সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

পাহাড়ি ঢলে তিন বছর আগে ধসে যায় বেইলি ব্রিজ, এরপর থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার থেকে জেলা সদরের ভাই-বোন ছড়া ইউনিয়নের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ সড়কটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ছড়া পেরিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে পোমাং পাড়া হয়ে ভাই-বোন ছড়া পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সড়কটির ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হলেও বাকি অংশ ইট সলিং করা। তবে দুটি ব্রিজের অভাবে সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ‘‌সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন\' এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এই সড়কে দুটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিকদার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদা

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

পাহাড়ি ঢলে তিন বছর আগে ধসে যায় বেইলি ব্রিজ, এরপর থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার থেকে জেলা সদরের ভাই-বোন ছড়া ইউনিয়নের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ সড়কটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ছড়া পেরিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে পোমাং পাড়া হয়ে ভাই-বোন ছড়া পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সড়কটির ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হলেও বাকি অংশ ইট সলিং করা। তবে দুটি ব্রিজের অভাবে সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

‘‌সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন'

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এই সড়কে দুটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিকদার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পরও নিরাপত্তা জনিত কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অপারগতা প্রকাশ করায় নির্মাণ কাজের বাজেট মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়।

আরও পড়ুন:
চাচার কোলে শিশুর মরদেহ, মৃত্যুসনদ পেতে দৌড়ঝাঁপ বাবার
সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থা
আইলার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁধের অপেক্ষায় ১৭ বছর
অস্তিত্ব সংকটে রাজশাহী সিল্ক, ভরসা এখন বিদেশি সুতা

সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ার মানুষের একমাত্র চলাচল পথের সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ
পাহাড়ি ঢলে ধসে ড়েঝে বেইলি ব্রিজ/ ছবি: জাগো নিউজ

স্থানীয়রা জানায়, বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ ৫-৬টি গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ জুম চাষ ও পাহাড়ি কৃষির উপর নির্ভরশীল। যাতায়াতের একমাত্র সড়কের সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মাথায় করে পরিবহন করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে কৃষিপণ্য, গাছ, বাঁশ পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ হয় এবং জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয় বলে জানান সাধারণ মানুষ ও একাধিক কৃষক।

তাছাড়া, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

বিষ্ণু কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা চিরনজোতি ত্রিপুরা বলেন, সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

‌‌‘ব্রিজ দুটি না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও স্কুল রয়েছে, এতে সর্বস্তরের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে এবং সেতুটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’

হাজাপাড়ার বাসিন্দা রতি ত্রিপুরা (৬০) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে যেতে পারি না। কবে ব্রিজটি হবে জানি না, এখন আর হাঁটতে পারি না। খুব কষ্ট করে দিন পার করছি।

বিষ্ণু কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, সেতু না থাকায় আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারি না, পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে খুবই অসুবিধা এবং ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে গরিব কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

‘বিষ্ণু কার্বারী পাড়া খুবই দূর্গম পাহাড়ী এলাকা। এখানে পাহাড়ের ঝুম চাষ, পাহাড় থেকে বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রি করে এখানের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু ব্রিজ না থাকায় তাদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে দূর্গম কয়েকটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ’

আরও পড়ুন:
খাল খননের সুযোগে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব
আইনের বেড়াজালে আটকে গেছে নদী দখল উচ্ছেদ
বিলীনের পথে অলওয়েদার সড়ক, দায় এড়াতে ব্যস্ত এলজিইডি-পাউবো
ইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ
দুর্ভোগে নিয়েই চলাচল করতে হয় পাহাড়ের বাসিন্দাদের/ ছবি: জাগো নিউজ

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ভূবন মোহন ত্রিপুরা বলেন, বিষ্ণু কার্বারী পাড়া খুবই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। এখানে পাহাড়ের জুম চাষ, পাহাড় থেকে বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রি করে এখানের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। তবে ব্রিজ না থাকায় দুর্গম কয়েকটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারের কাছে আবেদন- সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করলে উপকার হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিগত ২১-২২ অর্থবছরে ব্রিজ দুটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করার পর অজ্ঞাত কারণে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি, সড়ক থাকলেও ব্রিজ না থাকায় সড়কটি মানুষের কাজে লাগে না। তবে সেতু দুটি নির্মাণের জন্য আমরা পুনরায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ব্রিজ দুটি না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। এই অঞ্চলের জন্য সেতুটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেতুটি পুনরায় নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow