সিঁড়ি ভাঙলেই ক্লান্ত? কারণটা শুধু অলসতা নয়

দু-এক তলা সিঁড়ি উঠতেই শ্বাস দ্রুত হয়ে যাচ্ছে, বুক ধড়ফড় করছে বা হাঁপিয়ে পড়ছেন? অনেকেই মনে করেন, এটি কেবল অলস জীবনযাপনের ফল। যদিও সেটি একটি কারণ হতে পারে, তবে এর পেছনে আরও কিছু শারীরিক কারণও থাকতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে লিফট থাকায় সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে সিঁড়ি ভাঙা ছাড়া বিকল্প থাকে না। তখন সামান্য কয়েক ধাপ উঠতেই যদি শ্বাসকষ্ট বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। আরও পড়ুন জলাবদ্ধ পানিতে হাঁটলেন? বাসায় ফিরেই করুন এই কাজ সিঁড়ি ভাঙলেই কেন হাঁপিয়ে পড়েন? শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে সমতল পথে হাঁটার তুলনায় সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা অনেক বেশি পরিশ্রমের কাজ। এ সময় পায়ের পেশিগুলোকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় এবং সেই চাহিদা পূরণ করতে হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হয়। এর ফলেই হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। শরীরচর্চার অভাব যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যা কম দেখা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন

সিঁড়ি ভাঙলেই ক্লান্ত? কারণটা শুধু অলসতা নয়

দু-এক তলা সিঁড়ি উঠতেই শ্বাস দ্রুত হয়ে যাচ্ছে, বুক ধড়ফড় করছে বা হাঁপিয়ে পড়ছেন? অনেকেই মনে করেন, এটি কেবল অলস জীবনযাপনের ফল। যদিও সেটি একটি কারণ হতে পারে, তবে এর পেছনে আরও কিছু শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

বর্তমানে অধিকাংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে লিফট থাকায় সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে সিঁড়ি ভাঙা ছাড়া বিকল্প থাকে না। তখন সামান্য কয়েক ধাপ উঠতেই যদি শ্বাসকষ্ট বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সিঁড়ি ভাঙলেই কেন হাঁপিয়ে পড়েন?

শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে

সমতল পথে হাঁটার তুলনায় সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা অনেক বেশি পরিশ্রমের কাজ। এ সময় পায়ের পেশিগুলোকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় এবং সেই চাহিদা পূরণ করতে হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হয়। এর ফলেই হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে।

শরীরচর্চার অভাব

যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যা কম দেখা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করলে হার্ট ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তখন অল্প পরিশ্রমেও বুক ধড়ফড়, হাঁপিয়ে যাওয়া বা হৃদস্পন্দন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পানিশূন্যতা, ক্লান্তি বা অতিরিক্ত ক্যাফিন

ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা মানসিক উদ্বেগ থাকলেও সামান্য শারীরিক পরিশ্রম অনেক বেশি কষ্টকর মনে হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে সিঁড়ি ভাঙার সময় বুকে চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

কিছু শারীরিক সমস্যাও দায়ী হতে পারে

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) থাকলে সিঁড়ি ওঠার সময় সহজেই হাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগ থাকলেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কী করলে এই সমস্যা কমবে?

নিয়মিত শরীরচর্চা, বিশেষ করে কার্ডিও ব্যায়াম বা দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুললে হার্ট ও ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়ে। এতে সিঁড়ি ভাঙার সময় হাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতাও কমে যায়। চাইলে সিঁড়ি ওঠাকেও দৈনন্দিন ব্যায়ামের অংশ হিসেবে রাখতে পারেন। এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং পায়ের পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

তবে সিঁড়ি ওঠার সময় যদি বুক ধড়ফড় শুরু হয়, তাহলে ধীরে ধীরে উঠুন এবং শরীরকে বিশ্রাম দিন। আর যদি দ্রুত হৃদস্পন্দনের সঙ্গে বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি, মাথা ঘোরা, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow