সবুজ হারিয়ে কংক্রিটের দখলে রাজশাহী, বাড়ছে তাপমাত্রা
রাজশাহীতে দিনদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। কমছে সবুজ আর জলাধার। একসময় পদ্মার বাতাস, বিস্তীর্ণ সবুজ এবং অসংখ্য পুকুর-দিঘির জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে এখন গ্রীষ্ম যেন হয়ে উঠছে আরও দীর্ঘ ও অসহনীয়। গত ৫২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে ২০২৪ সালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাস, জলাশয় ভরাট, নির্বিচারে গাছ কাটা, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজশাহী ধীরে ধীরে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বা তাপদ্বীপে পরিণত হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আরও পড়ুন খরা প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা সম্পদ ও জীবন বাঁচায় রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশক ধরে প্রায় প্রতি বছরই জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে বা তার ওপরে অবস্থান করছে। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ ডিগ্রিতে। চলতি বছরও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। ফলে গ্রীষ্মকাল আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, তীব্র এবং কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ‘গত তিন দশকে রাজশাহী নগরীর সবুজ এলাকা কমেছে ২৬ শতা
রাজশাহীতে দিনদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। কমছে সবুজ আর জলাধার। একসময় পদ্মার বাতাস, বিস্তীর্ণ সবুজ এবং অসংখ্য পুকুর-দিঘির জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে এখন গ্রীষ্ম যেন হয়ে উঠছে আরও দীর্ঘ ও অসহনীয়। গত ৫২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে ২০২৪ সালে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাস, জলাশয় ভরাট, নির্বিচারে গাছ কাটা, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজশাহী ধীরে ধীরে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বা তাপদ্বীপে পরিণত হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশক ধরে প্রায় প্রতি বছরই জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে বা তার ওপরে অবস্থান করছে। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ ডিগ্রিতে। চলতি বছরও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। ফলে গ্রীষ্মকাল আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, তীব্র এবং কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
‘গত তিন দশকে রাজশাহী নগরীর সবুজ এলাকা কমেছে ২৬ শতাংশ এবং জলাধার কমেছে ৩ শতাংশ। বিপরীতে নির্মিত অবকাঠামো বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। ৯ দশমিক ৭৩ বর্গকিলোমিটার থেকে নির্মিত এলাকা বেড়ে হয়েছে ২২ দশমিক ৯৯ বর্গকিলোমিটার। একই সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে গাছপালা, খোলা জায়গা ও জলাধার’
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ২০০৫ সালে ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ২০০৬ সালে ৩৯ দশমিক শূন্য ৬ ডিগ্রি, ২০০৭ সালে ৪২ দশমিক শূন্য ২ ডিগ্রি, ২০০৮ সালে ৪০ ডিগ্রি, ২০০৯ সালে ৪১ দশমিক শূন্য ৮ ডিগ্রি, ২০১০ সালে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ২০১১ সালে ৩৮ ডিগ্রি, ২০১২ সালে ৪২ ডিগ্রি, ২০১৩ সালে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি, ২০১৪ সালে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি, ২০১৫ সালে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ২০১৬ সালে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি, ২০১৭ সালে ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ২০১৮ সালে ৪০ ডিগ্রি, ২০১৯ সালে ৪০ ডিগ্রি, ২০২০ সালে ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি, ২০২১ সালে ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি, ২০২২ সালে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি, ২০২৩ সালে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি, ২০২৪ সালে ৪৩ ডিগ্রি, ২০২৫ সালে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং সবশেষ চলতি বছরে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহীতে বহুতল ভবন বাড়ছে। তবে দিন দিন কমছে গাছপালা/ছবি-জাগো নিউজ
জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকদের প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন দশকে রাজশাহী নগরীর সবুজ এলাকা কমেছে ২৬ শতাংশ এবং জলাধার কমেছে ৩ শতাংশ। বিপরীতে নির্মিত অবকাঠামো বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। ৯ দশমিক ৭৩ বর্গকিলোমিটার থেকে নির্মিত এলাকা বেড়ে হয়েছে ২২ দশমিক ৯৯ বর্গকিলোমিটার। একই সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে গাছপালা, খোলা জায়গা ও জলাধার।

এমবার গবেষণা প্রতিবেদন / বিশ্বে ২০২৫ সালে গ্যাসের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি বেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন
গবেষণার প্রধান লেখক ড. মো. রেজাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবুজ ও জলাধার কমে যাওয়ায় শহর তার প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা হারিয়েছে। একসময় রাজশাহীর মানুষ কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ও শীতল আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত ছিল। এখন অক্টোবর মাসেও গরম অনুভূত হচ্ছে। কৃষিনির্ভর ও খোলামেলা ভূপ্রকৃতির রাজশাহী দ্রুত কংক্রিটের নগরীতে পরিণত হওয়ায় শীতকালেও উষ্ণতা বাড়ছে।’
“রাজশাহীতে বহুতল ভবন বাড়ছে কিন্তু একইসঙ্গে কমে যাচ্ছে জলভূমি। পদ্মা নদীও আগের মতো নেই। নদীর বড় অংশজুড়ে এখন বালুর চর। নদী ও জলভূমি হারিয়ে যাওয়ার ফলে শহরের প্রাকৃতিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে রাজশাহীতে এক ধরনের ‘হিট চেম্বার’ তৈরি হচ্ছে”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণের ফলে বহুতল ভবন, কংক্রিটের রাস্তা এবং অবকাঠামো দ্রুত বেড়েছে। এসব স্থাপনা দিনের বেলায় তাপ শোষণ করে এবং রাতে ধীরে ধীরে সেই তাপ ছেড়ে দেয়। ফলে শহরের ভেতরে তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে। এ অবস্থাকে নগর তাপদ্বীপ বা আরবান হিট আইল্যান্ড প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত দুই দশক ধরে প্রায় প্রতি বছরই জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে বা তার ওপরে অবস্থান করছে/ছবি-জাগো নিউজ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, “রাজশাহীতে বহুতল ভবন বাড়ছে কিন্তু একইসঙ্গে কমে যাচ্ছে জলভূমি। পদ্মা নদীও আগের মতো নেই। নদীর বড় অংশজুড়ে এখন বালুর চর। নদী ও জলভূমি হারিয়ে যাওয়ার ফলে শহরের প্রাকৃতিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে রাজশাহীতে এক ধরনের ‘হিট চেম্বার’ তৈরি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পরিবেশ আরও শুষ্ক হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী ও খাল পুনঃখনন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার উদ্যোগ জরুরি।’
রাজশাহীর পরিবেশগত সংকটের আরেকটি বড় কারণ নদী ও জলাশয়ের অবনতি। এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশ এখন বালুচরে পরিণত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিলেও দেখা দিয়েছে পানির সংকট। করতোয়া, ইছামতী, বাঙালি ও মহানন্দাসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানিপ্রবাহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
‘রাজশাহী নগরীতে গত এক দশকে প্রায় ৯৭ শতাংশ পুকুর ভরাট হয়েছে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩৬ হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাটা হয়েছে হাজার হাজার গাছ’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের ২১টি নদী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছে শতাধিক খাল-বিল ও নদীনালা। পরিবেশবিদরা বলছেন, এসব জলাধার হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে।
এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশ এখন ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে/ছবি-জাগো নিউজ
বেলার রাজশাহী সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল বলেন, ‘রাজশাহীতে গরমের সময় অধিক গরম এবং শীতের সময় অধিক শীত অনুভূত হওয়ার অন্যতম কারণ জলাশয় ভরাট। নদী, খাল ও বিলের ওপর মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড স্থানীয় আবহাওয়াকে প্রভাবিত করছে। মানবসৃষ্ট কারণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাবও এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।’
রাজশাহী নগরীতে গত এক দশকে প্রায় ৯৭ শতাংশ পুকুর ভরাট হয়েছে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩৬ হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাটা হয়েছে হাজার হাজার গাছ।
গত তিন দশকে রাজশাহী নগরীর জলাধার কমেছে ৩ শতাংশ। বিপরীতে নির্মিত অবকাঠামো বেড়েছে/ছবি-জাগো নিউজ
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, ‘প্রাকৃতিক কারণে যদি বৃষ্টিপাত সময়মতো না আসে এবং মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হয়, তাহলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে। দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

রাসিকের দূষণে ধুঁকছে প্রমত্তা বারনই নদী
জনজীবনে অস্থিরতা
রাজশাহীতে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্থিরতা। দিনের বেশিরভাগ সময় প্রখর রোদ ও গরম বাতাসের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দুপুরের পর নগরীর বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর এবং ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
‘নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে সবুজ এলাকা ও জলাধার কমে যাওয়ায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলাধার সংরক্ষণ, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব’
প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলায় পরিবহন শ্রমিকরা পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক রিকশাচালক ও অটোরিকশাচালক আগের মতো ভাড়া পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। একইভাবে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন বাজার, ফুটপাত ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বিক্রি কমে গেছে। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশ এখন ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে/ছবি-জাগো নিউজ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, পুকুর ভরাট, কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত পুকুর খনন এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জলবায়ুর ওপর। তিনি প্রাকৃতিক জলাধার ও সবুজ পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনা এবং কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহীতে প্রচণ্ড তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। এর কারণ হিসেবে পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকা, বড় বড় দালানকোঠা নির্মাণ, রাস্তা সম্প্রসারণ এবং সবুজ এলাকার পরিমাণ কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব কারণ সম্মিলিতভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, যাকে বলা হয় ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’।
রাজশাহীতে গরমের সময় অধিক গরম এবং শীতের সময় অধিক শীত অনুভূত হওয়ার অন্যতম কারণ জলাশয় ভরাট/ছবি-জাগো নিউজ
পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, রাজশাহীকে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে নদী, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। সতর্ক করে দিয়ে তারা বলছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছরগুলোতে রাজশাহী আরও উষ্ণ হয়ে উঠবে। এর প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে সবুজ এলাকা ও জলাধার কমে যাওয়ায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলাধার সংরক্ষণ, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।’
পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান পরিবেশ আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
এসআর/এএসএম
What's Your Reaction?






