সরকারের নির্দেশের পরও নির্বাচন নিয়ে হেলদোল নেই ফেডারেশনগুলোর

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ছাড়া দেশের বাকি সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের অংশ হিসেবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সিংহভাগ ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে। সভাপতিশূন্য ফেডারেশনগুলো অনেকটার সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তারও ছিলেন লাপাত্তা। তাই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল ক্রীড়াঙ্গন। তারপর পর্যায়ক্রমে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে পরিচালিত হচ্ছে খেলাধুলা। সংস্কার শুরুর ১৪ মাস পর গত বছর অক্টোবরে খেলাধুলার অভিভাবক প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় এবং ৩০ অক্টোবর সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়ে ‘অনতিবিলম্বে’ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়। চিঠিতে ‘অনতিবিলম্বে’ শব্দটি উল্লেখ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক অর্থে তাগাদাই দিয়েছিল ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে। তবে ওই চিঠিতে ফেডারেশনগুলোর অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের গা গরম হয়নি। নির্বাচন করতে হবে- তা নিয়ে হাতে গোনা দু’একটি ফেডারেশন ছাড়া অন্যদের কোনো হেল

সরকারের নির্দেশের পরও নির্বাচন নিয়ে হেলদোল নেই ফেডারেশনগুলোর

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ছাড়া দেশের বাকি সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের অংশ হিসেবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সিংহভাগ ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে। সভাপতিশূন্য ফেডারেশনগুলো অনেকটার সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তারও ছিলেন লাপাত্তা। তাই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল ক্রীড়াঙ্গন।

তারপর পর্যায়ক্রমে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে পরিচালিত হচ্ছে খেলাধুলা। সংস্কার শুরুর ১৪ মাস পর গত বছর অক্টোবরে খেলাধুলার অভিভাবক প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় এবং ৩০ অক্টোবর সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়ে ‘অনতিবিলম্বে’ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়।

চিঠিতে ‘অনতিবিলম্বে’ শব্দটি উল্লেখ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক অর্থে তাগাদাই দিয়েছিল ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে। তবে ওই চিঠিতে ফেডারেশনগুলোর অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের গা গরম হয়নি। নির্বাচন করতে হবে- তা নিয়ে হাতে গোনা দু’একটি ফেডারেশন ছাড়া অন্যদের কোনো হেলদোলও নেই। বরং নির্বাচন প্রসঙ্গ তুললে নানা টালবাহানের কথাও বলেন অনেক ফেডারেশন কর্মকর্তারা। নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশলেই যেন এগুচ্ছে সবাই।

ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন। গত বছর ২৮ মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে সভাপতি করে গঠন করা হয়েছিল অ্যাডহক কমিটি। ৭ মাসের মাথায়ই এই ফেডারেশন পেতে যাচ্ছে নির্বাচিত কমিটি। আগামী ৩১ জানুয়ারি কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে হবে এই ফেডারেশনের নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী এরই মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বিতরণ ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি।

এনএসসির নির্দেশের পর প্রায় আড়াই মাসে গলফ ছাড়া অন্য কোনো ফেডারেশনের নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান বৃহস্পতিবার জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘আরচারি ও শ্যুটিং ফেডারেশন থেকে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করতে আমাদের চিঠি দিয়েছে। তবে এখনো এই দুই ফেডারেশনের নির্বাচনের জন্য কমিশন গঠন করা হয়নি। এর বাইরে অন্য কোনো ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়শনের নির্বাচন নিয়ে অগ্রগতি নেই।’

কিছু ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য এনএসসিকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, তারা কোন গঠনতন্ত্র ও কাউন্সিলর দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করবে? ফেডারেশনগুলোর কাউন্সিলর বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা। যেগুলোর সবই চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। অনেক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলার চেষ্টা করেন, ‘সেখান থেকে কারা কাউন্সিলর হয়ে আসবেন ফেডারেশনগুলোতে? কোনো জেলা বা বিভাগে তো নির্বাচিত কমিটি নেই।’

আবার অনেক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের ধারণা, অ্যাডহক কমিটির প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন আয়োজনের কোনো দিক নির্দেশনা ছিল না। তাই তাদের দায়িত্ব লম্বা হবে। আগে ক্রীড়া পরিষদ অ্যাডহক কমিটি গঠন করলে প্রজ্ঞাপনেই উল্লেখ করে দেওয়া হতো, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এবার কিছুই উল্লেখ নেই।

নির্বাচন করতে হবে- জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এমন চিঠি পাওয়ার পর ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের অনেকে চমকে উঠেছেন। অ্যাডহক কমিটির প্রজ্ঞপনে নির্বাচন বিষয়ক কোনো নির্দেশনা না থাকায় সবাই ধরেই নিয়েছিলেন যতদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ততদিনই দায়িত্বে তারা।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চিঠি দিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ করেছে। অভিভাবক এই প্রতিষ্ঠান থেকেও সেভাবে ফলোআপ নেই। আর সেই সুযোগটিই নিচ্ছে ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলো। চিঠি দেই দেই করেই সময় কাটিয়ে দিচ্ছে তারা। সামনে জাতীয় নির্বাচন। কয়েকদিন পর হয়তো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বলবে, জাতীয় নির্বাচনের পরই আবার ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন নিয়ে ভাবা হবে। তাহলে তো ফেডারেশনগুলোর আরো কয়েকটি মাস ভোটবিহীন কাটিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে!

আরআই/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow