‘সুযোগ পেলে ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্নটা পূরণ করতে চাই’
আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া ছিলেন দেশের হকির কিংবদন্তি। সাবেক এই তারকা খেলোয়াড় ও কোচের যোগ্য উত্তরসূরী রাসেল মাহমুদ জিমি। বাবা যখন জাতীয় দলের কোচ, ২০০৩ সালে এশিয়া কাপ হকিতে তার হাত ধরেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল জিমির। ১৫-১৬ বছরের একজন কিশোরের যখন জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তখন অনেক সমালোচক বলেছিলেন, বাবার কারণেই দুলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়ার কানে সেই অভিযোগ গেলে তিনি বলতেন ‘আমার ছেলে বলে নয়। জিমি অনেক ভালো খেলোয়াড়। ওর ভেতর অনেক প্রতিভা। আমি ওকে কোচের চোখ দিয়েই দেখি, বাবার চোখে নয়।’ কথায় আছে রতনে রতন চেনেন। আবদুর রাজ্জাক সোনা মিয়াও যে তেমন রতন চিনেছিলেন তার প্রমাণ, বাবার পথ ধরে রাসেল মাহমুদ জিমির দেশের হকির আরেক কিংবদান্তি হয়ে যাওয়া। বয়স ৩৯ বছর। এখনো স্টিক-বলের ক্যারিশমায় তার সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো খেলোয়াড় কমই আছেন। বাংলাদেশ হকি ফেডাশেনের আগের অ্যাডহক কমিটির একটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জাতীয় দলে খেলায় ছেদ পড়েছিল জিমির। ক্লাব রাজনীতির শিকার হয়ে বাদ পড়েছিলেন বয়স বেশি হওয়ার অজুহাতে। পারফরম্যান্স ও ফিটনেস থাকার পরও কেবল বয়সের কারণে জাতীয় দলে না নেওয়ার এমন ন্যাক্কারজনক ই
আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া ছিলেন দেশের হকির কিংবদন্তি। সাবেক এই তারকা খেলোয়াড় ও কোচের যোগ্য উত্তরসূরী রাসেল মাহমুদ জিমি। বাবা যখন জাতীয় দলের কোচ, ২০০৩ সালে এশিয়া কাপ হকিতে তার হাত ধরেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল জিমির।
১৫-১৬ বছরের একজন কিশোরের যখন জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তখন অনেক সমালোচক বলেছিলেন, বাবার কারণেই দুলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়ার কানে সেই অভিযোগ গেলে তিনি বলতেন ‘আমার ছেলে বলে নয়। জিমি অনেক ভালো খেলোয়াড়। ওর ভেতর অনেক প্রতিভা। আমি ওকে কোচের চোখ দিয়েই দেখি, বাবার চোখে নয়।’
কথায় আছে রতনে রতন চেনেন। আবদুর রাজ্জাক সোনা মিয়াও যে তেমন রতন চিনেছিলেন তার প্রমাণ, বাবার পথ ধরে রাসেল মাহমুদ জিমির দেশের হকির আরেক কিংবদান্তি হয়ে যাওয়া।
বয়স ৩৯ বছর। এখনো স্টিক-বলের ক্যারিশমায় তার সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো খেলোয়াড় কমই আছেন। বাংলাদেশ হকি ফেডাশেনের আগের অ্যাডহক কমিটির একটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জাতীয় দলে খেলায় ছেদ পড়েছিল জিমির। ক্লাব রাজনীতির শিকার হয়ে বাদ পড়েছিলেন বয়স বেশি হওয়ার অজুহাতে। পারফরম্যান্স ও ফিটনেস থাকার পরও কেবল বয়সের কারণে জাতীয় দলে না নেওয়ার এমন ন্যাক্কারজনক ইতিহাস ক্রীড়াবিশ্বে নজিরবিহীন।
ফেডারেশনের নতুন কমিটি আসার পর জিমিকে ডাকা হয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্পে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসের জন্য চলমান ক্যাম্পে জিমিকে ডেকেছিল এই কমিটি।
ক্যাম্পের তালিকা ২৪ সদস্যে নামিয়ে এনেছেন জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড। এই ২৪ জন নিয়ে অভিজ্ঞ এই কোচ এক মাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে জার্মানি যাবেন। সেখান থেকে তৈরি করবেন ১৮ সদস্যের দল।
জিমি কতটা আশাবাদী চূড়ান্ত দলে টিকে যাওয়ার? ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার স্বপ্ন কি পূরণ হবে? কতটা আত্মবিশ্বাসী দেশের সেরা এই ফরোয়ার্ডে? তা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা রফিকুল ইসলামকে।
জাগোনিউজ: অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির পর আবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। আপনি তো মনে হয় আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন তাই না?
রাসেল মাহমুদ জিমি: না। আমি কখনো আশা ছাড়িনি। কারণ, আমাকে তো পারফরম্যান্সের কারণে বাদ দিয়েছিল তেমন নয়। বয়সের অজুহাত দেখিয়ে বাইরে রেখেছিল বিগত ফেডারেশন। তাই প্রত্যাশা ছিল সুযোগ একদিন আসবে।
জাগোনিউজ : আপনার সাথে যে ব্যবহার করেছিল আগের অ্যাডহক কমিটি, তার পেছনে কি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন?
জিমি: আমি মনে করি, পুরোপুরি হিংসার কারণেই আমাকে বেশি বয়স উল্লেখ করে জাতীয় দলের বাইরে রেখেছিল। চাই না, আমার সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা কোনো দিন অন্য কারো সাথে হোক। কারণ, যে কোনো খেলায় একজন খেলোয়াড় জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন কিনা তা নির্ধারণ হয় তার পারফরম্যান্স ও ফিটনেসে। বয়স কোনো ইস্যু না।
জাগোনিউজ: জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও আপনিতে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে কতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে অনুশীলন করতে পারছেন?
জিমি: আমি সব সময় আত্মবিশ্বাসী। জাতীয় দলে ছিলাম না ঠিকই, তবে অনুশীলন করেছি নিয়মিত। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে আমি অনুশীলন করে ফিটনেস ধরে রেখেছি। অনুশীলনে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করছি।
জাগোনিউজ: ২৪ জনের দলের সদস্য হয়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে জার্মানি যাচ্ছেন। সেখানে একমাস অনুশীলনের পর কোচ পিটার গেরহার্ড এশিয়ান গেমসের জন্য ১৮ জনের দল চূড়ান্ত করবেন। কতটা আশাবাদী আপনি?
জিমি: বয়সের কারণে বাদ দিয়ে আমার ওপর অবিচার করা হয়েছিল। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ায় ১৭ মাস পর আবার ডাক পেয়েছি। আমি অনুশীলন করে যাচ্ছি। নিজেও আত্মবিশ্বাসী। এখন কোচ যদি মনে করেন, তাহলে চূড়ান্ত দলে থাকবো।
জাগোনিউজ: যদি চূড়ান্ত দলে সুযোগ পান তাহলে আরেকটি মাইলফলক হবে আপনার ক্যারিয়ারের। পঞ্চমবারের মতো এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এশিয়ান গেমসে খেলবেন। নিশ্চয়ই দারুণ একটা অনুভূতি আপনার?
জিমি: অবশ্যই। পঞ্চমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলতে পারাটা যে কোনো খেলোয়াড়ের জনই গৌরবময় একটা মাইলফলক। দক্ষিণ এশিয়ায় এই কীর্তি কারো নেই।
জাগোনিউজ: এর আগে কোন কোন এশিয়ান গেমস খেলেছেন?
জিমি: আমার প্রথম এশিয়ান গেমস ছিল ২০০৬ সালে কাতারের দোহায়। এরপর ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজু, ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও ২০২৩ সালে চীনের হাংজু এশিয়ান গেমসে খেলেছি। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছিলাম ২০১৪ সালে কোরিয়ান ইনচিয়ন গেমস থেকে।
জাগোনিউজ: আপনার তো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল এশিয়া কাপ দিয়ে। কয়টি এশিয়া কাপ খেলেছেন এ পর্যন্ত?
জিমি: আমি ৬টি এশিয়া কাপ খেলেছি। এই অর্জন এশিয়ার আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। ২০০৩ সালের পর এশিয়া কাপ খেলেছি ২০০৭, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৭ ও ২০২২ সালে।
জাগোনিউজ: এবার এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পেলে আপনার কি লক্ষ্য থাকবে?
জিমি: একটা বিষয় নিশ্চিত যে, এবার যদি সুযোগ পাই তাহলে এটাই হবে আমরা শেষ এশিয়ান গেমস। আরেকটা বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত আমি ১৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি। আমার স্বপ্ন, দেশের হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলা। আমাদের দেশে এই কীর্তি আর কারো নেই।
জাগোনিউজ: এই এশিয়ান গেমসে কি ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ কয়টি ম্যাচ খেলবে?
জিমি: বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ৫টি ও স্থান নির্ধারণী পর্বে দুটি ম্যাচ খেলবে। যদি দলে থাকি এবং কোচ আমাকে সবগুলো ম্যাচে খেলান তাহলে এই গেমসেই আমার ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার স্বপ্ন পূরণ হবে।
জাগোনিউজ: পিটার গেরহার্ড তো আপনাদের অনেক চেনাজানা মানুষ। আপনি এতদিন পর তার হাত ধরে ফিরলেন। অনুশীলনে আপনার তো অনেক প্রশংসা করছেন তিনি। আপনাকে ‘বাংলাদেশ হকির মেসি’ বলেছেন। কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন পুরনো এই গুরুর কাছ থেকে?
জিমি: কোচ আমার ওপর খুশি। তিনি আমাকে আলাদাভাবেও নানা টিপস দিচ্ছেন। এক কথায় তিনি আমাকে আলাদা আলাদা করে সবকিছু দেখিয়েও দিচ্ছেন। এজন্যই আমি বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছি। আর অনুশীলন কেমন করছি সেটা তো নিজেও বুঝতে পারছি। সবকিছু মিলিয়ে ভালোই হচ্ছে।
জাগোনিউজ: ক্যারিয়ারের এই খারাপ ১৭ মাস যদি না আসতো তাহলে তো আগেই আপনার ২০০ ম্যাচ খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়ে যেতো তাই না?
জিমি: তাতো অবশ্যই। এত দিনে আমার ২২০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়ে যেতো।
জাগোনিউজ: এই যে ৩৯ বছর বয়সেও আপনি এভাবে ফিটনেস ধরে রেখেছেন। রহস্য কী?
জিমি: নিয়মিত অনুশীলন আর খাদ্যাভ্যাস। আমি ১৮ বছর দুপুরে খাই না। সকালে রুটি, সবজি, ডিম। বিকেলে অনুশীলন থাকলে একটা দুইটা খেজুর এবং নুডুলস বা ভাত।
জাগোনিউজ: কোনো পুষ্টিবিদের পরামর্শে এভাবে খাদ্যাভ্যাস করেছেন?
জিমি: না। ভারত ও পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়কে দেখেছি এভাবে ডায়েট মেইনটেইন করেন। আমি এই অভ্যাসটা করেছি ভারতের কিংবদন্তি ধনরাজ পিল্লাইকে দেখে। তিনি আমার হকির আইডল। আমি তাকে ফলো করতাম। সেভাবেই এই খাদ্যাভাস গড়ে তুলেছি।
জাগোনিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রাসেল মাহমুদ জিমি: আপনাকে ও জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।
আরআই/আইএইচএস/
What's Your Reaction?