স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার সময় যেসব ভুল কখনোই করবেন না

    দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা ঝগড়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হতেই পারে। কিন্তু সেই ঝগড়া যদি বারবার তীব্র আকার নেয়, তাহলে তা মানসিক শান্তি ও সম্পর্ক উভয়ের উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় কয়েক মুহূর্তের উত্তেজনাই ভেঙে দিতে পারে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার। বিশেষ করে ঝগড়ার সময় নিজেকে শান্ত রাখতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নেবেন, তা জানা দাম্পত্য সুখ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক ঝগড়ার সময় কী করবেন না- তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ানা দেখানো রাগের মাথায় সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে গেলে কথাবার্তা আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। মনে রাখবেন, উত্তেজনার বশে বলা অনেক কথা পরে আফসোসের কারণ হয়। তাই স্ত্রীর কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব না দিয়ে কয়েক সেকেন্ড থামুন। গভীর শ্বাস নিন এবং নিজেকে বলুন- ‘আমি শান্ত থাকব।’ মনোযোগ দিয়ে শোনা অনেক সময় ঝগড়ার মূল কারণ হয় একে অপরের কথা ঠিকভাবে না শোনা। স্ত্রী হয়তো রাগের আড়ালে নিজের কষ্ট বা অভিমান প্রকাশ করছেন। মাঝখানে কথা কেটে না দিয়ে মন দিয়ে শুনুন। এতে তিনি বুঝবেন, আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছ

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার সময় যেসব ভুল কখনোই করবেন না

 

 

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা ঝগড়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হতেই পারে। কিন্তু সেই ঝগড়া যদি বারবার তীব্র আকার নেয়, তাহলে তা মানসিক শান্তি ও সম্পর্ক উভয়ের উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় কয়েক মুহূর্তের উত্তেজনাই ভেঙে দিতে পারে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার।

বিশেষ করে ঝগড়ার সময় নিজেকে শান্ত রাখতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নেবেন, তা জানা দাম্পত্য সুখ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ঝগড়ার সময় কী করবেন না-

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ানা দেখানো
রাগের মাথায় সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে গেলে কথাবার্তা আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। মনে রাখবেন, উত্তেজনার বশে বলা অনেক কথা পরে আফসোসের কারণ হয়। তাই স্ত্রীর কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব না দিয়ে কয়েক সেকেন্ড থামুন। গভীর শ্বাস নিন এবং নিজেকে বলুন- ‘আমি শান্ত থাকব।’

মনোযোগ দিয়ে শোনা
অনেক সময় ঝগড়ার মূল কারণ হয় একে অপরের কথা ঠিকভাবে না শোনা। স্ত্রী হয়তো রাগের আড়ালে নিজের কষ্ট বা অভিমান প্রকাশ করছেন। মাঝখানে কথা কেটে না দিয়ে মন দিয়ে শুনুন। এতে তিনি বুঝবেন, আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে আপনার রাগও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

dsa

নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা
ঝগড়ার সময় গলা চড়ানো, ব্যঙ্গ করা বা পুরোনো ভুল টেনে আনা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। নিজেকে মনে করিয়ে দিন-এই মানুষটিকেই আপনি ভালোবাসেন। আবেগ সামলাতে শ্বাস-প্রশ্বাসে মন দিন, মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন কিংবা এক গ্লাস পানি পান করুন।

বিরতি নেওয়াকে দুর্বলতা না ভাবা
যদি বুঝতে পারেন ঝগড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন কিছু সময়ের জন্য সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এই বিরতি দুজনকেই ঠান্ডা মাথায় ভাবার সুযোগ দেয়। মনে রাখবেন, দূরে সরে যাওয়া মানে সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া নয়-বরং সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা।

জেতার নয়, সমাধানের দিকে নজর দেওয়া
ঝগড়ার সময় কে ঠিক আর কে ভুল-এই প্রতিযোগিতায় নামলে সম্পর্কই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লক্ষ্য রাখুন সমস্যার সমাধানে, নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টায় নয়। শান্তভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন, অভিযোগের সুর নয়-বোঝানোর ভাষায়।

দোষারোপ না করা
ঝগড়ার সময় একে অপরকে দোষারোপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তখন সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং কে ঠিক আর কে ভুল-এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দোষারোপ শুনে সঙ্গী নিজেকে আক্রমণের মুখে পড়া মনে করেন, ফলে তিনি আর মন খুলে কথা বলতে চান না। এতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে এবং সম্পর্কের দূরত্বও বেড়ে যায়।

কোনো বাজে শব্দ ব্যবহার না করা
দাম্পত্যে ঝগড়া বা মতবিরোধ স্বাভাবিক, তবে সময়মতো রাগ বা হতাশার প্রকাশ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই সময় সংযত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝগড়ার সময় কোনো বাজে শব্দ বা আক্রমণাত্মক কথা ব্যবহার করবেন না, বরং শান্ত মন রেখে সংযত ভাষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ, মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে

আরও পড়ুন:
যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়
ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাচ্ছে বন্ধুরা, যা করতে পারেন 

এসএকেওয়াই/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow