সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ ‘অসুস্থ’ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠিতে তার মুক্তির হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। বুধবার (১ এপ্রিল) তার বড় মেয়ে মেহেত মামুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে লেখা হয়- ‘আমার আব্বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি লড়াই করতে গিয়ে পরিবারের অর্থাভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আইনি খরচ মেটাতে গিয়ে তার চিকিৎসা খরচা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি এখন মৃত্যুর দিন গুনছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে তা আমাদের চোখের সামনে হওয়ায় আমারও বিমর্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যেকোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশু মুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন, নয়তো আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!’ এ চিঠির এক কপি প্রধানমন্ত্র

সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার
রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ ‘অসুস্থ’ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠিতে তার মুক্তির হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। বুধবার (১ এপ্রিল) তার বড় মেয়ে মেহেত মামুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে লেখা হয়- ‘আমার আব্বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি লড়াই করতে গিয়ে পরিবারের অর্থাভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আইনি খরচ মেটাতে গিয়ে তার চিকিৎসা খরচা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি এখন মৃত্যুর দিন গুনছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে তা আমাদের চোখের সামনে হওয়ায় আমারও বিমর্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যেকোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশু মুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন, নয়তো আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!’ এ চিঠির এক কপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।’ উল্লেখ্য যে, সরকার ‘উৎখাতের ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে যে মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী গ্রেপ্তার হন, সেই মামলায় শওকত মাহমুদকে ৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। এ মামলায় সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরে গত ১৬ মার্চ শওকত মাহমুদকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ৩০ মার্চ রাখেন। শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলার অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বছর ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বেলা ১১টায় ওই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে দাখিলকৃত আবেদনপত্রে মেহেত মামুন বলেন, ‘আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাটিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রধান নেতা আপনার শ্রদ্ধেয় পিতা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করেছেন। সেভাবেই দলের অনুগত হিসেবে সাংবাদিক পেশার মানুষদের সুসংগঠিত করেছেন। এর জন্য তাকে কম নিগ্রহের শিকার হতে হয়নি! আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ৭০টি মামলায় দীর্ঘ দেড় বছর কারাবাস করেন। তবে আপনার ও আপনার মার থেকে পাওয়া দীক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে কখনো আপস করেননি। চিঠিতে বলা হয়- ‘আমার পিতা গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ এ একটি মিত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। তাকে এক কাপড়ে গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা তুলে নিয়ে একটি মামলায় যুক্ত করেন, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই বলে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বারবার বলে আসছেন। তার চলমান কারাবাস সময়ে যতবার দূর থেকে কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাতে তিনি তার কষ্টের জীবনের বাইরেও আপনার (প্রধানমন্ত্রী) খোঁজ নিয়েছেন।’  চিঠিতে আওয়ামী লীগ আমলেও আপস না করার কারণে পরিবারের নানাবিধ আর্থিক দুর্দশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সেসবও তুলে ধরেন। বাসা ভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে না পারা, স্ত্রীর ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি করে সংসারের খরচ চালানোসহ বারবার ইউটিলিটি বিল দিতে না পারায় তা বিচ্ছিন্নের ঘটনা পাঁচ অগাস্টের আগে ও পরের সময়েও ছিল বলে এতে তুলে ধরা হয়। শওকত মাহমুদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, ‘আমার আব্বার (শওকত মাহমুদ) ২০০৪ সালের ৬টি বাইপাস সার্জারি, ২০১৩ সালের দুটি স্টেন্ট এবং ২০২২ সালের আরো দুটি স্টেন্ট বসানোর তথ্য ও বর্তমানে থাকা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিও ইপিডি, শ্বাসকষ্ট, চলনশক্তির দুর্বলতা ও এবং বিভিন্ন রোগে ভোগার তথ্য জেনে আপনি অবশ্যই আপনার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার প্রতি সদয় হবেন। তিনি এতটাই বর্তমানে অসুস্থ যে তাকে মিথ্যা মামলায় তাও আবার অজ্ঞাত হিসেবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ায় ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ভর্তি হতে হয়। সেখানে রিউমাটোলজি বিভাগের অধীনে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- ‘আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যেকোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশু মুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন, নয়তো আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow