সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মব-নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যেসব মব, বিভাজন ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বড় ধরনের নৈরাজ্যমূলক বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একটি উপাদান হতে পারে। ইতোমধ্যে সে লক্ষণ দেখা গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এ নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা বা কার্যকর উদ্যোগ আমি এখনো দেখছি না। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ বা সক্ষমতা, এমনকি সদিচ্ছাও দেখা যাচ্ছে না। নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য—এসব নিয়ন্ত্রণে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সর্ব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মব-নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যেসব মব, বিভাজন ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বড় ধরনের নৈরাজ্যমূলক বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একটি উপাদান হতে পারে। ইতোমধ্যে সে লক্ষণ দেখা গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এ নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা বা কার্যকর উদ্যোগ আমি এখনো দেখছি না।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ বা সক্ষমতা, এমনকি সদিচ্ছাও দেখা যাচ্ছে না। নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য—এসব নিয়ন্ত্রণে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত।

তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে ছোটখাটো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিক থেকে কোনো উদ্যোগ দেখছি না।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ আক্ষেপের কথা জানান।

এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলীলী।

রংপুর থেকে রাঙ্গামাটি ৮টি শহরে নাগরিক আলোচনার ফলাফল জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় উপাদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। নাগরিকরা মনে করছেন এআইয়ের অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিভাজন ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। সেই নৈরাজ্য ও বিভাজন আগামী দিনে নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

নাগরিকদের অভিব্যক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রচার করা হয়, সেটা ব্যক্তিজীবনেও প্রতিফলিত হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের উদ্যোগ, সক্ষমতা ও ইচ্ছা দেখতে পারছি না। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় ১২ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডেনমার্কে করতে চাচ্ছে। আমরা নাগরিকদের জিজ্ঞেস করেছি, আপনারা কি এটির পক্ষে, উনারা ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। অর্থাৎ এক ধরনের দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারা প্রয়োজন মনে করছেন। তখন আমি তাদের মনে করিয়ে দিয়েছি, এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই কিন্তু নেপালে সরকার পড়ে গেছে। সেটাও মনে রাখতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকার একপর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল। এতেই প্রমাণ হয় সামাজিক মাধ্যমের শক্তি কতটুকু। ইন্টারনেট বন্ধ করার ভেতর দিয়ে সরকারের যে নৈতিক পরাজয় হয়েছিল, পরবর্তীতে মানুষ এর বিকল্প খুঁজে বের করেছিল।

ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের নাগরিকদের অন্যতম দাবি হলো—একটি একীভূত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার করতে হবে।

এসএম/এমকেআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow