সুরা লাহাব নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা
সুরা লাহাব কোরআনের ১১১তম সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরাটির আয়াত সংখ্যা ৫টি রুকু ১টি। সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছে নবীজির চাচা আবুল লাহাব ও তার স্ত্রী সম্পর্কে। আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওযযা। উজ্জ্বল লালচে বর্ণের অধিকারী হওয়ায় তার ডাক নাম হয়ে যায় আবু লাহাব। আবু লাহাব অর্থ ‘অগ্নিশিখার পিতা’ বা লেলিহান শিখার অধিকারী। কোরআনেও তাকে আবু লাহাব নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু লাহাব ছিলেন নবীজির (সা.) দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান ও নবীজির (সা.) আপন চাচা। নবীজি (সা.) ইসলাম প্রচার শুরু করার পর আবু লাহাব নবীজির (সা.) কট্টর শত্রুতে পরিণত হন। নবীজিকে (সা.) নানাভাবে কষ্ট দিতে থাকেন। তার সাথে যোগ দেন তার স্ত্রীও। নবীজির (সা.) নিকটাত্মীয়দের মধ্যে আবু লাহাবই নবীজিকে (সা.) সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেন। এ কারণেই তার ব্যাপারে সুরা লাহাব নাজিল হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবীজিকে যখন তার নিকটাত্মীয়দের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন রাসুল (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে ইয়া সাবাহ (সকাল বেলার বিপদ থেকে সাবধান) বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দেন। আওয়াজ শুনে সবাই তার কথা শোনার জন্য সমবেত হয়। নবীজি (সা.) সবার উদ্দেশে বললেন, আমি য
সুরা লাহাব কোরআনের ১১১তম সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরাটির আয়াত সংখ্যা ৫টি রুকু ১টি। সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছে নবীজির চাচা আবুল লাহাব ও তার স্ত্রী সম্পর্কে।
আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওযযা। উজ্জ্বল লালচে বর্ণের অধিকারী হওয়ায় তার ডাক নাম হয়ে যায় আবু লাহাব। আবু লাহাব অর্থ ‘অগ্নিশিখার পিতা’ বা লেলিহান শিখার অধিকারী। কোরআনেও তাকে আবু লাহাব নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু লাহাব ছিলেন নবীজির (সা.) দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান ও নবীজির (সা.) আপন চাচা। নবীজি (সা.) ইসলাম প্রচার শুরু করার পর আবু লাহাব নবীজির (সা.) কট্টর শত্রুতে পরিণত হন। নবীজিকে (সা.) নানাভাবে কষ্ট দিতে থাকেন। তার সাথে যোগ দেন তার স্ত্রীও। নবীজির (সা.) নিকটাত্মীয়দের মধ্যে আবু লাহাবই নবীজিকে (সা.) সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেন। এ কারণেই তার ব্যাপারে সুরা লাহাব নাজিল হয়।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবীজিকে যখন তার নিকটাত্মীয়দের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন রাসুল (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে ইয়া সাবাহ (সকাল বেলার বিপদ থেকে সাবধান) বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দেন। আওয়াজ শুনে সবাই তার কথা শোনার জন্য সমবেত হয়। নবীজি (সা.) সবার উদ্দেশে বললেন, আমি যদি আপনাদের বলি, একটি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী ওই পাহাড়ের পেছনে আপনাদের ওপর হামলা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে? তাহলে কি আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন? সবাই বলল, আপনাকে আমরা মিথ্যা বলতে দেখিনি। নবীজি (সা.) বললেন, আমি আপনাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। এ কথা শুনে আবু লাহাব বললেন, ‘তোমার ধ্বংস হোক! তুমি কি এ জন্যই আমাদের একত্র করেছ?’ ফলে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা নাজিল করেন, ‘ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও’। (সহিহ বুখারি: ৪৬১১)
সুরা লাহাব
(১) ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুহাত এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। (২) তার ধন-সম্পদ এবং যা সে অর্জন করেছে তা তার কাজে আসবে না। (৩) অচিরেই সে দগ্ধ হবে লেলিহান আগুনে। (৪) আর তার স্ত্রী লাকড়ি বহনকারী, (৫) তার গলায় পাকানো দড়ি।
এ সুরা থেকে যে শিক্ষা ও নির্দেশনা আমরা পাই:
- ১. আল্লাহ আবু লাহাবের শাস্তি ঘোষণা করেছেন। তার জুলুম ও পাপাচারের কারণে সে ধ্বংস ও চিরজাহান্নামি হয়েছে।
- ২. সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দুনিয়ায় কিছুদিনের জন্য শক্তি বৃদ্ধি করলেও আল্লাহর শাস্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে না। তাই সম্পদ ও সন্তান সন্ততির জোরে উদ্ধত ও অহংকারী হয়ে ওঠা বোকামি।
- ৩. যে কোনো নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট দেওয়া হারাম। বিশেষত আল্লাহর দীনের দাওয়াত দেওয়ার কারণে মানুষকে কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন করা অত্যন্ত গর্হিত পাপ।
- ৪. মানুষের নিজের কাজ ভালো না হলে শুধু আত্মীয়তা বা সম্পর্ক কোনো উপকারে আসে না। আবু লাহাব নবিজির চাচা হওয়ার পরও সে ধ্বংস ও চিরজাহান্নামি হয়েছে।
ওএফএফ
What's Your Reaction?