স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার স্বামী

রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকায় স্ত্রীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহতের নাম সুইটি আক্তার (২৫)। এ ঘটনায় তার পরিবার স্বামী সুজন মিয়াকে (৩৬) অভিযুক্ত করে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেছে। ঘটনার পর স্বামী সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাহেরচর এলাকার সুইটি আক্তারের সঙ্গে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার সুজন মিয়ার ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা রাজধানীর ১১৯ পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। স্বজনদের দাবি, সুইটি ফ্রিল্যান্সিং ও টিউশনি করে সংসারে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করতেন। মাস শেষে উপার্জিত টাকা স্বামী জোরপূর্বক নিয়ে নিতেন। আরও টাকার জন্য প্রায়ই তাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হতো। একপর্যায়ে সুইটি জানতে পারেন, তার উপার্জনের টাকা অন্য এক বিবাহিত নারীর পেছনে খরচ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে ভিডিও ও অডিও প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, গত ৮ এপ্রিল

স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার স্বামী
রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকায় স্ত্রীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহতের নাম সুইটি আক্তার (২৫)। এ ঘটনায় তার পরিবার স্বামী সুজন মিয়াকে (৩৬) অভিযুক্ত করে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেছে। ঘটনার পর স্বামী সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাহেরচর এলাকার সুইটি আক্তারের সঙ্গে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার সুজন মিয়ার ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা রাজধানীর ১১৯ পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। স্বজনদের দাবি, সুইটি ফ্রিল্যান্সিং ও টিউশনি করে সংসারে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করতেন। মাস শেষে উপার্জিত টাকা স্বামী জোরপূর্বক নিয়ে নিতেন। আরও টাকার জন্য প্রায়ই তাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হতো। একপর্যায়ে সুইটি জানতে পারেন, তার উপার্জনের টাকা অন্য এক বিবাহিত নারীর পেছনে খরচ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে ভিডিও ও অডিও প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, গত ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১১টার পর থেকে সুইটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পরদিন ৯ এপ্রিল ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সুজন মিয়া ও তার এক সাবলেট সঙ্গী সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সুইটির মরদেহ রেখে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার জানায়, পরে সুজন মিয়া ফোন করে নিহতের বড় ভাই আরিফকে জানান, সুইটি আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে ঢাকায় থাকা আত্মীয়স্বজন দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে লাশঘরে মরদেহ দেখতে পান। এরপর তারা শেরেবাংলা নগর থানা ও মিরপুর মডেল থানায় বিষয়টি জানিয়ে সহায়তা চান। নিহতের পরিবার বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত স্বামীর গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।  নিহতের ফুফু নুসরাত জাহান স্মৃতি অভিযোগ করে বলেন, শেরেবাংলা নগর থানার টহল দল দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পৌঁছালেও মিরপুর মডেল থানার পুলিশ আসতে গড়িমসি করে। দীর্ঘক্ষণ পর এসআই কাঞ্চন নাহার হাসপাতালে আসেন এবং সেখানে উপস্থিত নিহতের স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে  দুর্ব্যবহার করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, এত মর্মান্তিক একটি ঘটনার সুরতহাল করার সময় নিহত সুইটি আক্তারকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয় এবং অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা হয়। মরদেহের আঘাতের চিহ্ন বা অন্যান্য আলামত যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করে সুরতহাল শেষ করে পুলিশ সদস্য এসআই কাঞ্চন নাহার থানায় চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের। নুসরাত জাহান স্মৃতির দাবি, সুরতহাল প্রতিবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাতে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। একই সঙ্গে একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া মামলার বাদী নিহতের বড় ভাইয়ের কাছ থেকেও চাপ প্রয়োগ করে এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি গোলাম আজম বলেন, ঘটনা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow