সিসিইউতে জুলাই শহীদ মুগ্ধর বাবা

জুলাই শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মুগ্ধর বড় ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।  পোস্টে তিনি লিখেন, ‘রাত ২টা বাজে। আমি হাসপাতালে আব্বুর বিছানার পাশে বসে আছি। আব্বুর মুখটার দিকেই তাকিয়ে আছি। গতকাল আমাদের বাবা একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। উনি এখন সিসিইউতে।’   স্নিগ্ধ লিখেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় একটি অ্যাটাকের পরও উনি কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব করেননি। শেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময় এই অ্যাটাকটি হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না ঠিক কখন হয়েছে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে যেন আর কোনো ব্যথাই আব্বুর কাছে সত্যিকারের ব্যথা মনে হয় না।’   চিকিৎসক সূত্রে তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা বলেছেন আগামী ৭২ ঘণ্টা উনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি আরেকটি অ্যাটাক হয়, তাহলে সেটি জীবননাশক হতে পারে। এমন ক্রিটিক্যাল অবস্থাতেও আব্বুর দুশ্চিন্তা একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে, যার ক

সিসিইউতে জুলাই শহীদ মুগ্ধর বাবা
জুলাই শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মুগ্ধর বড় ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।  পোস্টে তিনি লিখেন, ‘রাত ২টা বাজে। আমি হাসপাতালে আব্বুর বিছানার পাশে বসে আছি। আব্বুর মুখটার দিকেই তাকিয়ে আছি। গতকাল আমাদের বাবা একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। উনি এখন সিসিইউতে।’   স্নিগ্ধ লিখেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় একটি অ্যাটাকের পরও উনি কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব করেননি। শেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময় এই অ্যাটাকটি হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না ঠিক কখন হয়েছে। মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে যেন আর কোনো ব্যথাই আব্বুর কাছে সত্যিকারের ব্যথা মনে হয় না।’   চিকিৎসক সূত্রে তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা বলেছেন আগামী ৭২ ঘণ্টা উনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি আরেকটি অ্যাটাক হয়, তাহলে সেটি জীবননাশক হতে পারে। এমন ক্রিটিক্যাল অবস্থাতেও আব্বুর দুশ্চিন্তা একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে, যার কেমোথেরাপির জন্য আব্বুর সাহায্য করার কথা ছিল। বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যেন সেই সাহায্যটি ঠিকমতো পৌঁছে দেই।’   তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি। পরোপকারের শিক্ষা সে আব্বুর কাছ থেকেই পেয়েছে।’ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিকে সারাদিন আব্বুর এই সংকটাপন্ন অবস্থা। অন্যদিকে শহীদ হাদির বিচারের দাবিতে আমাদের ভাইদের রাস্তায় মার খেতে দেখা। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে। এক সময় ভেবেছিলাম হাসপাতাল থেকে অল্প সময়ের জন্য হলেও আন্দোলনে যাব। কিন্তু যখনই যাওয়ার কথা মনে হলো, আব্বুর অবস্থার কথা ভেবে আর বাইরে যাওয়া সম্ভব হলো না।’   পোস্টে স্নিগ্ধ লিখেন, ‘আজ সারাদিন আব্বু বারবার মুগ্ধর কথাই বলছেন। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার সেই মুহূর্তটার কথা মনে করতেই দেখলাম উনার চোখে পানি টলমল করছিল। এমন অবস্থাতেও ঘুমানোর আগে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আমাকে বোঝালেন, যাই হোক কখনো হার মানবে না। মনে করিয়ে দিলেন আমাদের জবাবদিহিতা আল্লাহর কাছেই।’ 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow