সুযোগ পেলেই আয়নায় চোখ রাখছেন? যে রোগের শিকার হতে পারেন
আয়না শুধু সাজগোজের অনুষঙ্গ নয়, অনেকের কাছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক নীরব সঙ্গী। ঘর থেকে বেরোনোর আগে পোশাক ঠিক আছে কি না দেখা, চুলে হাত বোলানো কিংবা নিজেকে খানিকটা প্রস্তুত করে নেওয়ার অভ্যাস— সবকিছুর সঙ্গেই আয়নার উপস্থিতি। কেউ একবার তাকিয়েই সন্তুষ্ট হন, আবার কেউ সুযোগ পেলেই বারবার আয়নায় চোখ রাখেন। কিন্তু এই বারবার নিজেকে দেখার প্রবণতা কি শুধুই সাধারণ অভ্যাস? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনো মানসিক সংকেত? বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার এই ফিল্টার-পারফেক্ট যুগে নিজের চেহারা নিয়ে সচেতনতা অনেক সময় প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে আয়নায় তাকানো কখনো কখনো আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বদলে উল্টো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মনোবিদরা কী বলছেন? মনোবিদদের ভাষায়, বারবার নিজেকে আয়নায় দেখার এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘মিরর চেকিং’ বা ‘বডি চেকিং’। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের আচরণ অনেক সময় নিজের শরীর বা চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্টি থেকেই তৈরি হয়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ডিজঅর্ডারস-এর তথ্য অনুযায়ী, বারবার আয়নায় তাকালে শরীর বা চেহারা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরুতে
আয়না শুধু সাজগোজের অনুষঙ্গ নয়, অনেকের কাছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক নীরব সঙ্গী। ঘর থেকে বেরোনোর আগে পোশাক ঠিক আছে কি না দেখা, চুলে হাত বোলানো কিংবা নিজেকে খানিকটা প্রস্তুত করে নেওয়ার অভ্যাস— সবকিছুর সঙ্গেই আয়নার উপস্থিতি। কেউ একবার তাকিয়েই সন্তুষ্ট হন, আবার কেউ সুযোগ পেলেই বারবার আয়নায় চোখ রাখেন। কিন্তু এই বারবার নিজেকে দেখার প্রবণতা কি শুধুই সাধারণ অভ্যাস? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনো মানসিক সংকেত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার এই ফিল্টার-পারফেক্ট যুগে নিজের চেহারা নিয়ে সচেতনতা অনেক সময় প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে আয়নায় তাকানো কখনো কখনো আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বদলে উল্টো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মনোবিদরা কী বলছেন?
মনোবিদদের ভাষায়, বারবার নিজেকে আয়নায় দেখার এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘মিরর চেকিং’ বা ‘বডি চেকিং’। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের আচরণ অনেক সময় নিজের শরীর বা চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্টি থেকেই তৈরি হয়।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ডিজঅর্ডারস-এর তথ্য অনুযায়ী, বারবার আয়নায় তাকালে শরীর বা চেহারা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও, ধীরে ধীরে তা মানসিক চাপের রূপ নিতে পারে।
এর পেছনে কী কারণ কাজ করে?
লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদদের মতে, আয়নায় অতিরিক্ত তাকানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ওয়েলবিয়িং রিসার্চ অনুযায়ী, যাদের আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে কম, তারা অন্যরা তাদের সম্পর্কে কী ভাববে— এই আশঙ্কা থেকেই বারবার আয়নায় নিজেকে দেখেন।
এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা কম নয়। ফিল্টার দেওয়া নিখুঁত ছবির সঙ্গে বাস্তব চেহারার তুলনা করতে গিয়ে অনেকেই নিজের প্রতি অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে হয়ে পড়ছেন। আয়নার প্রতিচ্ছবি হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু বারবার নিজের খুঁত খুঁজতে গেলে উদ্বেগ বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
নিচের আচরণগুলো নিয়মিত দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন—
১. সাজগোজ শেষ হওয়ার পরও বারবার আয়নার সামনে ফিরে যাওয়া
২. বারবার দেখার পরও মনে হওয়া, ‘কিছু একটা ঠিক নেই’
৩. আয়না না পেলে অস্থিরতা অনুভব করা
৪. জানালার কাচ, দোকানের গ্লাস বা যে কোনো প্রতিফলনে বারবার নিজেকে দেখতে চাওয়া
এ ধরনের লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ কথা
আয়নায় তাকানো স্বাভাবিক অভ্যাস হলেও, সেটি যদি দৈনন্দিন জীবনের স্বস্তি নষ্ট করে বা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়, তবে তা অবহেলা না করাই ভালো। নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি, তবে নিজের প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ নয়— এটাই সুস্থ মানসিকতার চাবিকাঠি।
সূত্র : টিভি নাইন বাংলা
What's Your Reaction?