স্ক্রিন টাইম কমানোর অ্যাপ বানিয়ে রেসিডেনসিয়াল টিমের বিশ্বজয়
পড়ালেখায় মন নেই। সারাক্ষণ মোবাইল হাতে। কখনো ফেসবুক, কখনো ইনস্টাগ্রাম; আবার কখনো ইউটিউবে স্ক্রল করতে ব্যস্ত তরুণরা। শুধু মোবাইল নয়, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইসে দিনের অধিকাংশ সময় কাটছে তাদের। এটিকে বলা হচ্ছে স্ক্রিন টাইম। শিক্ষার্থীদের এ স্ক্রিন টাইম কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সংযোগ ঘটিয়ে ‘লাইট হাউজ’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি টিম। অ্যাপটি দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘১৬তম ই-আইকন ওয়ার্ল্ড কনটেস্ট’-এর মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত ৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকদের বিবেচনায় এতে মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে অরূপ-বিট। দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আরও পড়ুন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বাধা আসতে পারে! প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি টিম ‘অরূপ-বিট’-এ তিনজন সদস্য ছিলেন। তারা হলেন- রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম সিদ্দিকী শ্রেষ্ঠ এবং
পড়ালেখায় মন নেই। সারাক্ষণ মোবাইল হাতে। কখনো ফেসবুক, কখনো ইনস্টাগ্রাম; আবার কখনো ইউটিউবে স্ক্রল করতে ব্যস্ত তরুণরা। শুধু মোবাইল নয়, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইসে দিনের অধিকাংশ সময় কাটছে তাদের। এটিকে বলা হচ্ছে স্ক্রিন টাইম।
শিক্ষার্থীদের এ স্ক্রিন টাইম কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সংযোগ ঘটিয়ে ‘লাইট হাউজ’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি টিম। অ্যাপটি দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘১৬তম ই-আইকন ওয়ার্ল্ড কনটেস্ট’-এর মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
গত ৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকদের বিবেচনায় এতে মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে অরূপ-বিট। দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি টিম ‘অরূপ-বিট’-এ তিনজন সদস্য ছিলেন। তারা হলেন- রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম সিদ্দিকী শ্রেষ্ঠ এবং এসএসসি ২০২৬-এর পরীক্ষার্থী অরণ্য আবীর খান প্রাপ্য।
অরূপ-বিট টিমের দলনেতা প্রভাষক সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী জানান, তাদের টিমের ওয়েব অ্যাপটির বিষয়বস্তু ছিল জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৩ (এসডিজি-৩) বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিন টাইম অনেকটা কমিয়ে আনা। এসডিজি-৩-এর পর্ব ৩.৪ এবং 3.D বাস্তবায়ন। ওয়েব অ্যাপের নাম লাইট হাউজ। বর্তমানে লাইট হাউজ অ্যাপটি arupbit.com-এ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ওয়েব অ্যাপের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর জন্য একটি এআই হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের সবসময় তাদের কাজে অ্যাসিস্ট (সহযোগিতা) করে থাকে। যেন কোনো ক্রমে কোনো শিক্ষার্থী অতিরিক্ত লোড (চাপ) নিয়ে সমস্যায় না পড়ে। অ্যাপটি স্ক্রিন থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে সহায়তা করে এবং পড়ালেখা ও উদ্ভাবনী কাজে মনোযোগী করে তুলতে পারে।
জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৩৭ দেশের ২৪২টি প্রজেক্ট জমা পড়ে। এর মধ্যে মোট ১০টি প্রজেক্ট ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয়। ১০টি প্রজেক্ট ছিল বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, রুয়ান্ডা, মলদোভা, উজবেকিস্তান ও থাইল্যান্ডের।
ই-আইকন প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু ছিল এসডিজি-৩-এর বাস্তবায়নে ওয়েব অ্যাপ তৈরি করা। প্রতিযোগিতার দুটি ধাপ ছিল। প্রথম ধাপে বাংলাদেশ দল কোরিয়ার দলের সঙ্গে অনলাইনে কোলাবোরেশন ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অংশ নেয়।
দ্বিতীয় ধাপ ছিল সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে প্রকল্প উপস্থাপন। গত ২ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত এ ধাপ অনুষ্ঠিত হয়। দুইজন শিক্ষার্থী একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধায়নে লাইট হাউজ ওয়েব অ্যাপের পরিকল্পনা ও তৈরি করে উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনের কয়েকটি ধাপ ছিল। সেগুলো হলো- প্রথম ধাপে পোস্টার ডিজাইন, দ্বিতীয় ধাপে প্রেজেন্টেশন ও ভিডিও এবং সর্বশেষ ব্যবহারিক উপস্থাপনা।
গত ৭ আগস্ট চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও স্যামসংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিচারিক শ্রেষ্ঠত্বে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের টিম (অরূপ-বিট) মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
এএএইচ/ইএ
What's Your Reaction?

