সেই ‘রয়েল’ বিক্রি হলো ৩ লাখ ৩৭ হাজারে, দাম নিয়ে হতাশ খামারি
রাঙ্গামাটির সব চাইতে বড় গরুটিকে জেলার অন্যতম গরুর হাট মাইনীমুখ বাজারে বিক্রি করতে না পেরে গত ২৫ মে তোলা হয়েছিল রাঙ্গামাটি শহরের কোরবানির হাটে। দাম হাঁকা হয় ৬ লাখ টাকা। ১৫ মন ওজনের সেই গরু ‘রয়েল’ বুধবার (২৭ মে) বিক্রি হলো ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায়। রয়েলের ন্যায্য দাম পাননি বলে জানান খামারি নাজিম উদ্দিন। রোববার সকাল থেকে রাঙ্গামাটি শহরের হাটে রয়েলকে নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন খামারি নাজিম উদ্দিনের ভাই রুবেল হোসেন। গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে সাজগোজ করে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। আশা ছিল অন্তত ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে রয়েল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বুধবার বিকেলে শহরের একজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয় রয়েল নামের শাহীওয়াল জাতের গরুটি। আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্জ্যা ইউনিয়নের রশিদপুর এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পরম মমতায় শাহীওয়াল জাতের একটি বিশাল গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় কৃষক নাজিম উদ্দিন। গরুটির নাম দিয়েছেন ‘রয়েল’। ৬২৫ কেজি ওজনের বিশাল এই গরুটির দাম চেয়েছেন ৬ লাখ টাকা। খামারি নাজিম উদ্দিন বলেন, আমরা গরীব মানুষ।
রাঙ্গামাটির সব চাইতে বড় গরুটিকে জেলার অন্যতম গরুর হাট মাইনীমুখ বাজারে বিক্রি করতে না পেরে গত ২৫ মে তোলা হয়েছিল রাঙ্গামাটি শহরের কোরবানির হাটে। দাম হাঁকা হয় ৬ লাখ টাকা। ১৫ মন ওজনের সেই গরু ‘রয়েল’ বুধবার (২৭ মে) বিক্রি হলো ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায়। রয়েলের ন্যায্য দাম পাননি বলে জানান খামারি নাজিম উদ্দিন।
রোববার সকাল থেকে রাঙ্গামাটি শহরের হাটে রয়েলকে নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন খামারি নাজিম উদ্দিনের ভাই রুবেল হোসেন। গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে সাজগোজ করে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। আশা ছিল অন্তত ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে রয়েল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বুধবার বিকেলে শহরের একজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয় রয়েল নামের শাহীওয়াল জাতের গরুটি।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্জ্যা ইউনিয়নের রশিদপুর এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পরম মমতায় শাহীওয়াল জাতের একটি বিশাল গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় কৃষক নাজিম উদ্দিন। গরুটির নাম দিয়েছেন ‘রয়েল’। ৬২৫ কেজি ওজনের বিশাল এই গরুটির দাম চেয়েছেন ৬ লাখ টাকা।
খামারি নাজিম উদ্দিন বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমাদের শখ করা মানায় না। অনেক শখ করে এই গরুটি লালন পালন করেছি একটু লাভের আশায়। কিন্তু এখন লসের মুখে পড়তে হলো। আশা ছিল কমপক্ষে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। আমাদের ইউনিয়নে বিদ্যুত নেই। বিদ্যুত ছাড়া খামার করা খুব কষ্টের। এসব বিদেশি জাতের গরুর নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। প্রতিদিন গোসল করাতে হয়। তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ফ্যানের বাতাস দিতে হয়। আমরা এই কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারি নাই। সবসময় ভয়ে থাকতে হয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায় কি না। এত কষ্টের পর যদি ন্যায্য দাম না পাই, তখন আর খামার করার স্বপ্ন থাকে না আমাদের। এসব এখন লস প্রজেক্টে পরিণত হয়েছে। এমন হলে কেউ আর বড় জাতের গরু পালন করবে না।
খামারি নাজিম উদ্দিনের ভাই রুবেল হোসেন বলেন, একটা বড় গরু পালনের শখ থেকে গত পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো গরুটির দেখাশোনা করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকারক ওষুধ বা স্টেরয়েড ছাড়াই শুধু সবুজ ঘাস, খড়, চালের গুঁড়া ও খৈলের মতো প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে বড় করেছি। খাবারের পেছনে প্রতিদিন ৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিমাসে এর পেছনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ ছিল। খরচের হিসেব করলে গত পাঁচ বছরে ৫ লাখ টাকার বেশি শুধু খরচ হয়েছে আমাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাম পেলাম না।
তিনি আরও বলেন, গত শনিবার লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজারে তুলেছিলাম। কিন্তু দাম না পেয়ে পরের দিন রোববার রাঙ্গামাটির হাটে নিয়ে আসি। ৩ দিন অপেক্ষার পর সব শেষে বুধবার বিকেলে মাত্র ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। শহরের একজন মাছ ব্যবসায়ী গরুটি কিনেছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক দেওয়ান বলেন, রয়েল নামে গরুটি ঘিরে ইউনিয়ন ও উপজেলার মানুষের বেশ আগ্রহ দেখেছি। অনেকেই এক নজর দেখতে খামারি নাজিমের বাড়িতে এসেছেন। গরুটি কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন নাজিম উদ্দিন ও তার ভাই রুবেল হোসেন। এখানে বিক্রি করতে না পেরে রাঙ্গামাটির বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছেন শুনেছি। তবে আশানুরূপ দাম পাননি খামারি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকাটি দুর্গম, এখানে উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। বিদ্যুতের সংযোগ নেই। তারপরও এখানকার কৃষকরা সাহস নিয়ে গরু লালনপালনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত দাম না পেলে খামারিরা গরু লালন পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এখানে আমাদের প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। গবাদিপশু পালন ও বাজারজাত করার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেন গরীব কৃষক ও খামারিরা লাভবান হন সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এডিকেএ/এএমএ
What's Your Reaction?