সাইবার যুগে নজরুল: তরুণরা কীভাবে দেখছে বিদ্রোহী কবিকে

অভিলাষ মাহমুদবাঙালির দ্রোহ, প্রেম আর সাম্যের চিরন্তন প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তাঁর লেখনী দিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজত্বের ভিত। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এক চরম ডিজিটাল ও প্রযুক্তি-নির্ভর যুগে। ১১ জ্যৈষ্ঠ-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। এই বিশেষ ক্ষণে দাঁড়িয়ে একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়: আজকের সাইবার যুগে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের গোলকধাঁধায় বন্দি তরুণ প্রজন্মের কাছে নজরুলের আবেদন ঠিক কেমন? তরুণরা আজ কীভাবে দেখছে এই বিদ্রোহী কবিকে? বর্তমান প্রজন্মকে বলা হয় ‘জেন জি’ এবং ‘মিলেনিয়ালস’। এদের দিন শুরু হয় স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন দেখে, আর দিন শেষ হয় অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের ক্লান্তিতে। গতি আর ক্ষণস্থায়ী ট্রেন্ডের এই যুগে যেখানে দীর্ঘ সাহিত্যপাঠের অভ্যাস ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, সেখানে নজরুল কি কেবলই পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাসে বন্দি কোনো আনুষ্ঠানিকতার নাম, নাকি তিনি এখনো তরুণদের ধমনীতে রক্তস্রোত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক জীবন্ত উদ্দীপনা?

সাইবার যুগে নজরুল: তরুণরা কীভাবে দেখছে বিদ্রোহী কবিকে

অভিলাষ মাহমুদ
বাঙালির দ্রোহ, প্রেম আর সাম্যের চিরন্তন প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তাঁর লেখনী দিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজত্বের ভিত। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এক চরম ডিজিটাল ও প্রযুক্তি-নির্ভর যুগে। ১১ জ্যৈষ্ঠ-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। এই বিশেষ ক্ষণে দাঁড়িয়ে একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়: আজকের সাইবার যুগে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের গোলকধাঁধায় বন্দি তরুণ প্রজন্মের কাছে নজরুলের আবেদন ঠিক কেমন? তরুণরা আজ কীভাবে দেখছে এই বিদ্রোহী কবিকে?

বর্তমান প্রজন্মকে বলা হয় ‘জেন জি’ এবং ‘মিলেনিয়ালস’। এদের দিন শুরু হয় স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন দেখে, আর দিন শেষ হয় অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের ক্লান্তিতে। গতি আর ক্ষণস্থায়ী ট্রেন্ডের এই যুগে যেখানে দীর্ঘ সাহিত্যপাঠের অভ্যাস ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, সেখানে নজরুল কি কেবলই পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাসে বন্দি কোনো আনুষ্ঠানিকতার নাম, নাকি তিনি এখনো তরুণদের ধমনীতে রক্তস্রোত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক জীবন্ত উদ্দীপনা? একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তরুণদের মনস্তত্ত্ব পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, নজরুল আসলে ফুরিয়ে যাননি; বরং এই সাইবার যুগে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হয়েছে একদম নতুন আঙ্গিকে। নজরুল আজ আর কেবল লাইব্রেরির আলমারিতে বন্দি ধূলিধূসরিত বই নন, তিনি আজ তরুণদের ডিজিটাল স্পেসের এক অন্যতম আইকন।

ডিজিটাল দুনিয়ায় নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা

নজরুলের মূল পরিচয় তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’। কিন্তু আজকের তরুণদের কাছে এই ‘বিদ্রোহ’ শব্দটির সংজ্ঞা কিছুটা বদলেছে। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন বা সরাসরি রাজনৈতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আজ নেই, কিন্তু তরুণ সমাজ আজ এক অন্যরকম অদৃশ্য শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সাইবার বুলিং, করপোরেট সংস্কৃতির চরম শোষণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নানামুখী সেন্সরশিপ এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একঘেয়েমি-এই সবকিছু মিলিয়ে আজকের তরুণরা এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে তরুণরা যখন কবি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার দিকে তাকায়, তখন তারা সেখানে খুঁজে পায় নিজেদের ভেতরের জমে থাকা ক্ষোভের ভাষা। তরুণদের ফেসবুক স্ট্যাটাস, এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল কিংবা ইনস্টাগ্রামের রিলসে নজরুলের কবিতার পঙ্ক্তিগুলো আজ ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। যখন কোনো তরুণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সিস্টেমের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনলাইনে তার কণ্ঠস্বর তুলতে চায়, তখন অজান্তেই তার কিবোর্ড থেকে বেরিয়ে আসে-‘আমি চির-দুরন্ত, আমি দুর্দম, আমি নৃশংসব, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!’

ডিজিটাল আর্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ক্যালিগ্রাফি নিয়ে কাজ করা তরুণ শিল্পীদের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের কাজের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা নজরুল। ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে নজরুলের ঝাঁকড়া চুলের সেই চিরচেনা অবয়বকে আধুনিক সাইবারপাঙ্ক স্টাইলে কিংবা মিনিমালিস্টিক ইলাস্ট্রেশনে ফুটিয়ে তুলছে তরুণরা। নজরুলের বিপ্লবী বাণীগুলোকে তারা চমৎকার সব ক্যালিগ্রাফিতে রূপ দিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, নজরুল কেবল অতীতের কোনো চরিত্র নন, তরুণরা তাঁকে নিজেদের যুগের এক আধুনিক বিপ্লবী হিসেবেই গ্রহণ করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস ও নজরুলের গান

নজরুল সংগীতের সুর ও বাণীর বৈচিত্র‍্য অতুলনীয়। একাধারে প্রেম, বিরহ, আধ্যাত্মিকতা এবং গণসংগীতের এমন মেলবন্ধন বাংলা সংগীতে বিরল। আজকের স্পটিফাই কিংবা ইউটিউবের যুগে নজরুল সংগীতের আবেদন তরুণদের মাঝে কেমন, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এক আশাব্যঞ্জক চিত্র দেখা যায়।

আজকের তরুণ ইন্ডি-মিউজিশিয়ান এবং ব্যান্ডগুলো নজরুল সংগীতকে একদম নতুনভাবে আবিষ্কার করছে। নজরুল সংগীতের চিরাচরিত শাস্ত্রীয় ধারাকে অক্ষুণœ রেখেও তারা যুক্ত করছে আধুনিক অ্যাকোস্টিক গিটার, সিন্থেসাইজার কিংবা ড্রামসের বিট। ‘কারার ওই লৌহকপাট’ কিংবা ‘চল চল চল’ গানগুলো যখন রক বা মেটাল জেনারে নতুন করে গায় কোনো তরুণ ব্যান্ড, তখন কনসার্টের হাজারো তরুণ দর্শক একসঙ্গে গেয়ে ওঠে। এই যে গানের মাধ্যমে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়া, এটাই নজরুলের চিরতরুণ শক্তির প্রমাণ।

শুধু কি বিপ্লবী গান? নজরুলের প্রেমের গান ও গজলের প্রতিও তরুণদের টান কম নয়। ‘চেয়ো না সুনয়না আর এ নয়ন পানে’ কিংবা ‘এত জল ওকাজল চোখে’এই গানগুলো আধুনিক লো-ফাই সং বা স্লো অ্যান্ড রিভার্ব সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। রাতে হেডফোন কানে গুঁজে একা থাকার মূহূর্তে তরুণরা যখন এই গানগুলো শোনে, তখন তারা নজরুলের ভেতরের সেই তীব্র প্রেমিক সত্তার সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারে। ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের ১৫ সেকেন্ডের রিলস ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবেও নজরুল সংগীতের ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তির ভাষায় একে বলা যায় ক্লাসিক সাহিত্যের ‘ডিজিটাল অ্যাডাপ্টেশন’। তরুণরা নজরুলকে বর্জন করেনি, তারা নজরুলের সৃষ্টিকে নিজেদের মতো করে রিব্র‍্যান্ডিং করে নিয়েছে।

সাম্যবাদ ও সাইবার অ্যাক্টিভিজম

বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম বড় সংকট হলো চরম অসমতা, বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ। ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া যেমন মানুষকে যুক্ত করেছে, তেমনি এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করেই চরম বিদ্বেষ ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছে। এই সাইবার-অরাজকতার যুগে তরুণ অ্যাক্টিভিস্টদের জন্য নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ চেতনা এক পরম আশ্রয়।

নজরুল লিখেছিলেন, ‘গাহি সাম্যের গান-যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান’। আজকের তরুণরা যারা অনলাইনে মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে কাজ করে, তারা নজরুলের এই ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সাইবার স্পেসে যখনই কোনো সাম্প্রদায়িক উসকানি বা ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রগতিশীল তরুণ সমাজ নজরুলের ‘মানুষ’ কবিতার পঙ্ক্তিগুলো দিয়ে তার কাউন্টার-ন্যারেটিভ তৈরি করে।

আজকের তরুণরা জেন্ডার ইকুয়ালিটি বা নারী অধিকার নিয়ে সচেতন। তারা যখন নজরুলের ‘নারী’ কবিতাটি পড়ে-‘বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’ তখন তারা উপলব্ধি করতে পারে যে, আজ থেকে এক শতাব্দী আগেই এই মানুষটি এমন এক আধুনিক চিন্তার বীজ বপন করে গিয়েছিলেন, যা অর্জনের জন্য আজ অব্দি দুনিয়াজুড়ে আন্দোলন চলছে। নজরুলকে তাই তারা কোনো প্রাচীনপন্থী কবি মনে করে না, বরং তাদের চোখে নজরুল একজন অগ্রগামী চিন্তাবিদ, একজন ফিউচারিস্ট।

শিশুসাহিত্য ও সাইবার প্রজন্মের শৈশব

আজকের শিশু-কিশোররা বড় হচ্ছে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। ভিডিও গেম আর কার্টুনের ভিড়ে আমাদের নিজস্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপাদানগুলো হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু এই যান্ত্রিকতার মাঝেও নজরুলের শিশুতোষ ছড়া ও কবিতাগুলোর এক অনন্য জাদু রয়ে গেছে। ‘ভোর হলো দোর খোল’, ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’ কিংবা ‘খুকী ও কাঠবিড়ালী’ এই ছড়াগুলো আজ কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। অনেক তরুণ অ্যানিমেটর এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এই ছড়াগুলোকে ত্রিমাত্রিক বা দ্বিমাত্রিক অ্যানিমেশনে রূপান্তর করে ইউটিউবে প্রকাশ করছেন। এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে আজকের সাইবার প্রজন্মের শিশুরাও ল্যাপটপ বা ট্যাবের স্ক্রিনে নজরুলের ছড়া দেখে বড় হচ্ছে। নজরুলের রচনার ভেতরের যে সহজাত কৌতুকবোধ, ছন্দ আর দোলা, তা যেকোনো যুগের শিশুর মনকেই জয় করতে সক্ষম। তরুণ বাবা-মায়েরা আজ তাদের সন্তানদের যান্ত্রিক গ্যাজেটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে নজরুলের এই রঙিন ও ছন্দময় দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

চিরতরুণদের আইকন: নজরুলের চিরকালীন যৌবন

নজরুল নিজেই এক জায়গায় বলেছিলেন, ‘বার্ধক্যকে সব সময় তাড়া করিয়াছে যৌবন।’ তিনি সারাজীবন যৌবনের গান গেয়েছেন। তাঁর কাছে যৌবন কোনো বয়সের ফ্রেমে বাঁধা সংখ্যা ছিল না, যৌবন ছিল এক অদম্য মানসিকতা, অন্যায়কে মেনে না নেওয়ার এক দুর্মর সাহস।

আজকের তরুণ প্রজন্ম নানা কারণে বিষণ্নতা, হতাশা আর একাকীত্বে ভোগে। ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড়, প্রতিযোগিতার চাপ আর ভার্চুয়াল জগতের মেকি চাকচিক্য অনেক সময় তরুণ মনকে ক্লান্ত করে তোলে। এই ক্লান্তি আর অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে নজরুলের জীবনী এবং তাঁর সৃষ্টি এক মহৌষধ হিসেবে কাজ করতে পারে। নজরুলের জীবন ছিল চরম দারিদ্র‍্য, দুঃখ-কষ্ট আর ঝড়ের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস। লেটোর দল থেকে শুরু করে রুটির দোকানের কর্মচারী, পল্টনের সৈনিক থেকে রাজদ্রোহের অপরাধে জেল খাটা কোনো কিছুই তাঁর ভেতরের আনন্দময় ও লড়াকু সত্তাকে দমাতে পারেনি।

তরুণরা যখন নজরুলের এই সংগ্রামী জীবনের গল্প পড়ে, তখন তারা নিজেদের ক্ষুদ্র জীবনের সংকটগুলোকে জয় করার শক্তি পায়। তারা বোঝে যে, জীবনের আসল মানে হলো সমস্ত প্রতিক‚লতাকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। নজরুল তাদের শেখান কীভাবে ভাঙনের ভেতর থেকেও নতুন সৃষ্টির আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।

পরিশেষে: কালজয়ী নজরুল

কাল যখন জ্যৈষ্ঠের উদীয়মান সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হবে, তখন সারা দেশের রাজপথে, মঞ্চে হয়তো প্রথাগত উপায়ে ফুল দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হবে। কিন্তু তাঁর আসল উদযাপনটা ঘটছে এবং ঘটবে তরুণদের মনে, তাদের প্রতিদিনের যাপনে ও লড়াইয়ে।

সাইবার যুগের তরুণরা নজরুলকে কোনো দেবতার আসনে বসিয়ে দূরে সরিয়ে রাখেনি, তারা তাঁকে বানিয়েছে নিজেদের পরম বন্ধু, সহযোদ্ধা। ফেসবুকে ট্রলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিবোর্ডের ঝড়ে, মিউজিক অ্যাপের প্লেলিস্টে কিংবা মধ্যরাতের একাকীত্বের ডায়েরিতে নজরুল আছেন এবং থাকবেন। কবি নজরুল তাঁর স্বল্প মেয়াদের সৃজনশীল জীবনে যে কালজয়ী বাণী ও সুরের ভাণ্ডার রেখে গেছেন, তা শত শত সাইবার বিপ্লব পেরিয়েও একইভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে। কারণ, যত দিন পৃথিবীতে অন্যায় থাকবে, যত দিন মানুষের বুকে প্রেমের স্পন্দন থাকবে, তত দিন নজরুল থাকবেন চিরতরুণ, চিরভাস্বর। সাইবার যুগের এই ডিজিটাল ক্যানভাসে নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা তাই আরও বেশি উজ্জ্বল, আরও বেশি অপ্রতিরোধ্য।

আরও পড়ুন
৫৭৮ নাতি-নাতনি, ১০২ সন্তান, ১২ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার তার
ডায়মন্ড-পান্ডার বর্জ্য, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫ চা তৈরি হয় যেভাবে

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow