সরকারি বনে দখলের থাবা
নওগাঁর বিভিন্ন সরকারি বনভূমিতে দিনের পর দিন চলছে দখল ও গাছ নিধনের অভিযোগ। বনভূমির গাছ কেটে উজাড় করার পাশাপাশি সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। কোথাও কোথাও দখল হওয়া জমিতে চলছে চাষাবাদও। এতে হুমকির মুখে পড়ছে জেলার পরিবেশ ও প্রকৃতি। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৮০৯ একর বনভূমি দখল হয়ে আছে। তবে লোকবল সংকটের কারণে দখলমুক্ত অভিযান ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। জেলার পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলায় বনাঞ্চলের বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে পত্নীতলার পাইকবান্দা বনবিট এলাকায় বনভূমি দখল ও গাছ কাটার যেন মচ্ছব চলছে। সম্প্রতি পাইকবান্দা বনবিটের কৃষ্ণপুর-আলপাকা সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বনভূমির ভেতর ও সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় বসতঘর। এর মধ্যে কয়েকটি পাকা ভবনও রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সহিমুদ্দিনের পরিবার বনভূমির একটি অংশে কয়েক কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করেছে। সহিমুদ্দিন বাড়িতে না থাকায় কথা হয় তার স্ত্রীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, নিজেদের কোনো জমিজমা না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন।
নওগাঁর বিভিন্ন সরকারি বনভূমিতে দিনের পর দিন চলছে দখল ও গাছ নিধনের অভিযোগ। বনভূমির গাছ কেটে উজাড় করার পাশাপাশি সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। কোথাও কোথাও দখল হওয়া জমিতে চলছে চাষাবাদও। এতে হুমকির মুখে পড়ছে জেলার পরিবেশ ও প্রকৃতি।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৮০৯ একর বনভূমি দখল হয়ে আছে। তবে লোকবল সংকটের কারণে দখলমুক্ত অভিযান ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
জেলার পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলায় বনাঞ্চলের বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে পত্নীতলার পাইকবান্দা বনবিট এলাকায় বনভূমি দখল ও গাছ কাটার যেন মচ্ছব চলছে।
সম্প্রতি পাইকবান্দা বনবিটের কৃষ্ণপুর-আলপাকা সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বনভূমির ভেতর ও সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় বসতঘর। এর মধ্যে কয়েকটি পাকা ভবনও রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা সহিমুদ্দিনের পরিবার বনভূমির একটি অংশে কয়েক কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করেছে। সহিমুদ্দিন বাড়িতে না থাকায় কথা হয় তার স্ত্রীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, নিজেদের কোনো জমিজমা না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন। বাড়ি নির্মাণের সময় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা দিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই এলাকায় রিজিয়া নামের এক নারী প্রায় দেড় বছর আগে বনভূমিতে দুটি ঘর ও একটি রান্নাঘর নির্মাণ করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় এখানে বসবাস শুরু করেছি। শুরুতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলেও পরে আর কেউ খোঁজ নেয়নি।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, দখলকারীদের কেউ কেউ জমির মালিকানা দাবি করে আদালতের আশ্রয়ও নিয়েছেন। ধামইরহাট বনবিটের জয়জয়পুর গ্রামের এটিএম বদিউজ্জমান বলেন, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তবে বন বিভাগ ওই জমিকে সরকারি বনভূমি দাবি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছে।
শুধু জমি দখল নয়, বনাঞ্চলের গাছ কাটার ঘটনাও ঘটছে প্রকাশ্যেই। পত্নীতলার আলপাকা গ্রামে এক বাসিন্দার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির কাটা গাছের স্তূপ। পরিবারের সদস্যরা স্বীকার করেন, আশপাশের অন্যদের মতো তারাও বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটেছেন।
পাইকবান্দা বনবিট কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে পারবেন না। তবে দখল হওয়া জমি উদ্ধারে মামলা করা এবং নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোর কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
নওগাঁ অঞ্চলের তিনটি বনবিটের দায়িত্বে রয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম ফরহাদ জাহান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। কেউ বনভূমি দখলের চেষ্টা করলে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজন হলে মামলা করা হয়।’
ফরহাদ জাহান আরও বলেন, বর্তমানে দখল হওয়া ৮০৯ একর জমির বিপরীতে ৩০০টির বেশি মামলা চলমান। মামলার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বারবার বনভূমি দখলের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবেশকর্মী নাইস পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বনভূমি দখল ও গাছ নিধনের ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার গাফিলতি কিংবা প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বনাঞ্চল আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।’
এসআর/এএসএম
What's Your Reaction?