স্বামী পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ কুমিল্লায়

কুমিল্লায় স্বামী সাব্বির মিয়ার পরকীয়ার জের ধরে এক পুত্র সন্তানের জননী কুরসিয়া আক্তারকে (২৪) হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের (দক্ষিণ) নছরুদ্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (১১ এপ্রিল) নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।নিহত কুরসিয়া আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গহুরদি উচিতপুর গ্রামের সাদেকুর রহমানের ছোট মেয়ে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে দাউদকান্দি উপজেলার (দক্ষিণ) নছরুদ্দি গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কুরসিয়া। সাব্বির মিয়া একটি মসজিদে চাকরি করতেন। বিয়ের সময় মেয়েকে সুখে রাখার আশায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই পারিবারিক কলহ শুরু হয়। সমাধানের জন্য মেয়ের বড়ভাই কবির হোসেন পরবর্তীতে আরও টাকা দেন।শুক্রবার রাতে সাব্বিরের বড়ভাই সৌদি আরব প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রা

স্বামী পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ কুমিল্লায়

কুমিল্লায় স্বামী সাব্বির মিয়ার পরকীয়ার জের ধরে এক পুত্র সন্তানের জননী কুরসিয়া আক্তারকে (২৪) হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের (দক্ষিণ) নছরুদ্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (১১ এপ্রিল) নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কুরসিয়া আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গহুরদি উচিতপুর গ্রামের সাদেকুর রহমানের ছোট মেয়ে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে দাউদকান্দি উপজেলার (দক্ষিণ) নছরুদ্দি গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কুরসিয়া। সাব্বির মিয়া একটি মসজিদে চাকরি করতেন। বিয়ের সময় মেয়েকে সুখে রাখার আশায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই পারিবারিক কলহ শুরু হয়। সমাধানের জন্য মেয়ের বড়ভাই কবির হোসেন পরবর্তীতে আরও টাকা দেন।

শুক্রবার রাতে সাব্বিরের বড়ভাই সৌদি আরব প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রাতে ঘর থেকে বেরিয়ে যান কুরসিয়া। এসময় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে খুঁজতে বের হন সাব্বির এবং হত্যার হুমকি দেন। পরে রাত একটার দিকে কুরসিয়ার শ্বশুর আব্দুল মান্নান মোবাইল ফোনে মেয়ের বাবাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার কথা জানান। খবর পেয়ে মৃতের বাবার বাড়ির লোকজন নিয়ে রাতেই দাউদকান্দি এসে মডেল থানা পুলিশকে জানালে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। ঘটনার পর থেকেই সাব্বির ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের সংসারে সাফায়াত নামে তিন বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে।

মৃতের বড়ভাই কবির হোসেন ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, "রবিবার আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ের দিন ছিল। আমার একমাত্র ছোট বোন সেই বিয়েতে আমাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। বোনের জামাই সাব্বিরের সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করত। শুক্রবার রাতেও ঝগড়া করে ওকে মারধর করেছে। পরে আমার বোনকে হত্যা করে ফাঁসি দিয়েছে বলে প্রচার করেছে। আমরা বোনের হত্যার বিচার চাই।"

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম বলেন, "শনিবার সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow