সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে কে কত ভোট পেলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৮ আসনে নিরঙ্কুশ প্রভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতে ২৩ লাখ ৭৯ হাজর ৬০ ভোটে ভোটে বিজয় পেয়েছে দলটি। অপর একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে খেলাফত মজলিস। ফলাফলে বড় ব্যবধান, সংগঠনের মাঠদখল এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রভাব এই তিন বিষয় নির্ধারণী হয়ে উঠেছে নির্বাচন। এবার প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির প্রলোভনে পা দেননি সচেতন ভোটাররা। সিলেট বিভাগে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। এদিকে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত টহল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর অবস্থান, নজরদারি জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।  এ ছাড়া কিছু ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ও অনেক কেন্দ্র ফাঁকা, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের বেশ উপস্থিতি, নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।  এদিকে, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে-৩ জন এবং হব

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে কে কত ভোট পেলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৮ আসনে নিরঙ্কুশ প্রভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতে ২৩ লাখ ৭৯ হাজর ৬০ ভোটে ভোটে বিজয় পেয়েছে দলটি। অপর একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে খেলাফত মজলিস।

ফলাফলে বড় ব্যবধান, সংগঠনের মাঠদখল এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রভাব এই তিন বিষয় নির্ধারণী হয়ে উঠেছে নির্বাচন। এবার প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির প্রলোভনে পা দেননি সচেতন ভোটাররা। সিলেট বিভাগে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

এদিকে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত টহল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর অবস্থান, নজরদারি জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

এ ছাড়া কিছু ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ও অনেক কেন্দ্র ফাঁকা, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের বেশ উপস্থিতি, নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। 

এদিকে, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে-৩ জন এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ২ জন এবং রনিখাই হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১ জনকে আটক করে পুলিশ।

সিলেট জেলার ৬টি আসনের ৫টিতে বিএনপি বিজয়ী ও ১টিতে ১১ দলীয় প্রার্থী।

সিলেট-১ আসন

সিলেট-১ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ ও পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬টা। আসনে প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। ভোট কাস্ট হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৯ ভোট। নষ্ট হয়েছে ৭ হাজার ২৩ ভোট। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮ হাজার ১৬ ভোট। ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৭. ৮১%।

এ আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন সিলেট-১ আসনে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত ইসলামের মাওলানা হাবীবুর রহমান।

সিলেট-১ আসনে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামের মাওলানা হাবীবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। এ ছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী শামীম মিয়া। তিনি আপেল প্রতীকে ২৩৯ ভোট পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৩১৪ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল সঞ্জয় কান্তি দাস কাঁচি প্রতীকে ৮০১ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন কাস্তে প্রতীকে ৯০৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান হাতপাখা প্রতীকে ২৭০১ ভোট ও বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দলের প্রণব জ্যোতি পাল মই প্রতীকে ১১৩৪ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসন

সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯১১ ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৯। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৭ জন ও ভোট নষ্ট হয়েছে ৪ হাজার ৫১টি। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬টি। 

সর্বমোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৪.৫৯%। এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুনতাসির আলী।

এ আসনে বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট, খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে ১৪২০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে ১৪০৮ ভোট, গণফোরামের মুজিবুল হক উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ৬৩৭ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-৩ আসন

সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৬ জন ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫২। প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এ আসনে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৪৭ জন ও ভোট নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৬ ভোট। বৈধ ভোট হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪১ ভোট। সর্বমোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৯.২০%। 

এ আসনে সর্বচ্চো ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এমএ মালিক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ২য় হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু।

বিএনপির প্রার্থী এমএ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী হাতপাখা প্রতীকে ১৩৯১ ভোট, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে ২৬৩০ ভোট, মুস্তাকিম রাজা চৌধুরী স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে ৪১৯৯ ভোট ও মইনুল বাকর কম্পিউটার প্রতীকে ২৯৭ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-৪

সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৩। এ আসনে প্রার্থী ৫ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৫ জন ও ভোট নষ্ট হয়েছে ৭ হাজার ৭৭টি। 

এ নিয়ে বৈধ্য হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৮ ভোট। সর্বমোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৫২.৭৫%। এদিকে রেকর্ড ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ২য় হয়েছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামের জয়নাল আবেদিন।

এ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৬৬ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুর ইসলাম ট্রাক প্রতীকে ৫৬১ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-৫ আসন

সিলেট-৫ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৯টি। আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৫১৮ জন ও ভোট নষ্ট হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৬টা। বৈধ্য ভোট ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ৭৫২টা। সর্বমোট মিলিয়ে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৯. ৩৩%। 

এ আসনে প্রায় ১০ হাজার ভোটে বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। ২য় হয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক।

সিলেট-৬

সিলেট-৬ আসনে ভোটার মোট সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ ভোট ও পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৩টি। প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৬ ভোট ও নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৮০৮টি। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৮টা ভোট। সর্বমোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৭.৮৭%।

এ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ২য় হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট, জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৩ হাজার ৮৪৬ ভোট ও গণাধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান ট্রাক প্রতীকে ১৩৮৬ ভোট পেয়েছেন।

সুনামগঞ্জ জেলার ৫ আসনে বিএনপি বিজয়

সুনামগঞ্জ-১

সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫৩০ ভোট ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৮টা। প্রার্থী ছিলেন ৩ জন। এদিকে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৬১ হাজার ৯২৪ ভোট, ভোট নষ্ট হয়েছে ৬ হাজার। ভোট বৈধ হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯২৪ ভোট, ভোট কাস্ট হয়েছে ৫২.২২%।

এ আসনে বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল জয়ী হয়েছেন। এতে বিএনপি প্রার্থী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৮১৩ জন। না ভোট দিয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৯৪ জন।

সুনামগঞ্জ-২

সুনামগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৭টি ও পোস্টাল ভোট গনণাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি। প্রার্থী ছিলেন ২জন। ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৭ ভোট এর মধ্যে নষ্ট হয়েছে ৩ হাজার ৫২৩ ভোট। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৪ ভোট। সর্বমোট ভোটের পার্সেন্ট হয়েছে ৫৪.৭৩%। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

এতে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস পেয়েছেন ১ হাজার ২৩২ ভোট।

সুনামগঞ্জ-৩

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৩ জন ও পোস্টাল ভোটসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৮টি। প্রার্থী ছিলেন ৭ জন। এ আসনে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯২ জন ও কাস্ট হয়েছে ৪ হাজার ৪৪২টি। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫০ ভোট। ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৪.০৭%।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন- বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে ৪২ হাজার ২২৬ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী ১৪ হাজার ২০৩ ভোট, স্বতন্ত্র মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ২৩৭ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ ৮৫৭ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ৪ হাজার ৯৩৭ ভোট ও স্বতন্ত্র হুসাইন আহমেদ ১৭৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৪৪.০৭ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ৯৩ হাজার ২৭৪ জন। না ভোট দিয়েছেন ৪৫ হাজার ৪১৯ জন।

সুনামগঞ্জ-৪

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোট সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ জন ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১৬টি। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫৫৬টি ও নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৮টি। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৮৫৮টি। মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৬.৩০%। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে, বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৭৫ ভোট। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩০৭ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা ১ হাজার ৭৮৯ ভোট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন ১ হাজার ৯৩৫ ভোট পেয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫৬.৩০ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২৯ জন। না ভোট দিয়েছেন ৫৩ হাজার ৯১৮ জন।

সুনামগঞ্জ-৫

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির ২ হাজার ২৭৮ ভোট, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ১ হাজার ৫২৪ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. আজিজুল হক ৪৩৩ ভোট পেয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫০.০১ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৪ জন। না ভোট দিয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৩০ জন।

হবিগঞ্জের ৪ টি আসনে বিএনপির জয়

হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ ভোট ও পোস্টাল ভোট গণনাসহ মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৮টি। ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৭৭ ভোট ও নষ্ট হয়েছে ৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৮৪টি। সব মিলিয়ে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৬. ০৮%। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া বিজয়ী হয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট, ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬ হাজার ১৩২ ভোট, বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ পেয়েছেন ৬৪৪ ভোট, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭২ ভোট, বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট।

হবিগঞ্জ-২

হবিগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৯ জন ও পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫১। মোট প্রার্থী ৫ জন। ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৯৭৫টি ও ভোট নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৩৯৮টি। 

এখানে বিএনপির প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট, ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৯৪১ ভোট, বাসদের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৪৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদ ১ হাজার ৮৪৩ ভোট পেয়েছেন।

হবিগঞ্জ-৩

হবিগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২ ভোট ও পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৮টি। এ আসনের প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট ও ৫ হাজার ৬০১টি ভোট নষ্ট হয়েছে।

এ আসনে সর্বচ্চো ভোট বিএনপির প্রার্থী জি কে গৌছ বিজয়ী হয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো জি কে গোউছ ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট, জামায়াত প্রার্থী কাজী মহসিন আলী পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মুমিন চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এস এম সরওয়ার পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মহিব উদ্দিন আহমদের সোহেল পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৩ ভোট, মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. শাহিনুর রহমান পেয়েছেন ১৩২ ভোট।

হবিগঞ্জ-৪

হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ ভোট ও পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮৪টি। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৯ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭ ও ভোট ভোট নষ্ট হয়েছে ৮ হাজার ৩২টি। মোট বৈধ ভোট হয়েছে ৩ লাখ ১৯৬৫টি। 

এ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী এস এম ফয়সল বিজয়ী হয়েছেন।

বিএনপি প্রার্থী এস এম ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট, ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পেয়েছেন আহমেদ আবদুল কাদের পেলেন ২৬ হাজার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রেজাউল মোস্তফা পেয়েছেন ৪৮৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী ৬৫২টি, বাসদ প্রার্থী মুজিবুর রহমান ৩২৯ ভোট, মুক্তিজোটের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম খোকন, ৪৮৪ ভোট, মুসলীমলীগের প্রার্থী শাহ মো. আল আমিন ৫৩৬ স্বতন্ত্র সালেহ আহমদ সুজন ৬১৯।

মৌলভবাজার জেলা

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। 

মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী- বড়লেখা) আসনে ৯৮ হাজার ২৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৩০১৩ ভোট।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শওকতুল ইসলাম ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মো. সায়েদ আলী পেয়েছেন ৫৩৪৫৮ ভোট।

মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নাসের রহমান। মৌলভীবাজার-৩ আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭৫টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭৭৬৩৬ ভোট।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ নুরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০২০৪ ভোট।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow