স্কুলের সিঁড়িতে ভাতিজার রক্তাক্ত দেহ, পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন চাচা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের সাফি উদ্দিনের ছেলে। এদিকে অভিযুক্ত মরম আলী তার আপন চাচা। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার সালিস হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন বিরোধ আরো বাড়তে থাকে। শুক্রবার ভাতিজা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আবারও বিরোধ তৈরি হয়। বিকেলে স্থানীয় চটান পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে আনোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত চাচা মরম আলী কাউকে কাছে আসতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেনকে সন্ধ্যার দিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। নিহত আনোয়ার হোসেনের মা শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা দুপুরে বাড়িতে ছিলাম না। এই সুযোগে মরম আলী তার লোকজন নিয়ে বাড়িতে ঢুকে আমার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আঘাত করে আহত করে এবং দরজা আটকে অবরুদ্ধ

স্কুলের সিঁড়িতে ভাতিজার রক্তাক্ত দেহ, পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন চাচা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের সাফি উদ্দিনের ছেলে। এদিকে অভিযুক্ত মরম আলী তার আপন চাচা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার সালিস হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন বিরোধ আরো বাড়তে থাকে। শুক্রবার ভাতিজা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আবারও বিরোধ তৈরি হয়। বিকেলে স্থানীয় চটান পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে আনোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

এ সময় অভিযুক্ত চাচা মরম আলী কাউকে কাছে আসতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেনকে সন্ধ্যার দিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

নিহত আনোয়ার হোসেনের মা শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা দুপুরে বাড়িতে ছিলাম না। এই সুযোগে মরম আলী তার লোকজন নিয়ে বাড়িতে ঢুকে আমার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আঘাত করে আহত করে এবং দরজা আটকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্কুলের বারান্দায় ফেলে রেখে আনোয়ারের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

দীর্ঘ সময় তারা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে কাউকে কাছে আসতে দেয়নি। আমার ছেলেকে মরম আলী ও তার সহযোগীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

নিহতের বোন সালমা আক্তার বলেন, ‘শুক্রবার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে চাচা মরম আলী আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তারা ঘর থেকে ভাইকে এনে স্কুলের বারান্দায় ফেলে সময়ক্ষেপণ করে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে আমার ভাইকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শ্যামল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে আনোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ মুহূর্তে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow