‘স্পোর্টিং পিচই’ পছন্দ টাইগারদের, কেমন হবে বাংলাদেশ একাদশ?

একটা সময় পাকিস্তান ছিল বড় আতঙ্ক। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, সাকলায়েন মুশতাক, দানিশ কানেরিয়া, সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেল, ইনজামাম-উল-হক, ইজাজ আহমেদ, সেলিম মালিক আর মইন খানরা বহু ম্যাচে বাংলাদেশকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন। কিন্তু কালের আবর্তে বদলেছে প্রেক্ষাপট। পাকিস্তানের ক্রিকেটের সেই রমরমা দিন আর নেই। এখন আর টিম পাকিস্তানও ভয়ঙ্কর দল নয়। এক সময় যে পাকিস্তানকে হারানো ছিল খুব কঠিন, বরং ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সে অর্থে পারে না। দুই বছর আগে দেশের মাটিতে টাইগারদের কাছে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ‘ধবলধোলাই’ হয়েছে পাকিস্তান। তারপর বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেরেছে। কাজেই পাকিস্তান বধ এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়। দুই দলের শেষ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ একচেটিয়াভাবে পাকিস্তানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে। সেই আলোকে আগামীকাল ৮ মে থেকে শেরে বাংলায় যে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশকে ফেবারিট ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করছেন, টাইগারদের বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে পেস ডিপার্টমেন্

‘স্পোর্টিং পিচই’ পছন্দ টাইগারদের, কেমন হবে বাংলাদেশ একাদশ?

একটা সময় পাকিস্তান ছিল বড় আতঙ্ক। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, সাকলায়েন মুশতাক, দানিশ কানেরিয়া, সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেল, ইনজামাম-উল-হক, ইজাজ আহমেদ, সেলিম মালিক আর মইন খানরা বহু ম্যাচে বাংলাদেশকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন।

কিন্তু কালের আবর্তে বদলেছে প্রেক্ষাপট। পাকিস্তানের ক্রিকেটের সেই রমরমা দিন আর নেই। এখন আর টিম পাকিস্তানও ভয়ঙ্কর দল নয়। এক সময় যে পাকিস্তানকে হারানো ছিল খুব কঠিন, বরং ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সে অর্থে পারে না।

দুই বছর আগে দেশের মাটিতে টাইগারদের কাছে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ‘ধবলধোলাই’ হয়েছে পাকিস্তান। তারপর বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেরেছে। কাজেই পাকিস্তান বধ এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়।

দুই দলের শেষ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ একচেটিয়াভাবে পাকিস্তানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে। সেই আলোকে আগামীকাল ৮ মে থেকে শেরে বাংলায় যে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশকে ফেবারিট ধরা হচ্ছে।

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করছেন, টাইগারদের বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে পেস ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তানের চেয়ে সমৃদ্ধ।

টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের খেলা। বেশির ভাগ ক্রিকেট অনুরাগীর চোখ স্থির হয়ে থাকে প্রিয় দলের ব্যাটারদের দিকে। তবে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, টেস্ট জিততে সবার আগে দরকার প্রতিপক্ষকে দুইবার অলআউট করা। বিপক্ষের ২০ উইকেটের পতন ঘটানোই হলো টেস্ট জয়ের প্রথম শর্ত।

এখন শেরে বাংলায় টাইগারদের জিততে হলে বোলিং কার্যকারিতা খুব দরকার। আর তাই স্বাগতিকদের পেস আক্রমণটাকে যতটা সম্ভব ধারালো করার কথা ভাবা হচ্ছে। জিততে হলে শান মাসুদের দলকে দুইবার অলআউট করতে হবে। সেই চিন্তায় শেরে বাংলায় একটি স্পোর্টিং পিচে খেলা আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে।

গত কদিন বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের অনুশীলনের সময় হোম অব ক্রিকেটের উইকেটের যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে মনে হয়েছে পিচ ঘন ঘাসে আচ্ছাদিত। তবে সেটা শুক্রবার সকালে টেস্ট শুরুর আগে থাকবে কি না, সেটাই দেখার।

ঘাস ছেঁটে ফেললেও উইকেট স্পোর্টিং হবে, এমনটাই ভাবা হচ্ছে। কেন স্পোর্টিং পিচে খেলার চিন্তা? কারণ খুব সহজ। দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডির স্পোর্টিং পিচে পাকিস্তান পারেনি বাংলাদেশের টিম পারফরম্যান্সের কাছে। প্রথম টেস্টে ১০ উইকেট আর শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তান।

স্পোর্টিং পিচে টাইগারদের কম্বিনেশন কী হতে পারে? কজন ব্যাটার, কজন পেসার আর স্পিনার খেলানো হবে যুক্তিযুক্ত? তা নিয়েই রাজ্যের কথাবার্তা ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে।

যতদূর জানা গেছে, উইকেটের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট ৩ পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন, কোন ৩ পেসার খেলানো হবে?

ধরেই নেওয়া যায়, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে বাঁহাতি শরিফুল ইসলামকে দিয়েই সাজানো হবে টিম বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্ট। সঙ্গে ২ স্পিনার- অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম।

সঙ্গে ৬ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার- সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। সবশেষ টেস্ট সিরিজে ওপরের ওই ৬ জনের মধ্যে মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাসের ব্যাট থেকে এসেছিল ‘বিগ হান্ড্রেড’। সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ ৭ নম্বরে নেমে দুই টেস্টেই একবার করে ৭০+ ইনিংস খেলে দলের সাফল্যে অবদান রেখেছেন।

এ ছাড়া সাদমান, মুমিনুল আর লিটন দাসও রান পেয়েছেন। কাজেই এবারও তাদের কাছ থেকেই দল বড়সড় ইনিংসের আশায়। শেরে বাংলায় মিরাজ-তাইজুল জুটির সাফল্য অনেক। খেলার আয়ুষ্কাল যত বাড়বে, উইকেট ততই তাইজুল-মিরাজের দিকে ঝুঁকবে। কিন্তু তার আগের প্রথম কাজটা করতে হবে ব্যাটার ও পেসারদের।

আগে ব্যাট করলে একটি সম্মানজনক পুঁজি গড়ার কাজটা করতে হবে ব্যাটারদের। আর পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করলেও তাদের শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার কাজটিও করতে হবে ৩ পেসারকে। এখন কাদের দায়িত্ব ও কাজ প্রথমে করতে হয়, তারা কীভাবে তা সামলান, সেটাই দেখার।

এআরবি/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow