সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সিডনিতে ধর্মীয় যুব সেবা কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতির বার্তা নিয়ে সিডনির মিন্টো মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজন। শনিবার (১৫ আগস্ট) দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পটভূমির তরুণ, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবা, সামাজিক কার্যক্রম, আন্তধর্মীয় সংলাপ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য জোরদার করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী আনুল্যাক চান্থিভং এমপি, ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আশিকুর রহমান (অ্যাশ), হাজী মোহাম্মাদ দেলোওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা, তরুণ ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন, ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচি ও মিন্টো মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা, বাগান পরিচর্যা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধনের মতো বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচা

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সিডনিতে ধর্মীয় যুব সেবা কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতির বার্তা নিয়ে সিডনির মিন্টো মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজন। শনিবার (১৫ আগস্ট) দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পটভূমির তরুণ, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবা, সামাজিক কার্যক্রম, আন্তধর্মীয় সংলাপ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য জোরদার করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী আনুল্যাক চান্থিভং এমপি, ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আশিকুর রহমান (অ্যাশ), হাজী মোহাম্মাদ দেলোওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা, তরুণ ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন, ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচি ও মিন্টো মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা, বাগান পরিচর্যা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধনের মতো বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে মধ্যাহ্নভোজ, মতবিনিময় ও আন্তধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির সাবেক অংশগ্রহণকারী ও তরুণরা স্বেচ্ছাসেবা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচি বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক পটভূমির তরুণদের স্বেচ্ছাসেবা, বন্ধুত্ব ও সংলাপের মাধ্যমে একত্রিত করে আসছে। তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি জোরদার করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এতে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং যৌথ সামাজিক কর্মকাণ্ড পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিন্টো মসজিদ ‘মসজিদুর রহমান আল-জামেয়ি’ নামেও পরিচিত। বৃহত্তর ম্যাকারথার এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বৃহত্তর সমাজের সঙ্গেও মসজিদটির দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ১৯৯১ সালে সুবুরবান ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন ৪৪ ওয়েস্টমোরল্যান্ড রোডের বর্তমান স্থানটি অধিগ্রহণ করে সেখানে মিন্টো মসজিদের কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তী সময়ে মসজিদটি মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজের পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের জন্য ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও মসজিদটি বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিয়ে আসছে। ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আশিকুর রহমান (অ্যাশ) এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মিন্টো মসজিদ ক্যাম্পবেলটাউন স্থানীয় সরকার এলাকার অন্যতম পুরোনো উপাসনালয় এবং কয়েক দশক ধরে স্থানীয় মানুষের সেবা করে আসছে। তিনি বলেন, মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতিপূর্ণ বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষকে ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে মিন্টো মসজিদ তার সম্প্রীতির ঐতিহ্য অব্যাহত রাখছে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow