সরকারি সহায়তার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ বারহাট্টার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২৪৯ জন কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষকের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বড় অংশের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত নন, এমন কিছু ব্যক্তির নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম রাখা হয়েছে বা বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা অবগত নন। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে বিতর্
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২৪৯ জন কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষকের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বড় অংশের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত নন, এমন কিছু ব্যক্তির নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়।
মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম রাখা হয়েছে বা বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে বিতর্কিত তালিকার কারণে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, এ ধারণা সঠিক নয়। তালিকাভুক্তদের মধ্যে আগামীকাল থেকে পুনরায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আগামীকাল ঢাকা থেকে আসবেন। এরপর পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।’
তালিকায় বিতর্কিতভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাদের নাম ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলো এখন পরিবর্তন করা কঠিন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
এদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও তালিকা থেকে বাদ পড়া কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী বা অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?