাকা থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র সহ ধরা পড়ে বুইশ্যা বাহিনী’র প্রধান শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যা। চুরি ও ছিনতাই দিয়ে অপরাধজগতে প্রবেশ করা বুইস্যা পরে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। পুলিশের একাধিক জরিপ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম নগরের সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলোর পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহদ্দারহাট ফিনলে স্কয়ার শপিং মলের পাশের খালপাড় ও আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বুইশ্যার প্রভাববলয়ে ছিল। ওই এলাকায় মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম তার নির্দেশেই পরিচালিত হতো। তার বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নিয়মিত ভয়ভীতি ও অস্ত্র প্রদর্শন করত। বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটকে বুইস্যা বাহিনী ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করত।  সেখানে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি ও প্রতিপক্ষদের আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায়ও বুইশ্যা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের কারণ বুইশ্যা বাহিনী। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শহীদুল আলম বুইশ্যা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাহিনীতে নেতৃত্বে আসে তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইদ্রিস প্রকাশ ইব্রাহিম। বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তারের পর এলাকায় কিছু দিন শান্তি ফিরলেও ইদ্রিসের নেতৃত্বে ফের মাথাজাড়া দিয়ে উঠে বুইশ্যা বাহিনী। সিএমপি জানায়, শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যা দীর্ঘদিন ধরে চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও বহদ্দারহাট এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অন্তত ২০টির বেশি মামলা রয়েছে, যার একটি বড়ো অংশ বর্তমানে বিচারাধীন।  এসব মামলার মধ্যে একাধিক গুরুতর অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গ্রেপ্তার তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি ইদ্রিস প্রকাশ ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও প্রদর্শন করে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানাবিধ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে। নগর পুলিশের উপপরিদর্শক (গণসংযোগ) মোহাম্মদ ইমরান কালবেলাকে বলেন, ইদ্রিসের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও মাদকসহ ১৮টি মামলা এবং কয়েকটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও সে বেপরোয়াভাবে একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করে জনমনে ভীতি সঞ্চার করে আসছিল। তাকে চান্দগাঁও থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow