সোহমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ কেন?

ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেতা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী সম্প্রতি প্রতারণার একটি মামলাকে ঘিরে আলোচনায় এসেছেন। একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পরও কাজ না করার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক প্রযোজক। এরই মধ্যে মামলায় সোহমের আগাম জামিন আবেদনও খারিজ করেছেন আদালত। মামলার অভিযোগকারী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের বাসিন্দা ও প্রযোজক তরুণ দাস। গত ২১ মে তিনি বালুরঘাট থানায় সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে একটি বাণিজ্যিক বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন তরুণ দাস। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রাথমিক আলোচনার পর সম্মানী বাবদ ১৫ লাখ রুপি অগ্রিম দেওয়া হয় অভিনেতাকে। তবে অভিযোগ, অর্থ গ্রহণের পরও বারবার শুটিংয়ের সময় পিছিয়ে দিতে থাকেন সোহম। একপর্যায়ে ২০২০ সালে প্রযোজক বুঝতে পারেন, ছবিটির কাজ আর এগোচ্ছে না। পরে নিজের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি অগ্রিম দেওয়া অর্থ ফেরত চাইলে নতুন করে জটিলতা শুরু হয়। তরুণ দাসের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ার

সোহমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ কেন?

ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেতা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী সম্প্রতি প্রতারণার একটি মামলাকে ঘিরে আলোচনায় এসেছেন। একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পরও কাজ না করার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক প্রযোজক। এরই মধ্যে মামলায় সোহমের আগাম জামিন আবেদনও খারিজ করেছেন আদালত।

মামলার অভিযোগকারী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের বাসিন্দা ও প্রযোজক তরুণ দাস। গত ২১ মে তিনি বালুরঘাট থানায় সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে একটি বাণিজ্যিক বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন তরুণ দাস। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রাথমিক আলোচনার পর সম্মানী বাবদ ১৫ লাখ রুপি অগ্রিম দেওয়া হয় অভিনেতাকে।

তবে অভিযোগ, অর্থ গ্রহণের পরও বারবার শুটিংয়ের সময় পিছিয়ে দিতে থাকেন সোহম। একপর্যায়ে ২০২০ সালে প্রযোজক বুঝতে পারেন, ছবিটির কাজ আর এগোচ্ছে না। পরে নিজের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি অগ্রিম দেওয়া অর্থ ফেরত চাইলে নতুন করে জটিলতা শুরু হয়।

তরুণ দাসের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও পরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মামলার তদন্ত শুরু হলে আগাম জামিন চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন সোহম চক্রবর্তী। তবে বুধবার বালুরঘাট জেলা আদালতের বিচারক মানস বসু দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে তার আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালতের এ সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী প্রযোজক। তার ভাষ্য, বহু বছর ধরে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। উল্টো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

অন্যদিকে, সোহমের আইনজীবী শেখর দাশগুপ্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ছবির কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি প্রযোজকই। তার দাবি, সোহম কাজের জন্য সময় দিতে প্রস্তুত ছিলেন। আদালতের লিখিত আদেশ হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে সোহম চক্রবর্তীর সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি সোহমের জন্য বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এমএমএফ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow