সেমির আগে নতুন বল, কিন্তু কেন?

অল্প কিছুক্ষণ বাদেই ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। মঞ্চ প্রস্তুত, দুই দলের তারকারা প্রস্তুত। প্রস্তুত ভক্তরাও। এমন সময় নতুন ঘোষণা দিল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। দুই সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে যোগ হচ্ছে নতুনত্ব।   যে বলে খেলে ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে, ওই বলই শেষ চার ম্যাচের জন্য বদলে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে ফিফা এবং বিশ্বকাপের বল প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস।  আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে বিশ্ববাসীর সামনে আনা হয়েছে নতুন এই ম্যাচ বল, যা মাঠের লড়াইয়ে এক অন্যরকম আভিজাত্য যোগ করবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে রাউন্ড অব ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যে বলটি দিয়ে খেলা হয়েছে, সেটির নাম ছিল ‘ট্রিওন্ডা’। তবে সেমিফাইনাল থেকে যে নতুন বলটি পায়ে নিয়ে ঝড় তুলবেন ফুটবলাররা, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’।  বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম অ্যাডিডাস শুধুমাত্র বলের রঙে আংশিক পরিবর্তন না করে, শেষ মুহূর্তের ম্যাচগুলোর মর্যাদার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ ডেড

সেমির আগে নতুন বল, কিন্তু কেন?
অল্প কিছুক্ষণ বাদেই ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। মঞ্চ প্রস্তুত, দুই দলের তারকারা প্রস্তুত। প্রস্তুত ভক্তরাও। এমন সময় নতুন ঘোষণা দিল ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। দুই সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে যোগ হচ্ছে নতুনত্ব।   যে বলে খেলে ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে, ওই বলই শেষ চার ম্যাচের জন্য বদলে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে ফিফা এবং বিশ্বকাপের বল প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস।  আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে বিশ্ববাসীর সামনে আনা হয়েছে নতুন এই ম্যাচ বল, যা মাঠের লড়াইয়ে এক অন্যরকম আভিজাত্য যোগ করবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে রাউন্ড অব ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যে বলটি দিয়ে খেলা হয়েছে, সেটির নাম ছিল ‘ট্রিওন্ডা’। তবে সেমিফাইনাল থেকে যে নতুন বলটি পায়ে নিয়ে ঝড় তুলবেন ফুটবলাররা, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’।  বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম অ্যাডিডাস শুধুমাত্র বলের রঙে আংশিক পরিবর্তন না করে, শেষ মুহূর্তের ম্যাচগুলোর মর্যাদার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ ডেডিকেটেড একটি রাজকীয় ডিজাইন তৈরি করেছে। সোনালী ট্রফির রঙ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বলটিতে প্রিমিয়াম গোল্ড, হোয়াইট এবং ব্ল্যাক ফিনিশ দেওয়া হয়েছে, যার সাথে রয়েছে পিঙ্ক কালারের আকর্ষণীয় ডাইনামিক অ্যাকসেন্ট।  এছাড়াও বলটির গায়ে এই মেগা টুর্নামেন্টের ১৬টি আয়োজক শহরের নাম বিশেষভাবে খোদাই করা হয়েছে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই বলে রয়েছে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’, যার ভেতরে থাকা ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর চিপ প্রতিটি শট ও টাচের নিখুঁত ডাটা রিয়েল-টাইমে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেমে পাঠাবে, যা অফসাইড বা হ্যান্ডবলের মতো জটিল সিদ্ধান্তগুলো মুহূর্তের মধ্যে নির্ভুলভাবে নিতে সাহায্য করবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে এসে হঠাৎ বল পরিবর্তন করা হয়? বিবিসি স্পোর্টস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূল কারণ হলো বাণিজ্যিক হাইপ এবং মার্কেটিং কৌশল। ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ দেখেন, যা যেকোনো স্পোর্টস ব্র্যান্ডের জন্য ব্যবসার সেরা সময়।  নতুন বলের উন্মোচন বিশ্বব্যাপী ফুটবল ভক্তদের মাঝে এটি কেনার প্রবল আগ্রহ তৈরি করে, যা স্পনসর কোম্পানির ব্যবসায়িক মুনাফা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্ব সাধারণ ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায়, খেলোয়াড় ও দর্শকদের মনে একটি বিশেষ বা ‘প্রিমিয়াম ভাইব’ দেওয়ার জন্য এই সোনালী ট্রফি-অনুপ্রাণিত ডিজাইন ব্যবহার করা হয়।  তবে , বলের বাহ্যিক রূপ বদলানো হলেও এর ভেতরের গঠন, ওজন ও বাতাস কাটার গতি হুবহু আগের বলের মতোই রাখা হয়, যাতে ফুটবলারদের পাস বা ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় হঠাৎ কোনো টেকনিক্যাল সমস্যায় পড়তে না হয়। মূলত ফুটবলের ঐতিহ্যকে ধরে রাখা, আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো এবং বিশ্বব্যাপী নিখুঁত বিপণন কৌশলের অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শেষভাগে এসে বল পরিবর্তন করার এই নিয়মটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow