সিরিয়ায় কারফিউ, শহর ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দা

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় সরকারি সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিরীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ড আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়াহ ও বানি জায়েদ এলাকায় দুপুর দেড়টা থেকে কারফিউ জারি করে। একই সঙ্গে জানানো হয়, এসব এলাকায় এসডিএফের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান’ চালানো হবে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের এসডিএফ অবস্থান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পালিয়ে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। পাশাপাশি এসডিএফকে সতর্ক করে এলাকা ছাড়তে চাওয়া বেসামরিকদের ওপর হামলা না চালাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে এসডিএফের মিডিয়া অফিস এই সংঘর্ষের মানবিক পরিণতির দায় সিরীয় সরকারের ওপর চাপিয়েছে এবং সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান কৌশল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আল জাজিরার আলেপ্পো প্রতিনিধি রেসুল সারদার জানান, সামরিক অভি

সিরিয়ায় কারফিউ, শহর ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দা

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় সরকারি সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিরীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ড আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়াহ ও বানি জায়েদ এলাকায় দুপুর দেড়টা থেকে কারফিউ জারি করে। একই সঙ্গে জানানো হয়, এসব এলাকায় এসডিএফের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান’ চালানো হবে।

বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের এসডিএফ অবস্থান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পালিয়ে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। পাশাপাশি এসডিএফকে সতর্ক করে এলাকা ছাড়তে চাওয়া বেসামরিকদের ওপর হামলা না চালাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে এসডিএফের মিডিয়া অফিস এই সংঘর্ষের মানবিক পরিণতির দায় সিরীয় সরকারের ওপর চাপিয়েছে এবং সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান কৌশল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

আল জাজিরার আলেপ্পো প্রতিনিধি রেসুল সারদার জানান, সামরিক অভিযান শুরুর আগেই বহু মানুষ এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছে। সরকার মসজিদ ও স্কুলে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানালেও সেগুলোতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই। অনেক পরিবার উত্তর দিকে আফরিন অঞ্চলের দিকে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সারা রাত গোলাবর্ষণ ও মেশিনগানের শব্দ শোনা গেছে। সংঘর্ষ এখনো চলছে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

সামাজিকবিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেক পরিবার মানবিক করিডোর ব্যবহার করে হেঁটে শহর ছাড়ছে, সঙ্গে নিতে পারছে শুধু প্রয়োজনীয় সামান্য জিনিসপত্র। কিছু পরিবারকে বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

৩৮ বছর বয়সী বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা আহমেদ এএফপিকে বলেন, আমরা সংঘর্ষ থেকে পালিয়েছি। কোথায় যাব জানি না। ১৪ বছরের যুদ্ধ—এটা কি যথেষ্ট নয়?

আরেক বাসিন্দা আম্মার রাজি বলেন, আমার ছয় সন্তান। কঠিন পরিস্থিতির কারণে আমাদের চলে যেতে হয়েছে। ফিরতে পারব কি না জানি না।


মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মার্চ মাসে এসডিএফকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

বুধবার সিরীয় সেনাবাহিনী শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকায় এসডিএফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এ কারণে শহরের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আলেপ্পো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এসডিএফ সিরীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক সামরিক মোতায়েনকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনার ইঙ্গিত’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow