সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা করে বরখাস্ত হলেন সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশ সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করে পুরো সরকার ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। সম্প্রতি সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার পরপরই তাকে বরখাস্ত করা হয়।  শুক্রবার (২২ মে) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এক সহকারী এ ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী সরকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালাবে। খবর আল জাজিরার।  সম্প্রতি সোনকো পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘স্বৈরাচারী’ পশ্চিমা দেশগুলো বাকি বিশ্বের ওপর সমকামিতা ‘চাপিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করতে সেনেগালে সম্প্রতি নতুন একটি আইনও পাস করা হয়। সোনকোর এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।   সোনকো বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর তিনি বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা শুনেছেন। পশ্চিমাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা যদি এই পথ (সমকামিতা) বেছে নিয়ে থাকে, তবে সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই, একদমই না।’ বিশ

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা করে বরখাস্ত হলেন সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী
আফ্রিকার দেশ সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করে পুরো সরকার ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। সম্প্রতি সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার পরপরই তাকে বরখাস্ত করা হয়।  শুক্রবার (২২ মে) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এক সহকারী এ ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী সরকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালাবে। খবর আল জাজিরার।  সম্প্রতি সোনকো পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘স্বৈরাচারী’ পশ্চিমা দেশগুলো বাকি বিশ্বের ওপর সমকামিতা ‘চাপিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করতে সেনেগালে সম্প্রতি নতুন একটি আইনও পাস করা হয়। সোনকোর এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।   সোনকো বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর তিনি বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা শুনেছেন। পশ্চিমাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা যদি এই পথ (সমকামিতা) বেছে নিয়ে থাকে, তবে সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই, একদমই না।’ বিশ্লেষকদের মতে, সেনেগালের ঋণসংকট ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান আলোচনার চাপের মধ্যেই এ ঘোষণা এসেছে। ফলে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা আইএমএফের সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই প্রেসিডেন্ট ফায়ে ও প্রধানমন্ত্রী সনকোর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মানহানির মামলায় অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় সনকো নিজে প্রার্থী হতে পারেননি। পরে তিনি ফায়ের পক্ষে সমর্থন দেন এবং নির্বাচনে ফায়ে জয়ী হন। সনকো তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এখন প্রধানমন্ত্রী পদ হারানোর পর সনকো কী পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্চ মাসে তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ফায়ে যদি দলীয় নীতি থেকে সরে যান, তাহলে তার দল পাস্তেফ সরকার ছাড়তে পারে এবং আবার বিরোধী দলে ফিরে যেতে পারে। সেনেগালের জাতীয় পরিষদে পাস্তেফ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সরকারের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow