সরকার বদলায়, ভোট আসে—যমুনার চরের জীবনযুদ্ধ শেষ হয় না

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়ন। যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা এই চরে বছরের পর বছর বসবাস করে আসছেন হাজারো মানুষ। তবে এখানে টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় বাসিন্দাদের। নদী ভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব ও অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা এখানকার প্রধান সমস্যা। তারপরও নির্বাচন এলে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে নতুন স্বপ্ন বোনেন চরের বাসিন্দারা। কিন্তু ভোটের পর বদলায় না এলাকার চিত্র। ভোট আসে, সরকার বদলায় কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না চরের বাসিন্দাদের। ভূঞাপুর বাজার (উপজেলা শহর) থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে হয় গোবিন্দাসী ঘাটে। এরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৪০ মিনিটের পথ। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে সময় আরও কম লাগে। কারণ তখন নৌকা সোজাসুজি আসতে পারে। চর থেকে সমতলে আসা-যাওয়া করতে এই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এখানকার মানুষদের ভোট উৎসব আর এখানকার জীবনযুদ্ধ দেখতে জাগো নিউজ হাজির হয়েছিল দুর্গম এই চরে। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা পথে দেখা মেলে যমুনা নদীর আশপাশের মানুষদের জীবন চিত্র। এখন শুষ্ক মৌসুমে জেগে উঠেছে মাইলের পর মাইল চর। সেখানে গম,

সরকার বদলায়, ভোট আসে—যমুনার চরের জীবনযুদ্ধ শেষ হয় না

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়ন। যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা এই চরে বছরের পর বছর বসবাস করে আসছেন হাজারো মানুষ। তবে এখানে টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় বাসিন্দাদের। নদী ভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব ও অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা এখানকার প্রধান সমস্যা। তারপরও নির্বাচন এলে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে নতুন স্বপ্ন বোনেন চরের বাসিন্দারা। কিন্তু ভোটের পর বদলায় না এলাকার চিত্র। ভোট আসে, সরকার বদলায় কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না চরের বাসিন্দাদের।

ভূঞাপুর বাজার (উপজেলা শহর) থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে হয় গোবিন্দাসী ঘাটে। এরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৪০ মিনিটের পথ। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে সময় আরও কম লাগে। কারণ তখন নৌকা সোজাসুজি আসতে পারে। চর থেকে সমতলে আসা-যাওয়া করতে এই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা।

এখানকার মানুষদের ভোট উৎসব আর এখানকার জীবনযুদ্ধ দেখতে জাগো নিউজ হাজির হয়েছিল দুর্গম এই চরে। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা পথে দেখা মেলে যমুনা নদীর আশপাশের মানুষদের জীবন চিত্র। এখন শুষ্ক মৌসুমে জেগে উঠেছে মাইলের পর মাইল চর। সেখানে গম, ভুট্টা, বাদামসহ নানান ফসলের আবাদ হচ্ছে। নদীর যে অংশ জুড়ে পানির প্রবাহ আছে নৌকাগুলো সেখান দিয়েই চলাচল করে। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরার চিত্রও চোখে পড়লো। সব মিলিয়ে আশপাশের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর, তবে এখানে প্রকৃতি যতটা সুন্দর, জীবন ততটাই কঠিন।

চল্লিশ মিনিট নৌকা যাত্রার পর আমরা পৌঁছালাম রুলীপাড়া গ্রামে। অবশ্য এটি রুলীপাড়া নৌকা ঘাট নামেই বেশি পরিচিত। কেননা ঘাট থেকে বসতি বেশ দূরে। বর্ষার ভরা মৌসুমে চরে থাকা দূরের গ্রামগুলোও তলিয়ে যায়। তখন জীবন আরও সংগ্রামের হয়ে ওঠে।

সরকার বদলায়, ভোট আসে—যমুনার চরের জীবনযুদ্ধ শেষ হয় নাটাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল বাজারে টানানো হয়েছে বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যানার/ছবি: জাগো নিউজ

পুরো ইউনিয়নে নেই একটিও পাকা সড়ক

গাবসারা ইউনিয়নে যাতাযাতের জন্য পাকা কোনো সড়ক নেই। সরু রাস্তায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল। ফসল আনা নেওয়ার কাজে কিছু ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। নৌকায় নদী পার হওয়ার পর হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় বাসিন্দাদের।

জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক নৌকা থেকে নেমে মোটরসাইকেলে যাত্রা শুরু করে প্রথমে পোঁছান উত্তর গাবসারার রুলীপাড়া বাজারে। সাত থেকে আটটি দোকান আছে এই বাজারে। বাজারের একটি দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই কথা হয় দোকানি আজগরের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, সারা দিনে বাজারে তেমন লোকজন থাকে না। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কাজ শেষে বিকেলে কিছু লোকজন বাজারে আসবে। সন্ধ্যা গড়াতেই আবার সবাই ঘরে ফিরে যাবে।

আসন্ন নির্বাচনের আমেজ নিয়ে কথা হলে আজগর বলেন, ‘এখানে ভোট হবে, প্রার্থীরাও এসে গেছে। ভোট চাইলো, মিটিং হইছে বাজারে। পোস্টার টানানো আছে বিভিন্ন জায়গায়।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরে বসবাসরত মানুষের প্রধান সমস্যা অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কাঁচা আর সরু রাস্তা হওয়ায় মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তাছাড়া আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পান না তারা। এই ক্লিনিক বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে মোটরসাইকেলযোগে নৌকাঘাট এরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সিরাজগঞ্জ বা ভূঞাপুর নিয়ে যেতে হয়। বাসিন্দাদের চাওয়া, চরে অন্তত একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করা হোক, যাতে এখানকার মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে।

নেই পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও হাই স্কুল থাকলেও নেই কোনো কলেজ। এতে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পড়তে হলে এখানকার ছেলে-মেয়েদের নদী পার হয়ে অন্য অঞ্চলের কলেজে যেতে হয়। সংগ্রামের এই জীবনে তাই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহল চরাঞ্চলে কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

চরে ভোটের আমেজ

গাবসারা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, রুলীপাড়া বাজার ও মেঘারপটল বাজারে টানানো হয়েছে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার। চরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজারের নাম সোহাগীপাড়া বাজার। বেশ কিছু দোকান আছে এখানে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের প্রার্থীর ব্যানার চোখে পড়ে এখানেও।

jagonews24.comচরের মানুষের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে ভরসা ঘোড়ার গাড়ি/ছবি: জাগো নিউজ

উত্তর বেহারী বাজারেও চোখে পড়ে নির্বাচনি ব্যানার। তবে ভরদুপুরে দোকানপাট সব বন্ধ। কারণ এখানকার মানুষ কৃষিনির্ভর, সারা দিনের পরিশ্রম শেষে সন্ধ্যায় এই বাজারে কিছুটা সময় কাটান তারা।

এ ছাড়া দুর্গম এই চরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্প স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী। সেনা সদস্য আর পুলিশের টহল টিমেরও ভরসা মোটরসাইকেল। স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের থেকে ভাড়া নিয়ে এই এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পথিমধ্যে দেখা হয় গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দরভাবে হবে, এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আমাদের পল্লী অঞ্চলের লোকজন খুবই শান্তিপ্রিয়, মারামারি-কাটাকাটি এসবের মধ্যে নাই। সবাই সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ আসলেও আমরা যেভাবে থাকি বিএনপি আসলেও সেভাবে থাকি। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নাই।’

মো. আবুল কালাম আরও বলেন, মানুষের মধ্যে ভোটের আমেজ আছে। আমাদের এই ইউনিয়নে ২৪ হাজার মানুষের মধ্যে কলেজ পড়ুয়া ৫০০ ছাত্র-ছাত্রী আছে। তারা নদী পার হয়ে কলেজে যায়। আমাদের এখানে কলেজ থাকা প্রয়োজন। দুর্গম এলাকা আর নদী ভাঙনের কারণে এসব হয় না। তবে নদী ভাঙন আগের চেয়ে কমে গেছে। ২০ বছর আগে যেভাবে বাড়ি ভাঙতো এখন নদীতে সেভাবে আর বাড়ি ভাঙে না। তবে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙনের সমস্যা আর থাকবে না।
 
সাবেক এই ইউপি সদস্য বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ঠিকভাবে সেবা দিচ্ছে না। কারও কোনো সমস্যা হলে ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল বা সিরাজগঞ্জ নিতে হয়। মোটরসাইকেল আর নৌকা পারাপারের মাধ্যমে রোগী নিতে হয়। একটি আধুনিক হাসপাতাল খুবই প্রয়োজন। সপ্তাহে যদি একদিনও ডাক্তার এসে রোগী দেখেন তাহলে আমাদের অনেক উপকার হয়।

স্থানীয় রুলীপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মজিদ বলেন, হাটে-বাজারে, চা স্টলে কমবেশি সবাই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে। অনেক লোকজন ভোট চাইতে আসে। মানুষের ভোট দিতে আগ্রহ আছে, চর অঞ্চলের সবাই ভোট দিতে যাবে।

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা বলে ভোটে পাস করলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবে, দুর্নীতি কমাবে। নেতারা আশ্বাস দিতাছে। আশ্বাস শুনে আমরা আরও খুশি হই।’

রুলীপাড়া বাজারের দোকানি আমজাদ হোসেন বলেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে পর্যাপ্ত উৎসাহ আছে। জমজমাটই হবে আশা করি।

তিনি বলেন, এটি দুর্গম চরাঞ্চল। কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে ঘোড়ার গাড়িতে নিতে হয়। অনেক সময় ঘোড়ার গাড়িও পাওয়া যায় না। সরকার যদি চরাঞ্চলের মানুষদের একটু সুযোগ-সুবিধা দিতো আমাদের অনেক উপকার হতো।

মাথায় ফসল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রেজাউল। তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় সবাই ভোট দিতে যাইবো। রাস্তাঘাট কাঁচা। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউই কাজ করে না।’

jagonews24.comস্থানীয় এক কৃষকের সঙ্গে কথা বলছেন জাগো নিউজের প্রতিবেদক/ছবি: জাগো নিউজ

সত্তরোর্ধ্ব কৃষক আবদুল হাই বলেন, ‘যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট হয় যাব, নইলে যাব না। যদি পথে যাইয়া কয়গা, ভোটাভোটি হইয়্যা গ্যাছেগা, তাইলে যাইয়া আর কি করমু! কয়বার দিলাম, ভোট দিবার যাইয়া শুনি ভোটাভোটি হইয়্যা গ্যাছেগা। তাইলে আর ভোট করবার দরকার কি! যদি খালি সুষ্ঠু ভাবে ভোট হয় তাইলে যামু, নইলে যামু না। হুদাই কামড়াকামড়ি কইরা লাভ কি।’  

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছ থেকে কোনো অনুদান আসে না। এলাকার কোনো সমস্যারই সমাধান হয় না। রাস্তাঘাট হয় না। জায়গায় জায়গায় ভাঙন হইছে, আমরা কিছু পাই নাই। অসুস্থ হলে পয়সা-পাতি খরচ করে যাওন লাগে। নাউ (নৌকা) ভাড়া আছে, গাড়ি ভাড়া আছে।

জীবন সংগ্রামের সঙ্গী নারীরাও 
জীবন এখানে কতটা সংগ্রামের তার দেখা মেলে এখানকার নারীদের দেখলে। ঘরের কাজ সামলে তারা মাঠের কাজেও সমান পারদর্শী। উত্তর বেহারী পাড়ায় দেখা মিললো তিনজন নারীর। তাদের স্বামীরা সবাই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। ঘরের কাজ শেষে তিনজনই বের হয়েছেন গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে। বস্তায় ঘাস ভরে বাড়িতে ফেরার পথে কথা হয় সুরুতুন বেগম নামের একজনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমাগো এলাকায় নদী বাইন্ধ্যা (বাঁধ) দেওন লাগবো। আমাগো বছর বছর বাড়ি ঘর ভাঙে। আমাগো চলাফেরার কষ্ট হয়। আইসা খালি ভোট চায়, কিছু করে দিবার চায় না। যার যার কামাই সেই খাইবো, আমাগোরে একটু দেখলেই হয়।’

jagonews24.comজীবন সংগ্রামে পিছিয়ে নেই চরের নারীরাও/ছবি: জাগো নিউজ

ভরদুপুরে নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন সোহরাব মিয়া। কাজের ফাঁকে তিনি বলেন, চর এলাকায় তো অনেক সমস্যা। নদী ভাইঙ্গ্যা যায়গা। বেড়িবাঁধ দিলে আর কষ্ট হয় না।

চর বিহারী এলাকায় ধান রোপণের কাজ করছিলেন ৬৫ বছর বয়সী  আবদুর রশিদ। ক্ষেতের আইলে কথা হলো তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাগো এইডা ব্যাগোড (দুর্গম) জায়গা। যে ব্যাপারিই আসুক তাগোর নৌকা খরচা-গাড়ি খরচা এগুলা রাইখ্যা দেয়। আমাগো কম দামেই ব্যাঁচা (বিক্রি করা) লাগে। গবিন্দাসী (নদীর ওপারের হাট) নিয়া গেলেও আমাগো খরচা হয়। এ জন্য কম দামেই ব্যাঁচা লাগে। এহানেও হাট আছে, আমরা নিয়া যাই। ঘোড়ার গাড়ি, মোটরসাইকেল আছে, তবে মাথায় করেই বেশি নিয়া যাই। রাস্তা বেশি জুতের (সুবিধা) না। এহানে সবাই কৃষি কাজ করে, অন্য কোনো পেশা নাই।  

প্রায় ২৫ বছর ধরে নির্বাচনকালীন বিভিন্ন সময়ে আনসার সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন মোছা. তারাবানু। তিনি বলেন, ‘সবাই বলতাছে অনেক দিন ভোট দিতে যাইতে পারি না। এখন আমাগো মনে আনন্দ, ভোট দিকে যাব। যার যেখানে মনে চাইবো সে সেখানে ভোট দিবো। আগে তো ভোটই হয় নাই, আগের রাইতেই ভোট শেষ। সবাই বলতেছে এবারই সিস্টেম ভালো।’

ভোটের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রস্তুত প্রশাসন

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ভূঞাপুর উপজেলা টাঙ্গাইল-২ আসনের অন্তর্গত। উপজেলায় ৬১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে দুর্গম চর গাবসারা ও অর্জুনাতে আছে ১৯টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে গাবসারাতেই আছে ১০টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ইতিমধ্যে সব ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে।

jagonews24.comগাবসারা ইউনিয়নের রুলীপাড়া বাজারে টানানো নির্বাচনি ব্যানার/ছবি: জাগো নিউজ

তিনি বলেন, স্থলের বাইরের কেন্দ্রগুলো দুর্গম হওয়ায় আমাদের নদীপথ, ঘোড়ার গাড়ি ও পায়ে হেঁটে যেতে হয়। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আইনবিধি এবং নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের প্রিপারেশন (প্রস্তুতি) ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা ভোটের কার্যক্রম পরিচালনা করবো।

নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও সার্বিক কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না—জানতে চাইলে ইউএনও মো. মাহবুব হাসান বলেন, দুর্গম চরই আসলে একটা চ্যালেঞ্জ। চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং চরাঞ্চলের যে ব্যবস্থাপনা সেটি আসলে একটি চ্যালেঞ্জ। এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে চ্যালেঞ্জ যাই হোক আইনবিধি অনুযায়ী আমরা সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবো।

এনএস/এমএমকে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow