সন্ধ্যার পর ফুটপাত দখল, রাস্তা জুড়ে চলছে চোরাই পণ্যের হাট

নগরের ফুটপাত মূলত পথচারীদের জন্য আর সড়ক গাড়ির জন্য। কিন্তু নিউ মার্কেট–রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা বহু আগেই এই নিয়ম হারিয়েছে। ফুটপাত দখল করে বসেছে চোরাই মোবাইল, ব্যাগ, ঘড়ি ও নানা ইলেকট্রনিক পণ্যের স্টল। আর সড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে বসেছে জুতা ও পোশাকের দোকান। দিনের ব্যস্ততায় যানজট আর সন্ধ্যার পর হকার–চোরাইপণ্যের মিশ্রণ, পুরো এলাকা পরিণত করেছে বিশৃঙ্খল বাজারে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়, আর গাড়ি চলাচল ঘটে দেরিতে ও বিপজ্জনকভাবে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকা পরিচিত ‘চোরা মার্কেট’ নামে। রেলস্টেশনের গেট, নতুন পুরাতন মার্কেটের মাঝের জায়গা এবং সড়ক অংশ এখানে শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকানি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ফুটপাত দখল করে। ছোট কাঠের টেবিল, প্লাস্টিকের বাক্স, অস্থায়ী ছাপড়া যেটুকু হাতে পায় তাই দিয়ে চালায় বেচাকেনা। কেউ কেউ আগাম টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় ‘ভালো ফোন এনে দেব’, কিন্তু কোথা থেকে আসে মাল তা প্রশ্ন করলে কেউ উত্তর দেয় না। দিনে এলাকা ভরে থাকে যাত্রী, শ্রমিক ও ক্রেতাদের ভিড়ে। কিন্তু সূর্য ডুবতেই ফুটপাত ও সড়কের দৃশ্য পাল্টে যায়। নামীদামী ব্র্যান্ডের জুতা, পুরনো মোবাইল, ব্যাগ, স্মার্টওয়াচ,

সন্ধ্যার পর ফুটপাত দখল, রাস্তা জুড়ে চলছে চোরাই পণ্যের হাট

নগরের ফুটপাত মূলত পথচারীদের জন্য আর সড়ক গাড়ির জন্য। কিন্তু নিউ মার্কেট–রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা বহু আগেই এই নিয়ম হারিয়েছে। ফুটপাত দখল করে বসেছে চোরাই মোবাইল, ব্যাগ, ঘড়ি ও নানা ইলেকট্রনিক পণ্যের স্টল। আর সড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে বসেছে জুতা ও পোশাকের দোকান। দিনের ব্যস্ততায় যানজট আর সন্ধ্যার পর হকার–চোরাইপণ্যের মিশ্রণ, পুরো এলাকা পরিণত করেছে বিশৃঙ্খল বাজারে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়, আর গাড়ি চলাচল ঘটে দেরিতে ও বিপজ্জনকভাবে।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকা পরিচিত ‘চোরা মার্কেট’ নামে। রেলস্টেশনের গেট, নতুন পুরাতন মার্কেটের মাঝের জায়গা এবং সড়ক অংশ এখানে শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকানি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ফুটপাত দখল করে। ছোট কাঠের টেবিল, প্লাস্টিকের বাক্স, অস্থায়ী ছাপড়া যেটুকু হাতে পায় তাই দিয়ে চালায় বেচাকেনা। কেউ কেউ আগাম টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় ‘ভালো ফোন এনে দেব’, কিন্তু কোথা থেকে আসে মাল তা প্রশ্ন করলে কেউ উত্তর দেয় না।

দিনে এলাকা ভরে থাকে যাত্রী, শ্রমিক ও ক্রেতাদের ভিড়ে। কিন্তু সূর্য ডুবতেই ফুটপাত ও সড়কের দৃশ্য পাল্টে যায়। নামীদামী ব্র্যান্ডের জুতা, পুরনো মোবাইল, ব্যাগ, স্মার্টওয়াচ, ল্যাপটপ সব মিলিয়ে চলে চোরাই পণ্যের প্রকাশ্য মেলা। তুলনামূলক কম দামের কারণে অনেকে জেনেও কিনতে দ্বিধা করেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে,আগে বড় ট্রাংক নিয়ে বসা দোকানিরা এখন ছোট কাঠের টেবিলে মাল রাখেন। অভিযান এলে দ্রুত পণ্য গুটিয়ে নেওয়ার সুবিধা হয়। একজন দোকানি বললেন, ‘অভিযান এলে ফোন-ঘড়ি পকেটে ঢুকিয়ে দিলেই হলো, নিরাপদ জায়গা আর কোথায়?’

চোরাই মালামাল আসছে শুধু গল্প নয়, প্রমাণও আছে। পাথরঘাটার একটি মসজিদ থেকে চুরি হওয়া দামি জুতা দুই দিন পর পাওয়া যায় ফুটপাতের স্টলে। মালিক তোহিদ বলেন, 'চুরি হলে প্রথমে এখানে খুঁজতে হয়। দুই হাজার টাকার জুতা ফেরত পেতে ৯০০ টাকা খরচ করতে হলো।’

‘চোরা মার্কেট’-এর উৎপত্তিও দীর্ঘ। স্বাধীনতার পর কয়েকজন ফেরিওয়ালা পুরোনো কাপড় বিক্রি দিয়েই শুরু করেছিলেন। পরে যোগ হয় ঘড়ি, ব্যাগ, মোবাইল। ১৯৭০-এর দশকে দোকান ছিল মাত্র পাঁচ ছয়টি, এখন তিনশর বেশি। পুরাতন স্টেশন, বাস কাউন্টার, ঘনবসতি সব মিলিয়ে চুরি ও পকেটমারের স্বর্গরাজ্য।চোরেরা জানে, চুরি করলেই দ্রুত বিক্রি করা যাবে এখানে।

স্থানীয়রা জানান,বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি হওয়া মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তনকারী দলও নিয়মিত এখানে সক্রিয়।

দোকানিরা বলছেন, ‘প্রশাসনের চোখের সামনে সবই হয়।কখনো কখনো চুরি যাওয়া জিনিস উদ্ধারে পুলিশও সাহায্য করে কিন্তু পুরো চক্র থামে না।’

চোরাই বাজার টিকিয়ে রাখতে নেপথ্যে কাজ করে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও মাসোহারা এই পুরো সিন্ডিকেটকে রক্ষা করে।দোকানভেদে দৈনিক টাকা, কারও কারও ক্ষেত্রে মাসিক চাঁদা দিতে হয়। থানার কিছু সদস্যের বিষয়ে অভিযোগ আছে, যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে।

প্রশ্ন উঠছে, এই অবৈধ দোকানগুলোতে কীভাবে জ্বলে ওঠে বৈদ্যুতিক আলো?কোথা থেকে আসে সংযোগ? কেন থামে না ফুটপাত দখল চোরাই মালের আড়াল-রাজত্ব? প্রতিদিন হাজারো মানুষ যানজটে ভোগেন। আশপাশে মার্কেট ও জনসমাগম বেশি হওয়ায় চোরচক্র মানুষের ভিড়ে মিশে যায়, নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘এই এলাকায় চোরাই পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। অবৈধ দোকান বা চোরাই পণ্যের বেচাকেনা বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ পেলেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চোরাই মাল সংগ্রহের পদ্ধতি এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও সংগঠিত।শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ‘ফিল্ড টিম’ সবসময় সতর্ক। কোথায় ভিড় কোথায় অসতর্কতা সব লক্ষ্য করে দ্রুত মোবাইল, ব্যাগ, ল্যাপটপ, ঘড়ি, মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ নিয়ে চলে।

চুরি করা মাল প্রথমে যায় মধ্যস্থতাকারী কলেক্টরদের কাছে। এরা ভোরে বা গভীর রাতে চোরদের সঙ্গে দেখা করে কম দামে মাল কিনে নেয়। তারপর গোপনে যায় স্লাম এলাকা, গুদাম বা অস্থায়ী ঘরে। সেখান থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ভাগ করে পাঠানো হয় ফুটপাথে। পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow