স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের শরীরেও ছুরি চালালো স্বামী

যশোরে পারিবারিক কলহের জের ধরে সামিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। স্ত্রীকে খুনের পর স্বামী সুজন নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সামিনা আক্তার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আত্মহত্যার চেষ্টা করা স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তবে তারা যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জানা গেছে, সামিনা ও সুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই-বোন। সুজন বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালের দিকে বাসায় অবস্থানকালে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী সামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর আহত হন। এ সময় আশেপাশের লোকজন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে সেখানে কর্তব্যরত

স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের শরীরেও ছুরি চালালো স্বামী

যশোরে পারিবারিক কলহের জের ধরে সামিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। স্ত্রীকে খুনের পর স্বামী সুজন নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সামিনা আক্তার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আত্মহত্যার চেষ্টা করা স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তবে তারা যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

জানা গেছে, সামিনা ও সুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই-বোন। সুজন বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালের দিকে বাসায় অবস্থানকালে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী সামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর আহত হন।

এ সময় আশেপাশের লোকজন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সুজনকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

নিহত সামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সামিনার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন সামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মিলন রহমান/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow