‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে লেবাননের যোদ্ধারা নিরস্ত্র হবে না’

ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা ওয়াফিক সাফা জানিয়েছেন, তাদের সংগঠন কখনোই কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্র হবে না। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবানন সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা একটি মৌলিক শর্ত হবে। তবে নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে সাফা বলেন, একটি প্রকৃত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত, লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এবং বন্দিদের মুক্তি, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে নেওয়া বিবিসির এই সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহ এবং তাদের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ইরানের মধ্যে সমন্বয়ের একটি বিরল চিত্র উঠে আসে। সাফা বলেন, হিজবুল্লাহ এবং ইরান একই দেহের দুটি আত্মা। ইরান ছাড়া হিজবুল্লাহ নেই, আর হিজবুল্লাহ ছাড়া ইরানও নেই। তিনি এই সম্পর্ককে ধর্মীয়, আইনি এবং আদর্শিক বলে বর্ণনা করেন। হিজবুল্লাহ একটি শিয়া মু

‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে লেবাননের যোদ্ধারা নিরস্ত্র হবে না’
ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা ওয়াফিক সাফা জানিয়েছেন, তাদের সংগঠন কখনোই কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্র হবে না। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবানন সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা একটি মৌলিক শর্ত হবে। তবে নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে সাফা বলেন, একটি প্রকৃত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত, লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এবং বন্দিদের মুক্তি, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে নেওয়া বিবিসির এই সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহ এবং তাদের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ইরানের মধ্যে সমন্বয়ের একটি বিরল চিত্র উঠে আসে। সাফা বলেন, হিজবুল্লাহ এবং ইরান একই দেহের দুটি আত্মা। ইরান ছাড়া হিজবুল্লাহ নেই, আর হিজবুল্লাহ ছাড়া ইরানও নেই। তিনি এই সম্পর্ককে ধর্মীয়, আইনি এবং আদর্শিক বলে বর্ণনা করেন। হিজবুল্লাহ একটি শিয়া মুসলিম রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন, যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েলসহ অনেক দেশ এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে হিজবুল্লাহ মার্চের শুরুতে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। তারা জানায়, এটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ এবং নভেম্বর ২০২৪-এ শেষ যুদ্ধের পর থেকে লেবাননে প্রায় প্রতিদিনের ইসরায়েলি হামলার জবাব। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করে। ইসরায়েল জানায়, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। হিজবুল্লাহ লেবাননের স্বার্থ নাকি ইরানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সাফা বলেন, অবশ্যই হিজবুল্লাহ লেবাননের স্বার্থই দেখছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সমর্থন বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি বর্তমান সংঘাতে লেবাননকে সহায়তা করেছে।  তবে অনেক লেবাননবাসী, যাদের সঙ্গে বিবিসি কথা বলেছে, তারা  হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পক্ষে এবং দেশকে সংঘাতে জড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংগঠনটিকেই দায়ী করছে। হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণে অনড় অবস্থান এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর দাবি এই পরিস্থিতিতে বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের বদলে কেবল একটি সাময়িক বিরতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow