সুযোগ হাতছাড়া করার বাঙালি মানসিকতা
এমকে হক আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মেধার কোনো অভাব নেই। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো তরুণ আইটি পেশাজীবী আমাদের ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের মেধার অভাব না থাকলেও অভাব রয়েছে সঠিক মানসিকতা এবং সুযোগ চেনার দূরদর্শিতার। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন কোনো বড় প্রতিষ্ঠান সরাসরি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়, তখন পেশাদারিত্বের সাথে সেই সুযোগ লুফে নেওয়ার বদলে আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষকে কেবল উপহাস আর নেতিবাচক মন্তব্য করতেই বেশি দেখা যায়। জার্মানিতে কর্মরত এক প্রবাসী দক্ষ জ্যেষ্ঠ ওয়েব ডেভেলপারের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেলো সম্ভাবনার কথা। জার্মানির মতো উন্নত দেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বমঞ্চ থেকে সরাসরি দক্ষ পেশাজীবী খুঁজছে। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির একটি অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো সেখানকার ‘অভ্যন্তরীণ সুপারিশ ব্যবস্থা’ বা রেফারেল কালচার। কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ তৈরি হলে কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিজ্ঞপ্তির চেয়ে নিজেদের বর্তমান কর্মীদের পরিচিত, দক্ষ ও বিশ্বস্ত মানুষদের বেশি প্রাধান্য দেয়। দুই বছর ধরে জার্মানিতে সফলতার সঙ্গে কাজ করা সেই জ্যেষ্ঠ ডেভেলপার য
এমকে হক
আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মেধার কোনো অভাব নেই। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো তরুণ আইটি পেশাজীবী আমাদের ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের মেধার অভাব না থাকলেও অভাব রয়েছে সঠিক মানসিকতা এবং সুযোগ চেনার দূরদর্শিতার।
আন্তর্জাতিক বাজারে যখন কোনো বড় প্রতিষ্ঠান সরাসরি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়, তখন পেশাদারিত্বের সাথে সেই সুযোগ লুফে নেওয়ার বদলে আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষকে কেবল উপহাস আর নেতিবাচক মন্তব্য করতেই বেশি দেখা যায়।
জার্মানিতে কর্মরত এক প্রবাসী দক্ষ জ্যেষ্ঠ ওয়েব ডেভেলপারের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেলো সম্ভাবনার কথা। জার্মানির মতো উন্নত দেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বমঞ্চ থেকে সরাসরি দক্ষ পেশাজীবী খুঁজছে।
শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির একটি অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো সেখানকার ‘অভ্যন্তরীণ সুপারিশ ব্যবস্থা’ বা রেফারেল কালচার। কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ তৈরি হলে কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিজ্ঞপ্তির চেয়ে নিজেদের বর্তমান কর্মীদের পরিচিত, দক্ষ ও বিশ্বস্ত মানুষদের বেশি প্রাধান্য দেয়।
দুই বছর ধরে জার্মানিতে সফলতার সঙ্গে কাজ করা সেই জ্যেষ্ঠ ডেভেলপার যখন নিজ দেশের ভাই-বোনদের কল্যাণে এমন একটি বৈশ্বিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল মানুষ মেধা বা যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার চেয়ে মিম আর উপহাস তৈরিতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়লো। এই ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা আসলে আমাদের সম্মিলিত আত্মউন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।
একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার, বৈশ্বিক বাজারে সুযোগ বারবার আসে না। কোম্পানিগুলো যখন সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার প্রস্তাব করে, তখন সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রমাণ করাই আসল কাজ। যারা সত্যি জীবন বদলাতে চান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের ক্যারিয়ারকে নিয়ে যেতে চান নতুন উচ্চতায়, তাদের এই ট্রোলারদের কথায় কান দিলে চলবে না।
ফেসবুকে বসে কমেন্ট যুদ্ধ করে বা সস্তা ট্রোলিং করে সময় নষ্ট করার দিন এখন আর নেই। প্রকৃত পেশাদারদের উচিত এখনই নিজেদের কাজের দলিল এবং জীবনবৃত্তান্ত আন্তর্জাতিক মানের করে প্রস্তুত রাখা।
উপহাসকারীরা উপহাস করতেই থাকবে, কিন্তু যারা দক্ষ ও সচেতন ডেভেলপার, তাদের উচিত হবে এই বৈশ্বিক সুযোগগুলোকে লুফে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া। দিনশেষে নেতিবাচকতা কোনো ক্যারিয়ার গড়ে দেয় না, যোগ্যতা আর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই মানুষকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায়।
এমকে হক, জ্যেষ্ঠ ওয়েব ডেভেলপার, জার্মানি
এমআরএম
What's Your Reaction?