সাড়ে ৩ কিলোমিটারের সড়কে বরাদ্দ ১০ কোটি, তবু অনিয়মের অভিযোগ
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার-সাইলো (খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার) সড়ক সংস্কার ও পুননির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের কাজের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও চরম নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঝোলানো হয়নি। সঠিক তদারকি ও পর্যবেক্ষণের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ছিল। এতে উপজেলার সান্দিড়া, দমদমা, প্রশাদখালী, কদমা, করজবাড়ী ও এর আশপাশের ২৫টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সংরক্ষণাগারের খাদ্যশস্য ও বাফার গুদামের সার পরিবহনে ব্যবহার করা ভারি ট্রাকের চাপে এর বিভিন্ন স্থানে ইট ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল। সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সড়কটি নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার-সাইলো (খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার) সড়ক সংস্কার ও পুননির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের কাজের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও চরম নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঝোলানো হয়নি। সঠিক তদারকি ও পর্যবেক্ষণের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ছিল। এতে উপজেলার সান্দিড়া, দমদমা, প্রশাদখালী, কদমা, করজবাড়ী ও এর আশপাশের ২৫টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সংরক্ষণাগারের খাদ্যশস্য ও বাফার গুদামের সার পরিবহনে ব্যবহার করা ভারি ট্রাকের চাপে এর বিভিন্ন স্থানে ইট ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল।
সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সড়কটি নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ পান নওগাঁর এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ৩ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়, যা ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইলো খাদ্য সংরক্ষণাগারের প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজ শুরু করেছে। তবে কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।
সাইলোর পাশের গ্রাম সান্দিড়ার সোহেল রানা, খোকন, সবুজ ও গুলজারের অভিযোগ, সড়ক প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি খনন না করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি খনন করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিম্নমানের পুরনো ইট ব্যবহার, আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে ১০ মিলি রড, নিম্নমানের পাথর ও বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরসিসি ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পুরনো কার্পেটিং তুলে রোলার করা প্রয়োজন থাকলেও পুরনো কার্পেটিংয়ের ওপর বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা টেকসই নয়। ওই বাসিন্দারা আরোও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইনবোর্ড বসায়নি। এলাকাবাসী শিডিউল দেখতে চাইলে প্রায় এক মাস পার হলেও তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)-এর সাইড ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের সব নির্মাণ সামগ্রীর ল্যাবরেটরি টেস্ট করা হয়। এরপর সেসব সামগ্রী নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। ইটের সমস্যা থাকতে পারে। কারো অভিযোগ থাকলে খারাপ ইট তাৎক্ষণিক তুলে নিয়ে চলে যাব। তা ছাড়া শিডিউল অনুযায়ীই কাজ চলছে।
জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এ টি এম কাউছার হোসেন জানান, গতকাল বুধবার বিষয়টি জেনেছি। এরপর থেকে কাজটি যাতে মানসম্মত হয়, সে জন্য ওখানে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী স্ট্যান্ড বাই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরএমও, আরএমইও কাজ তদারকি করছেন। ঢালাইয়ের সময় তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন। আশা করি, কাজ ভালো হবে।
এল.বি/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?